
আয়কর হিসাবের প্রথম প্রশ্ন একটাই: আপনার করমুক্ত সীমা কত? কর বছর ২০২৬-২৭-এ সাধারণ করদাতার সীমা ৳ ৪,০০,০০০, কিন্তু নারী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সীমা বেশি। এই গাইডে দেখবেন কার সীমা কত, বাড়তি সীমায় আসলে কত কর বাঁচে, আর আয়কর ক্যালকুলেটরে ধরন বেছে নিজের হিসাব কীভাবে মেলাবেন।

সীমা চারটি, এক নজরে
আয়বছর ২০২৫-২৬ (কর বছর ২০২৬-২৭)-এর সীমাগুলো নিচে। করমুক্ত সীমা মানে আয়ের যে অংশে কোনো কর নেই; এর ওপরের অংশে স্ল্যাবের হারে কর বসে।
| করদাতার ধরন | করমুক্ত সীমা | সাধারণের চেয়ে বেশি |
|---|---|---|
| সাধারণ করদাতা | ৳ ৪,০০,০০০ | – |
| নারী বা ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী | ৳ ৪,৫০,০০০ | ৳ ৫০,০০০ |
| প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গ | ৳ ৫,২৫,০০০ | ৳ ১,২৫,০০০ |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা | ৳ ৫,৫০,০০০ | ৳ ১,৫০,০০০ |
এর ওপর প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকের জন্য শর্তসাপেক্ষে আরও ৳ ৫০,০০০ ছাড় আছে, নিচে আলাদা করে বলেছি।
একটা সতর্কতা: ২০২৬-২৭ বাজেটের জুনের প্রস্তাবে সাধারণ সীমা ছিল ৳ ৩,৭৫,০০০, আর অন্য ধরনের ৳ ৪,২৫,০০০, ৳ ৫,০০,০০০ ও ৳ ৫,২৫,০০০। ২৯ জুন অর্থ বিল পাসের সময় সাধারণ সীমা বাড়িয়ে ৳ ৪,০০,০০০ করা হয়েছে। ২ জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদনে অন্য ধরনের সীমাও ওপরের ছকের অঙ্কে আছে। তবু কিছু সাইটে এখনো প্রস্তাবের পুরোনো অঙ্ক ঘুরছে। সেগুলো দেখে হিসাব করলে ভুল আসবে।
কে কোন ধরনে পড়েন
- নারী: সব বয়সের নারী করদাতা।
- ৬৫ বছর বা তার বেশি: পুরুষ বা নারী, যিনিই হন। বয়স কোন তারিখে গোনা হয়, তা এই গাইডে যাচাই হয়নি; সীমার কাছাকাছি হলে এনবিআরের নির্দেশনা দেখুন।
- প্রতিবন্ধী: প্রতিবেদনে সনদের কথা আছে। কোন দপ্তরের কোন সনদ গ্রহণযোগ্য, তা আমরা মূল নির্দেশনায় মেলাইনি।
- তৃতীয় লিঙ্গ: সীমা প্রতিবন্ধীর সমান, ৳ ৫,২৫,০০০।
- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: শর্ত “গেজেটভুক্ত”। শুধু মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে এই সীমা মেলে কি না, প্রতিবেদনে নেই; গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত না হলে সাধারণ সীমা ধরাই নিরাপদ।
- জুলাই যোদ্ধা: ২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধারও একই সীমা, ৳ ৫,৫০,০০০। টুলের তালিকার নাম এখনো “যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা”; সীমা এক বলে ওই ঘরটিই বেছে নিতে পারেন।
কেউ একাধিক ধরনে পড়তে পারেন, যেমন প্রতিবন্ধী নারী। সীমা যোগ হবে, না বেশিটি ধরা হবে, তা যাচাই করা হয়নি। টুলে একটি ধরনই বাছা যায়; বেশি সীমার ধরনটি বেছে দেখুন, তবে রিটার্নের আগে কর অফিস বা এনবিআরের নির্দেশনায় মিলিয়ে নিন।
সীমা বাড়লে আসলে কত কর কমে
বাড়তি সীমা মানে শুধু প্রথম অংশটা বড় হওয়া নয়। করমুক্ত অংশ শেষ হলে ১০%, ১৫%, ২০%-এর ধাপগুলো শুরু হয়, তাই সীমা সরলে ধাপগুলোও ওপরে সরে যায়। টুল এই পদ্ধতিতেই হিসাব করে। নিচের ছকে একই আয়ে চার ধরনের কর (বিনিয়োগ রেয়াত নেই, আগে রিটার্ন দিয়েছেন এমন করদাতা)।
| করযোগ্য আয় | সাধারণ | নারী বা ৬৫+ | প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গ | মুক্তিযোদ্ধা |
|---|---|---|---|---|
| ৳ ৪,৬০,০০০ | ৳ ৬,০০০ | ৳ ৫,০০০ | ৳ ০ | ৳ ০ |
