
হালনাগাদ নোট: এই লেখার কিছু হার এখনো মূল সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়নি (বিদ্যুৎ: আবাসিক ডিমান্ড চার্জ (কিলোওয়াট, মাসে); বিদ্যুৎ বিলের ভ্যাট (ইউনিট, ডিমান্ড ও মিটার ভাড়ার যোগফলের ওপর))। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে দেখে নিন।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রশ্ন সাধারণত পাঁচটি: বিলটা কীভাবে তৈরি হয়, ৫০ থেকে ৫১ ইউনিটে বিল হঠাৎ কেন লাফায়, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কী, নিজের বিল টুলের সঙ্গে না মিললে কী দেখব, আর এক ইউনিট বাঁচালে কত টাকা বাঁচে। বিদ্যুৎ বিল ক্যালকুলেটরে ইউনিট, লোড ও মিটার ভাড়া বসালেই ফল দেখা যায়। এই লেখায় পাঁচ প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় রাখা হলো, প্রতিটির বিস্তারিত গাইডের লিংকসহ।

এখানে আবাসিক (এলটি-এ) পোস্টপেইড মিটারের বিল ধরা হয়েছে। সব বিল ১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ০ ধরে, যেখানে অন্য কিছু বলা নেই। অঙ্কগুলো টুলের কোড চালিয়ে বের করা।
১. বিলের চার অংশ
| অংশ | কীসের ওপর নির্ভর করে | ২৫০ ইউনিটে (১ কিলোওয়াট) |
|---|---|---|
| ইউনিটের দাম | মাসের ইউনিট ও ধাপ | ১,৯১২.০০ |
| ডিমান্ড চার্জ | অনুমোদিত লোড (প্রতি কিলোওয়াটে ৪২) | ৪২.০০ |
| মিটার ভাড়া | বিলে ছাপা অঙ্ক | ০.০০ |
| ভ্যাট ৫% | উপরের তিনটির যোগফল ১,৯৫৪.০০ | ৯৭.৭০ |
| মোট বিল | ২,০৫১.৭০ |
সূত্র: মোট = (ইউনিটের দাম + ডিমান্ড চার্জ + মিটার ভাড়া) × ১.০৫। ইউনিটের দাম ধাপে ধাপে হয়: ৭৫ × ৫.২৬ = ৩৯৪.৫০, পরের ১২৫ × ৮.৫০ = ১,০৬২.৫০, বাকি ৫০ × ৯.১০ = ৪৫৫.০০। ২৫০-কে সরাসরি ৯.১০ দিয়ে গুণ করলে ২,২৭৫ হয়, যা ভুল, কারণ প্রতিটি ধাপের হার শুধু ওই ধাপের ইউনিটে খাটে। পুরো ব্যাখ্যা বিদ্যুৎ বিল কীভাবে হিসাব হয় গাইডে।
২. ধাপের সীমা ও ৫০-এর লাফ
জুন ২০২৬ বিল-মাস থেকে আবাসিক হার:
| ধাপ (ইউনিট) | প্রতি ইউনিট (টাকা) |
|---|---|
| লাইফলাইন ০–৫০ (শুধু ৫০ বা কম হলে) | ৪.৬৩ |
| ০–৭৫ | ৫.২৬ |
| ৭৬–২০০ | ৮.৫০ |
| ২০১–৩০০ | ৯.১০ |
| ৩০১–৪০০ | ৯.৬২ |
| ৪০১–৬০০ | ১৫.০১ |
| ৬০০-এর ওপরে | ১৭.৩৫ |

লাইফলাইন আলাদা ধাপ নয়, একটি সুবিধা: মাসে ৫০ বা কম ইউনিট হলে সব ইউনিট ৪.৬৩ হারে। ৫১ হলে সুবিধা পুরো বাদ, সব ইউনিট ০–৭৫ ধাপের ৫.২৬ হারে গোনা হয়। তাই ৫০ ইউনিটে বিল প্রায় ২৮৭ টাকা, ৫১ ইউনিটে প্রায় ৩২৬ টাকা; এক ইউনিটে ফারাক প্রায় ৩৮.৬০ টাকা। অন্য সীমায় এমন লাফ নেই; সেখানে শুধু বাড়তি ইউনিটের হার বদলায়:
| ইউনিট | মোট বিল (টাকা) |
|---|---|
| ১০০ | ৬৮১.৪৫ |
| ২০০ | ১,৫৭৩.৯৫ |
| ৩০০ | ২,৫২৯.৪৫ |
| ৪০০ | ৩,৫৩৯.৫৫ |
| ৪০১ | ৩,৫৫৫.৩১ |
| ৬০০ | ৬,৬৯১.৬৫ |
৪০০ থেকে ৪০১-এ বিল বাড়ে ১৫.৭৬ টাকা, ৫০ থেকে ৫১-এর মতো ৩৮ টাকা নয়। বিস্তারিত ৫০ ইউনিট বনাম ৫১ ইউনিট গাইডে।
