৫০ ইউনিট বনাম ৫১ ইউনিট: বিদ্যুৎ বিলের ধাপ যেভাবে বিল লাফিয়ে বাড়ায়

৫০ ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল ২৮৭.১৮ টাকা আর ৫১ ইউনিটে ৩২৫.৭৭ টাকা

দুই মাসের বিল পাশাপাশি রাখলে অনেকে অবাক হন। একমাসে ৫০ ইউনিট খরচ, বিল ২৮৭ টাকা। পরের মাসে মাত্র একটি ইউনিট বেশি, বিল ৩২৫ টাকা। এক ইউনিটের জন্য ৩৮ টাকার বেশি বাড়ল কেন? উত্তর আছে আবাসিক হারের লাইফলাইন নিয়মে। বিদ্যুৎ বিল ক্যালকুলেটরে ৫০ আর ৫১ বসিয়ে নিজেই দেখে নিতে পারেন। এই লেখায় কারণটা হিসাব করে দেখানো হয়েছে।

ধাপগুলো কেমন

আবাসিক বিদ্যুতের ধাপভিত্তিক হার: ৪.৬৩, ৫.২৬, ৮.৫০, ৯.১০, ৯.৬২, ১৫.০১ ও ১৭.৩৫ টাকা
ইউনিটের হারের ধাপ (ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ ছাড়া)।

আবাসিক গ্রাহকের ইউনিট-হার জুন ২০২৬ বিল-মাস থেকে এমন: লাইফলাইন ৪.৬৩, প্রথম ধাপ (০–৭৫) ৫.২৬, দ্বিতীয় (৭৬–২০০) ৮.৫০, তৃতীয় (২০১–৩০০) ৯.১০, চতুর্থ (৩০১–৪০০) ৯.৬২, পঞ্চম (৪০১–৬০০) ১৫.০১ এবং ৬০০-এর ওপরে ১৭.৩৫ টাকা। পুরো বিল কীভাবে দাঁড়ায় তা আগে দেখতে চাইলে পড়ুন বিদ্যুৎ বিল কীভাবে হিসাব হয়।

লাইফলাইনের নিয়ম আসলে কী

লাইফলাইন কোনো আলাদা ধাপ নয় যার পর আরেকটি ধাপ শুরু হয়। এটি একটি সুবিধা, যা শুধু তাঁদের জন্য যাঁদের মাসের মোট ব্যবহার ৫০ বা কম। নিয়মটি দুই বাক্যে:

  • মাসে ৫০ বা কম ইউনিট হলে সব ইউনিট ৪.৬৩ হারে।
  • ৫১ বা তার বেশি হলে লাইফলাইন বাদ; হিসাব শুরু হয় প্রথম ধাপ (০–৭৫) থেকে, অর্থাৎ প্রথম ৭৫ ইউনিট ৫.২৬ হারে।

তাই ৫১ ইউনিটে প্রথম ৫০ ইউনিটও আর ৪.৬৩ থাকে না, সবগুলোর হার ৫.২৬ হয়ে যায়। এখানেই লাফ।

৫০ ও ৫১ ইউনিটের হিসাব পাশাপাশি

৫০ ও ৫১ ইউনিটের বিলের তুলনা: মোট ২৮৭.১৮ ও ৩২৫.৭৭ টাকা
১ কিলোওয়াট লোড ধরে ৫০ ও ৫১ ইউনিটের বিল।

১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ০ ধরে:

অংশ৫০ ইউনিট৫১ ইউনিট
ইউনিটের দাম৫০ × ৪.৬৩ = ২৩১.৫০৫১ × ৫.২৬ = ২৬৮.২৬
ডিমান্ড চার্জ (১ কিলোওয়াট)৪২.০০৪২.০০
ভ্যাট ৫%১৩.৬৮১৫.৫১
মোট বিল২৮৭.১৮৩২৫.৭৭

ইউনিটের দামে তফাত ৩৬.৭৬ টাকা, যার মধ্যে ৫০ ইউনিটের হার বদলের জন্য ৫০ × (৫.২৬ − ৪.৬৩) = ৩১.৫০ আর বাড়তি এক ইউনিটের দাম ৫.২৬। এর ওপর ৫% ভ্যাট যোগ হয়ে মোট ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৩৮.৬০ টাকা। অর্থাৎ ওই একটি ইউনিট কার্যত প্রায় ৩৯ টাকা টেনে আনল।

অন্য ধাপের সীমায় কি এমন লাফ হয়

না। লাফ শুধু ৫০ থেকে ৫১-এর সীমায়। বাকি ধাপগুলোয় প্রতিটি ধাপের হার শুধু ওই ধাপের ইউনিটের ওপর খাটে, আগের ইউনিটগুলোর হার বদলায় না। তাই সীমা পেরোলে বিল বাড়ে কেবল বাড়তি ইউনিটের হারে। ১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ০ ধরে কয়েকটি সীমার বিল:

ইউনিটমোট বিল (টাকা)
৭৫৪৫৮.৩৩
৭৬৪৬৭.২৫
২০০১,৫৭৩.৯৫
৩০০২,৫২৯.৪৫
৪০০৩,৫৩৯.৫৫
৪০১৩,৫৫৫.৩১
৬০০৬,৬৯১.৬৫

৭৫ থেকে ৭৬ ইউনিটে বিল বাড়ল মাত্র ৮.৯২ টাকা, আর ৪০০ থেকে ৪০১ ইউনিটে ১৫.৭৬ টাকা। ৪০১ ইউনিটের পর প্রতি ইউনিটের খরচ বেশি, কিন্তু আগের ইউনিটের দাম আর বদলায় না। এই বাড়তি খরচ কতটা, তা পাবেন বিদ্যুৎ বিল কমানোর হিসাব গাইডে।