| ৳ ৫,০০,০০০ | ৳ ১০,০০০ | ৳ ৫,০০০ | ৳ ০ | ৳ ০ |
| ৳ ৫,৫০,০০০ | ৳ ১৫,০০০ | ৳ ১০,০০০ | ৳ ৫,০০০ | ৳ ০ |
| ৳ ৬,০০,০০০ | ৳ ২০,০০০ | ৳ ১৫,০০০ | ৳ ৭,৫০০ | ৳ ৫,০০০ |
| ৳ ৮,০০,০০০ | ৳ ৪৫,০০০ | ৳ ৩৭,৫০০ | ৳ ২৭,৫০০ | ৳ ২৫,০০০ |
| ৳ ১২,০০,০০০ | ৳ ১,১০,০০০ | ৳ ১,০০,০০০ | ৳ ৮৬,২৫০ | ৳ ৮২,৫০০ |

মোটা অঙ্কগুলো ন্যূনতম কর, নিচে আছে। ৳ ৬,০০,০০০ আয়ে সাধারণ করদাতার চেয়ে নারী বা ৬৫+ বছর বয়সী ৳ ৫,০০০ কম দেন, প্রতিবন্ধী ৳ ১২,৫০০ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ৳ ১৫,০০০ কম। আয় ৳ ১২,০০,০০০ হলে সাশ্রয় বাড়ে: যথাক্রমে ৳ ১০,০০০, ৳ ২৩,৭৫০ ও ৳ ২৭,৫০০। কারণ আয় বাড়লে বাড়তি অংশ ১৫% বা ২০% ধাপে পড়ে, আর সেই হারে কর বাঁচে। সাধারণ করদাতার হিসাব কীভাবে ধাপে ধাপে হয়, তা আছে ব্যক্তিগত আয়কর হিসাব ২০২৬-২৭ গাইডে।
ন্যূনতম করের ফালিও সরে যায়
ন্যূনতম কর বসে করমুক্ত সীমা পেরোলে, যখন স্ল্যাবের কর ৳ ৫,০০০-এর কম আসে। প্রথম ধাপের হার ১০%, তাই স্ল্যাবের কর ৳ ৫,০০০ ছোঁয় সীমার ৳ ৫০,০০০ ওপরে। অর্থাৎ ফারাকের ফালিটা সীমার সঙ্গে সরে যায়: সাধারণ করদাতার ৳ ৪,০০,০০০ থেকে ৳ ৪,৫০,০০০, নারী বা ৬৫+-এর ৳ ৪,৫০,০০০ থেকে ৳ ৫,০০,০০০, প্রতিবন্ধীর ৳ ৫,২৫,০০০ থেকে ৳ ৫,৭৫,০০০ আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ৳ ৫,৫০,০০০ থেকে ৳ ৬,০০,০০০।
একটা উদাহরণ: নারী করদাতার করযোগ্য আয় ৳ ৪,৬০,০০০। সীমার ওপরের ৳ ১০,০০০-এর ১০% মানে স্ল্যাবের কর ৳ ১,০০০। কিন্তু আগে রিটার্ন দিয়েছেন এমন করদাতার ন্যূনতম কর ৳ ৫,০০০, তাই দিতে হয় ৳ ৫,০০০। প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী হলে টুল ৳ ১,০০০ ধরে। “প্রথমবার”-এর নিয়ম কত দূর খাটে, তা খোলা প্রশ্ন; দেখুন ন্যূনতম কর ২০২৬-২৭ গাইডে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকের বাড়তি ৳ ৫০,০০০
প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অভিভাবকের করমুক্ত সীমা শর্তসাপেক্ষে ৳ ৫০,০০০ বাড়ে। এটি যেকোনো ধরনের সীমার ওপর যোগ হয়। টুলে এর জন্য একটি টিক-ঘর আছে। উদাহরণ: সাধারণ করদাতার সীমা ৳ ৪,০০,০০০ থেকে হয় ৳ ৪,৫০,০০০, তাই ৳ ৬,০০,০০০ আয়ে কর ৳ ২০,০০০ থেকে নেমে ৳ ১৫,০০০।
শর্তগুলো এই গাইডে যাচাই হয়নি। একটি কর-তথ্য সাইটের প্রতিবেদনে লেখা, প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য এই ছাড় এবং বাবা-মা দুজনেই করদাতা হলে একজনই নিতে পারেন। আমরা তা মূল নথিতে মেলাইনি। টুল এক দফা ৳ ৫০,০০০ ধরে; একাধিক সন্তান থাকলে নিজে মিলিয়ে নিন।
রেয়াত নিলেও ন্যূনতম কর থাকে
বিনিয়োগ রেয়াত এখানেও একই নিয়মে চলে: করযোগ্য আয়ের ৩%, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০% ও ৳ ৭,৫০,০০০, এই তিনটির মধ্যে যেটি কম। একটি কাল্পনিক উদাহরণ: নারী করদাতার করযোগ্য আয় ৳ ৬,০০,০০০, অনুমোদিত বিনিয়োগ ৳ ১,৫০,০০০। স্ল্যাবের কর ৳ ১৫,০০০। রেয়াত: আয়ের ৩% = ৳ ১৮,০০০, বিনিয়োগের ১০% = ৳ ১৫,০০০, সীমা ৳ ৭,৫০,০০০, যেটি কম সেটি ৳ ১৫,০০০। তাই হিসাবে কর শূন্যে নামে, কিন্তু টুল ন্যূনতম কর ধরে ৳ ৫,০০০। রেয়াতের নিয়ম বিস্তারিত আছে বিনিয়োগ রেয়াত কীভাবে কাজ করে গাইডে।
টুলে নিজের হিসাব মেলান
- আয়কর ক্যালকুলেটরে করযোগ্য আয় ৬,০০,০০০ দিন, বিনিয়োগ শূন্য। “করদাতার ধরন” ঘরে সাধারণ বাছলে দেয় কর ৳ ২০,০০০ আসবে। নারী বা ৬৫+ বছর বাছলে ৳ ১৫,০০০, প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গে ৳ ৭,৫০০, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধায় ৳ ৫,০০০।
