
ছাড়, ভ্যাট, লাভ, সুদ, পরীক্ষার নম্বর: সব জায়গায় শতাংশ আসে, অথচ হিসাবের সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়েন কোন সংখ্যা কাকে দিয়ে ভাগ বা গুণ করতে হবে। শতকরা হিসাবের টুল সংখ্যা বসালেই ফল দেয়। তবে সূত্র জানা থাকলে ফল ঠিক এসেছে কি না নিজেই বোঝা যায়, আর টুল হাতের কাছে না থাকলেও কাজ চলে। এই লেখায় তিনটি মূল সূত্রই দেখানো হয়েছে।
শতাংশ আসলে কী
শতাংশ মানে প্রতি ১০০-তে কত। ১৮% মানে প্রতি ১০০-তে ১৮, অর্থাৎ ১৮ ÷ ১০০ = ০.১৮। মোট সবসময় ১০০%, আর অর্ধেক মানে ৫০%। হিসাব করার সময় শতাংশকে ১০০ দিয়ে ভাগ করে দশমিক বানিয়ে নিলে বেশির ভাগ ভুল এড়ানো যায়।
প্রশ্ন ১: কোনো সংখ্যার X% কত
এটি সবচেয়ে বেশি লাগে। সূত্র: সংখ্যা × X ÷ ১০০।

- ২,৫০০ টাকার ১৮% = ২,৫০০ × ১৮ ÷ ১০০ = ৪৫০ টাকা।
- ৩,৫০০ টাকার ১২% = ৩,৫০০ × ১২ ÷ ১০০ = ৪২০ টাকা।
- ৪,০০০ টাকার ৭% = ৪,০০০ × ৭ ÷ ১০০ = ২৮০ টাকা।
প্রশ্ন ২: এক সংখ্যা অন্যটির কত শতাংশ
পরীক্ষার নম্বর বা লক্ষ্যের কতটা পূরণ হলো, এসব বের করতে এই হিসাব লাগে। সূত্র: অংশ ÷ মোট × ১০০।
- ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৭২ পেলে ৭২ ÷ ১২০ × ১০০ = ৬০%।
- ২,৫০০ টাকার মধ্যে ৪৫০ টাকা হলো ৪৫০ ÷ ২,৫০০ × ১০০ = ১৮%।
এখানে “মোট” বলতে সেই সংখ্যা বোঝায় যার সঙ্গে তুলনা করছেন, অর্থাৎ “-এর মধ্যে” বা “-এর তুলনায়” কথার পরের সংখ্যাটি। এই সংখ্যাটি ভাগের নিচে বসবে।
প্রশ্ন ৩: শতাংশ থেকে মোট সংখ্যা
অংশ ও তার শতাংশ জানা আছে, মোট জানা নেই। সূত্র: অংশ ÷ X × ১০০।
উদাহরণ: কোনো সংখ্যার ১৫% হলো ৯০। তাহলে সংখ্যাটি ৯০ ÷ ১৫ × ১০০ = ৬০০। যাচাই করতে ৬০০-র ১৫% বের করুন: ৬০০ × ১৫ ÷ ১০০ = ৯০, মিলে গেল।
মনে মনে হিসাবের শর্টকাট
১০% বের করা সবচেয়ে সহজ, কারণ সংখ্যাকে শুধু ১০ দিয়ে ভাগ করতে হয়। বাকি শতাংশ এর থেকেই আসে।

৮৪০ টাকার ১৫% চাইলে ১০% (৮৪) আর ৫% (৪২) যোগ করুন, ফল ১২৬। ২৫% মানে এক-চতুর্থাংশ, তাই ৪ দিয়ে ভাগ। ৫০% মানে অর্ধেক। ২০% চাইলে ১০% বের করে দ্বিগুণ করুন।
তিনটি সাধারণ ভুল
- শতাংশকে ১০০ দিয়ে ভাগ না করা। ২,৫০০-র ১৮% বের করতে ২,৫০০ × ১৮ করলে ফল ১০০ গুণ বড় আসে।
- ভুল সংখ্যাকে ভিত্তি ধরা। ৪৫০ কি ২,৫০০-র ১৮%, নাকি ২,৫০০ কি ৪৫০-এর কত শতাংশ, তা প্রশ্ন পড়ে ঠিক করুন। উল্টো করলে ফল পুরো আলাদা হয়।
- যোগ-বিয়োগের সময় ভুল সংখ্যায় শতাংশ ধরা। ভ্যাটসহ ১,১৫০ টাকা থেকে ১৫% বিয়োগ করলে ৯৭৭.৫০ আসে। ঠিক উত্তর ১,১৫০ ÷ ১.১৫ = ১,০০০ টাকা। কারণ ১৫% ধরা হয় ভ্যাট ছাড়া মূল দামের ওপর। এ নিয়ে বিস্তারিত আছে ভ্যাট যোগ ও বাদ দেওয়ার গাইডে।
টুল দিয়ে মিলিয়ে নেওয়া
হিসাব হাতে করে ফেলার পর টুলে একই সংখ্যা বসিয়ে ফল মিলিয়ে নিন। টুলে আপনার প্রশ্নের ধরন বেছে নেওয়াটাই আসল কাজ, ওপরের তিন প্রশ্নের কোনটি আপনার, তা আগে ঠিক করে নিন। দুই ফল না মিললে প্রায় সবসময় কারণ হয় ভুল সংখ্যাটি মোট হিসেবে বসানো।
কোথায় কাজে লাগে
- দোকানে ছাড়ের পর দাম: ছাড়ের হিসাবের গাইড
- ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি: লাভ-ক্ষতির শতকরা গাইড
- দাম বা বেতন বাড়া-কমা: বৃদ্ধি ও হ্রাসের শতাংশ
- নম্বর ও উপস্থিতি: নম্বর ও উপস্থিতির শতকরা হিসাব
- অঙ্ক কথায় লিখতে: টাকা কথায় লেখার টুল
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: এখানে দেওয়া সব উদাহরণ সরল সংখ্যায়, বাস্তব হিসাবে দশমিক ও রাউন্ডিং আসতে পারে। কর, সুদ বা ব্যাংকের হিসাবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম থাকলে সেটিই চূড়ান্ত। হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
শতাংশ কীভাবে বের করব?
অংশকে মোট দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। যেমন ১২০-র মধ্যে ৭২ হলে ৭২ ÷ ১২০ × ১০০ = ৬০%।
একটি সংখ্যার ১৫% কীভাবে বের করব?
সংখ্যাকে ১৫ দিয়ে গুণ করে ১০০ দিয়ে ভাগ করুন, অথবা ০.১৫ দিয়ে গুণ করুন। মনে মনে করতে চাইলে ১০% ও ৫% যোগ করুন।
শতাংশ কি ১০০-র বেশি হতে পারে?
হ্যাঁ। কোনো কিছু আগের চেয়ে দ্বিগুণ হলে সেটি আগের ২০০%। তবে “মোটের অংশ” বোঝাতে শতাংশ সাধারণত ১০০ পর্যন্ত থাকে।