৩. ডিমান্ড চার্জ, লোড ও মিটার ভাড়া
ডিমান্ড চার্জ = অনুমোদিত লোড (কিলোওয়াট) × ৪২; এটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করে না। ১০০ ইউনিটে লোড ১ কিলোওয়াট হলে বিল ৬৮১.৪৫, ৩ কিলোওয়াট লেখা থাকলে ৭৬৯.৬৫, অর্থাৎ ব্যবহার একই থেকেও ৮৮.২০ টাকা বেশি। প্রতি কিলোওয়াটে ভ্যাটসহ ৪২ × ১.০৫ = ৪৪.১০ টাকা, বছরে ৫২৯.২০। মিটার ভাড়া বিলে যা লেখা তা-ই; ১০ টাকা ভাড়া মোট বিল বাড়ায় ১০.৫০, কারণ ভ্যাটও এর ওপর বসে। কিলোওয়াট (ক্ষমতা) আর ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) এক জিনিস নয়, তাই দুটি আলাদা ঘরে বসে। বিস্তারিত ডিমান্ড চার্জ, লোড ও মিটার ভাড়া গাইডে।
৪. নিজের বিল টুলের সঙ্গে মেলানো
বিল থেকে চারটি তথ্য নিন: ইউনিট, অনুমোদিত লোড, মিটার ভাড়া ও বিলের মাস। টুলে বসিয়ে ফল মেলান। না মিললে বিলের মোট থেকে টুলের মোট বাদ দিয়ে ১.০৫ দিয়ে ভাগ করুন। উদাহরণ (কাল্পনিক বিল): ১৫০ ইউনিট, লোড ২ কিলোওয়াট, মিটার ভাড়া ১০, বিলে মোট ১,১৮২.৩০। টুলে ডিফল্ট লোড ১ ও ভাড়া ০ রাখলে ফল ১,১২৭.৭০। ফারাক ৫৪.৬০; ৫৪.৬০ ÷ ১.০৫ = ৫২। ৫২ = ৪২ (এক কিলোওয়াট লোড বেশি) + ১০ (মিটার ভাড়া)। লোড ২ ও ভাড়া ১০ বসালে টুলের ফলও ১,১৮২.৩০ হয়ে মেলে।
এর পরও না মিললে সম্ভাব্য কারণ: বকেয়া বা বিলম্ব মাশুল, আগের মাসের সমন্বয়, বাণিজ্যিক বা অন্য শ্রেণির সংযোগ, প্রিপেইড মিটার, কিংবা হার বদলের আগের মাসের বিল। বিস্তারিত নিজের বিল টুলের সঙ্গে মেলানোর উপায় গাইডে।
৫. এক ইউনিট বাঁচালে কত টাকা বাঁচে
কমানো ইউনিট আপনার বিল যে ধাপে শেষ হয় সেই ধাপের হারে কমে; ভ্যাটসহ খরচ = হার × ১.০৫। ২০ ইউনিট কমালে (বিল ওই ধাপের ভেতরেই থাকলে):
| বিল যে ধাপে শেষ | ভ্যাটসহ প্রতি ইউনিট (প্রায়) | ২০ ইউনিটে সাশ্রয় |
|---|---|---|
| ০–৭৫ | ৫.৫২ | ১১০.৪৬ |
| ৭৬–২০০ | ৮.৯৩ | ১৭৮.৫০ |
| ২০১–৩০০ | ৯.৫৬ | ১৯১.১০ |
| ৩০১–৪০০ | ১০.১০ | ২০২.০২ |
| ৪০১–৬০০ | ১৫.৭৬ | ৩১৫.২১ |
| ৬০০-এর ওপরে | ১৮.২২ | ৩৬৪.৩৫ |
একই অভ্যাস বদলালেও ধাপভেদে সাশ্রয়ে তফাত বড়। মাসের ইউনিট আন্দাজ করার সূত্র: ওয়াট × দিনে চলার ঘণ্টা × ৩০ ÷ ১,০০০। যেমন ৭৫ ওয়াটের একটি ফ্যান দিনে ১০ ঘণ্টা চললে ৭৫ × ১০ × ৩০ ÷ ১,০০০ = ২২.৫ ইউনিট (কাল্পনিক উদাহরণ; নিজের যন্ত্রের লেবেল দেখুন)। ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া ব্যবহার কমালে কমে না। বিস্তারিত বিদ্যুৎ বিল কমানোর হিসাব গাইডে। প্রয়োজনীয় কাজ আটকে বিল কমানো ঠিক নয়; এটি শুধু হিসাব বোঝার জন্য।
কোন প্রশ্নে কোন গাইড
| আপনার প্রশ্ন | পড়ুন |
|---|---|
| বিলটা কীভাবে তৈরি হয় | বিদ্যুৎ বিল কীভাবে হিসাব হয় |
| ৫০ ইউনিটের পর বিল লাফায় কেন | ৫০ ইউনিট বনাম ৫১ ইউনিট |
| ডিমান্ড চার্জ, লোড, মিটার ভাড়া | ডিমান্ড চার্জ, লোড ও মিটার ভাড়া |