- ধরন “নারী বা ৬৫+ বছর” রেখে আয় ৪,৬০,০০০ করুন। স্ল্যাবের কর ৳ ১,০০০, দেয় কর ৳ ৫,০০০, আর বার্তায় লেখা থাকবে ন্যূনতম কর ধরা হয়েছে। “নতুন করদাতা” টিক দিলে ৳ ১,০০০ আসবে।
- আয় ৬,০০,০০০ ও বিনিয়োগ ১,৫০,০০০ দিয়ে রেয়াতের উদাহরণ মেলান। শতকরা ক্যালকুলেটরে ৬,০০,০০০-এর ৩% আর ১,৫০,০০০-এর ১০% বের করুন, ১৮,০০০ ও ১৫,০০০ আসবে।
- চাকরিজীবী হলে আগে করযোগ্য আয় বের করুন বেতনের কর ক্যালকুলেটরে, সেখানেও একই ধরনের তালিকা আছে। হিসাবের ধরন আছে বেতন থেকে আয়কর হিসাব গাইডে।
সূত্র ও হালনাগাদ: সংশোধিত করমুক্ত সীমা ও ২৯ জুন অর্থ বিল পাসের খবর: চট্টগ্রাম নিউজ ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (২৯-৩০ জুন ২০২৬); ধরনভেদে ২০২৬-২৭-এর সীমা (নারী ৳ ৪,৫০,০০০, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ৳ ৫,২৫,০০০, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা ৳ ৫,৫০,০০০): দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (২ জুলাই ২০২৬); জুনের প্রস্তাবের অঙ্ক ও অভিভাবকের ছাড়: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ও এনটিভি (১১ জুন ২০২৬); অর্থ আইন ২০২৬ ও আয়কর আইন ২০২৩, এনবিআর। মূল গেজেট বা তফসিল আমরা নিজে খুলে মেলাইনি। অন্য ধরনের জন্য আলাদা স্ল্যাব প্রতিবেদনে পাইনি; ধাপগুলো সীমার পর থেকে শুরু হয় ধরে টুলের পদ্ধতিতে হিসাব করা। কাল্পনিক: ছকের সব আয় ও উদাহরণ। এটি আনুমানিক হিসাব ও সাধারণ তথ্য, আইনি বা কর পরামর্শ নয়; রিটার্ন জমার আগে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা বা কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
নারী করদাতার করমুক্ত সীমা কি ৳ ৪,৫০,০০০?
কর বছর ২০২৬-২৭-এ হ্যাঁ, ২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন ও টুলের তালিকা অনুযায়ী। জুনের প্রস্তাবের ৳ ৪,২৫,০০০ চূড়ান্ত নয়; সাধারণ সীমা বাড়ানোর সঙ্গে এটিও ৳ ২৫,০০০ বেড়েছে।
৬৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষও কি বাড়তি সীমা পান?
প্রতিবেদনে সীমাটি “নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী”দের জন্য, অর্থাৎ বয়সের শর্ত পুরুষ ও নারী দুজনের ক্ষেত্রেই খাটে। বয়স গোনার তারিখ এখানে যাচাই হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা হলেই কি ৳ ৫,৫০,০০০ সীমা পাওয়া যায়?
প্রতিবেদনের শর্ত “গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা”। এই শ্রেণিতে না পড়লে সাধারণ সীমা ধরাই নিরাপদ। নিজের ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে এনবিআরের নির্দেশনা বা কর অফিসে জেনে নিন।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ৳ ৫০,০০০ কি আলাদা ছাড়?
হ্যাঁ, এটি আপনার ধরনের সীমার ওপর যোগ হয়। টুলে টিক-ঘর আছে। শর্ত ও সন্তানপ্রতি কি না, এই গাইডে যাচাই হয়নি।
আয় সীমার নিচে থাকলে কি রিটার্ন দিতে হয় না?
কর শূন্য আসে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে (যেমন সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস বা নির্দিষ্ট সম্পদ থাকা) রিটার্ন জমা লাগতে পারে। ৬৫+ ও সনদধারী প্রতিবন্ধী করদাতা কাগজে রিটার্ন দিতে পারেন, ধাপগুলো আছে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ধাপ গাইডে।