৫০-এর কাছাকাছি হলে কী মাথায় রাখবেন

মাসের ব্যবহার ৫০-এর কাছাকাছি থাকলে প্রতিটি ইউনিটের হিসাব রাখার সুযোগ আছে। ৫০ ইউনিটে থামলে বিল প্রায় ২৮৭ টাকা। ৫৫ ইউনিটে গেলে ইউনিটের দাম ৫৫ × ৫.২৬ = ২৮৯.৩০, আর ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাটসহ মোট বিল ৩৪৭.৮৭ টাকা। মিটারে মাসের শেষ দিনের রিডিং দেখে নিলে বোঝা যায় আপনি কোন পাশে আছেন। তবে লাইফলাইনের জন্য ব্যবহার কমাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ আটকানো ঠিক নয়; এটি শুধু হিসাব বোঝার জন্য।

টুলে নিজে দেখুন

  1. ইউনিটের ঘরে ৫০ বসিয়ে মোট বিল দেখুন।
  2. এবার ৫১ বসান। ধাপের টেবিলে দেখবেন হিসাব ০–৭৫ থেকে শুরু হয়েছে।
  3. ডিমান্ড চার্জ আর ভ্যাটের ঘর দুই ক্ষেত্রেই মিলিয়ে নিন।

৫১ থেকে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে বিল

লাফটা এক ইউনিটে ঘটে, তারপর বিল সহজ হিসাবে বাড়ে। ১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ০ ধরে:

ইউনিটমোট বিল (টাকা)
৫১৩২৫.৭৭
৫২৩৩১.৩০
৬০৩৭৫.৪৮
৭০৪৩০.৭১
৭৫৪৫৮.৩৩

৫১ থেকে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে প্রতি বাড়তি ইউনিটে বিল বাড়ে প্রায় ৫.৫২ টাকা (৫.২৬ × ১.০৫)। তাই ৫১ ইউনিটে ঢোকার ধাক্কাটাই বড়, তারপর ৭৫ পর্যন্ত বাড়ার হার ছোট।

একটি ভুল ধারণা

অনেকে ভাবেন প্রথম ৫০ ইউনিট সবসময় সস্তা হারে পাওয়া যায়, তারপরের ইউনিট থেকে বেশি হার শুরু। এই ধারণা এখানে খাটে না। লাইফলাইন নামেই বোঝা যায় এটি অল্প ব্যবহারকারীর জন্য একটি সুবিধা, আর সুবিধাটি পাওয়া যায় শুধু মাসের মোট ব্যবহার ৫০ বা কমে থাকলে। সীমা পেরোলে এই সুবিধা পুরোটাই বাদ যায়, আংশিক নয়। ট্যারিফ আদেশের মূল ভাষা এই লেখায় সরাসরি মেলানো হয়নি; টুল ও এই লেখা সংবাদ ও বিতরণ কোম্পানির প্রকাশিত বর্ণনা অনুসারে হিসাব করেছে। আপনার বিলের সঙ্গে ৫০ ও ৫১ ইউনিটের ক্ষেত্রে মিলিয়ে নিলে নিশ্চিত হতে পারবেন।

মাসের মাঝে আন্দাজ করার উপায়

৫০-এর সীমার কাছাকাছি থাকলে মাসের শেষে চমক এড়াতে মাঝপথে একবার মিটার দেখে নিন। এক তারিখের রিডিং লিখে রাখুন, পনেরো দিন পর আবার দেখুন। ধরুন ১৫ দিনে ২৮ ইউনিট গেছে। দিনে গড় ২৮ ÷ ১৫ ≈ ১.৮৭ ইউনিট, আর ৩০ দিনে প্রায় ৫৬ ইউনিট, অর্থাৎ ৫০ পেরিয়ে যাবে। এই আন্দাজ পেলে বাকি দিনের ব্যবহার বদলে ৫০-এর নিচে থাকা যায় কি না, নিজেই ঠিক করতে পারবেন। তবে আন্দাজ নিখুঁত নয়; অতিথি এলে বা আবহাওয়া বদলালে ব্যবহার বদলে যায়।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: হারগুলো জুন ২০২৬ বিল-মাস থেকে কার্যকর বিইআরসির মূল্যহার অনুযায়ী, সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে ধরা। বিইআরসি ৪ জুন ২০২৬ লাইফলাইন (৪.৬৩) ও প্রথম ধাপের (৫.২৬) বাড়ানো দাম ফিরিয়ে নিয়েছে, এই লেখায় সেই ফেরানো হারই ব্যবহার হয়েছে। হার আবার বদলালে সংখ্যাগুলো বদলাবে। এখানকার সব বিল ১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ০ ধরে। আপনার বিলে ছাপা অঙ্কই চূড়ান্ত। হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

৫১ ইউনিটে বিল হঠাৎ এত বাড়ে কেন?

লাইফলাইন (৪.৬৩ হার) শুধু ৫০ বা কম ইউনিটের জন্য। ৫১ হলে সব ইউনিট প্রথম ধাপের ৫.২৬ হারে গোনা হয়, তাই প্রথম ৫০ ইউনিটের দামও বাড়ে।

৭৫ ইউনিটের পর কি আবার এমন লাফ আছে?

না। ৭৬ থেকে প্রতিটি বাড়তি ইউনিট শুধু নিজের ধাপের হারে যোগ হয়। আগের ইউনিটের হার বদলায় না।

লাইফলাইনে ডিমান্ড চার্জ আর ভ্যাট কি আলাদা?

না। লাইফলাইনেও ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া যোগ হয় এবং তিনটির যোগফলের ওপর ৫% ভ্যাট বসে।