| বিল টুলের সঙ্গে মেলে না | নিজের বিল মেলানোর উপায় |
| কোন ধাপে কমালে কত বাঁচে | বিদ্যুৎ বিল কমানোর হিসাব |
| ভ্যাট যোগ-বাদের সাধারণ নিয়ম | ভ্যাট হিসাব |
টুলে মেলানোর চার ধাপ
- ডিফল্ট: বিদ্যুৎ বিল ক্যালকুলেটর খুললে ২৫০ ইউনিট, ১ কিলোওয়াট, ভাড়া ০, ভ্যাট ৫ থাকে। ইউনিটের দাম ১,৯১২.০০ ও মোট ২,০৫১.৭০ আসার কথা।
- ৫০ ও ৫১: ইউনিটে ৫০ দিলে বার্তা আসবে লাইফলাইনে সব ইউনিট ধরা হয়েছে; ৫১ দিলে ধাপের টেবিল ০–৭৫ থেকে শুরু হবে।
- ৪০০ ও ৪০১: ৩,৫৩৯.৫৫ ও ৩,৫৫৫.৩১ আসবে।
- মেলানোর উদাহরণ: ১৫০ ইউনিট, লোড ২, ভাড়া ১০ দিলে ১,১৮২.৩০ আসার কথা।
টুল কত দশমিক দেখায় ও পয়সার গোল কীভাবে হয়, তা আমরা আসল ব্রাউজারে দেখিনি; এক-দুই পয়সার ফারাক হলে তা গোল করার তফাত হতে পারে।
বিলে যা মিলিয়ে নেবেন
- বিলের মাস: জুন ২০২৬-এর আগের মাসের বিলে পুরোনো হার ছিল।
- ইউনিট: বর্তমান রিডিং থেকে আগের রিডিং বাদ দিয়ে মিটারের সঙ্গে মেলান।
- লোড ও মিটার ভাড়া বিলের আসল অঙ্ক বসান।
- বকেয়া ও বিলম্ব মাশুল বাদ দিয়ে শুধু চলতি মাসের অংশ তুলনা করুন।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: হারগুলো বিইআরসির ৩ জুন ২০২৬-এর আদেশ ও ৪ জুনের সংশোধনের (লাইফলাইন ৪.৬৩ ও প্রথম ধাপ ৫.২৬ আগের মতো) সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে ধরা; বিইআরসির মূল প্রজ্ঞাপন আমরা খুলে দেখিনি। ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ খুঁজে এরপর হার বদলের খবর পাইনি, তবু নতুন বিল পেলে হার মিলিয়ে নিন। ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা ও ভ্যাট ৫% মূল নথিতে মেলানো হয়নি; একটি প্রকাশিত বিল ও বিতরণ কোম্পানির ট্যারিফ পাতার সঙ্গে মিলিয়ে ধরা। বাণিজ্যিক, শিল্প ও সেচ সংযোগ, বকেয়া, বিলম্ব মাশুল, সমন্বয় ও প্রিপেইড মিটার এখানে ধরা হয়নি। আপনার বিলে ছাপা অঙ্কই চূড়ান্ত। হালনাগাদ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
২৫০ ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল কত আসে?
১ কিলোওয়াট লোড ও মিটার ভাড়া ছাড়া ২,০৫১.৭০ টাকা। লোড বা ভাড়া বেশি হলে বাড়বে।
৫১ ইউনিটে বিল এত বাড়ে কেন?
লাইফলাইন (৪.৬৩) শুধু ৫০ বা কম ইউনিটে। ৫১ হলে সব ইউনিট ৫.২৬ হারে গোনা হয়, তাই ফারাক প্রায় ৩৮.৬০ টাকা।
ডিমান্ড চার্জ কি ব্যবহার না করলেও দিতে হয়?
এই হিসাবে হ্যাঁ। এটি অনুমোদিত লোডের ওপর নির্ভর করে, ইউনিটের ওপর নয়।
টুলের ফল বিলের সঙ্গে না মিললে কী করব?
ফারাককে ১.০৫ দিয়ে ভাগ করুন; ফল ৪২-এর গুণিতক হলে লোড ভিন্ন, গোল অঙ্ক হলে মিটার ভাড়া হতে পারে। বকেয়া ও সমন্বয় বাদ দিয়ে তুলনা করুন।
এক ইউনিট কমালে কত টাকা কমে?
আপনার ধাপের হারের ১.০৫ গুণ; যেমন ৪০১–৬০০ ধাপে প্রায় ১৫.৭৬ টাকা, ৭৬–২০০ ধাপে প্রায় ৮.৯৩ টাকা।
