ফর্মের মিলিমিটার মাপ থেকে পিক্সেল ও KB: পাসপোর্ট সাইজ ছবি কাটার হিসাব

সূত্র: পিক্সেল = মিমি ÷ ২৫.৪ × DPI। ৩৫ × ৪৫ মিমি ফর্মের মাপ ৩০০ DPI-তে ৪১৩ × ৫৩১ পিক্সেলের ছবি হয়

পাসপোর্ট, ভিসা বা চাকরির আবেদনে ছবির মাপ প্রায়ই মিলিমিটারে লেখা থাকে, আর আপলোডের পোর্টাল আলাদা করে KB-তে সীমা দেয়। পাসপোর্ট ছবি মেকার টুলে মিমি কীভাবে পিক্সেল হয়, DPI বদলালে কী বদলায় আর KB-এর সীমা টুল কীভাবে ধরে, এই লেখায় তার হিসাব আছে।

শুরুতেই একটি কথা: এই লেখার মাপ (৩৫ × ৪৫, ৪০ × ৫০ ইত্যাদি) কাল্পনিক উদাহরণ। টুল নিজেও কোনো দেশের বা কোনো পাসপোর্টের মাপ আগে থেকে বসায় না। আপনার ফর্ম, ভিসা-নির্দেশনা বা পোর্টালে যা লেখা সেটাই চূড়ান্ত, সেটাই টুলে দেবেন।

মিমি থেকে পিক্সেল: একটি সূত্র

DPI মানে প্রতি ইঞ্চিতে কত পিক্সেল, আর ১ ইঞ্চি = ২৫.৪ মিমি। তাই টুল ডাউনলোডের ছবির মাপ বের করে এই সূত্রে:

পিক্সেল = মিমি ÷ ২৫.৪ × DPI, তারপর কাছের পূর্ণ সংখ্যায়।

৩৫ × ৪৫ মিমি ফর্মে ৩০০ DPI ধরলে প্রস্থ ৩৫ ÷ ২৫.৪ × ৩০০ = ৪১৩.৪, অর্থাৎ ৪১৩ পিক্সেল। উচ্চতা ৪৫ ÷ ২৫.৪ × ৩০০ = ৫৩১.৫, অর্থাৎ ৫৩১ পিক্সেল। টুল পাতায় যে বাক্য দেখায় (“ছবির মাপ ৩৫ × ৪৫ মিমি, অর্থাৎ ৪১৩ × ৫৩১ পিক্সেল”) তা এই হিসাবই।

কাল্পনিক ফর্মের মাপ ৩৫ × ৪৫, ৪০ × ৫০, ৩০ × ৪০ ও ২৫ × ৩০ মিমির ২০০, ৩০০ ও ৬০০ DPI-তে পিক্সেল মাপের ছক
একই মিমি মাপ, তিন DPI-তে তিন রকম পিক্সেল।
কাল্পনিক ফর্মের মাপ (মিমি)২০০ DPI৩০০ DPI৬০০ DPI
৩৫ × ৪৫২৭৬ × ৩৫৪৪১৩ × ৫৩১৮২৭ × ১০৬৩
৪০ × ৫০৩১৫ × ৩৯৪৪৭২ × ৫৯১৯৪৫ × ১১৮১
৩০ × ৪০২৩৬ × ৩১৫৩৫৪ × ৪৭২৭০৯ × ৯৪৫
২৫ × ৩০১৯৭ × ২৩৬২৯৫ × ৩৫৪৫৯১ × ৭০৯

ছকের প্রতিটি সংখ্যা ওপরের সূত্রে কোড দিয়ে হিসাব করা। মিমির মাপ একই থাকে, শুধু ঘনত্ব বদলায়। ছাপার ছবিতে বেশি পিক্সেল মানে সূক্ষ্ম ছাপা, কিন্তু ফাইলও বড় হয়।

টুলে কী দেবেন

  1. একটি ছবি বেছে নিন বা টেনে এনে ছাড়ুন (JPG, PNG, WebP)।
  2. ফর্মের প্রস্থ ও উচ্চতা মিমিতে লিখুন। টুল ১০ থেকে ২০০ মিমির মধ্যে নেয়, দশমিকও চলে (যেমন ২৫.৪)।
  3. DPI বাছুন: ২০০, ৩০০ (ডিফল্ট) বা ৬০০। ফর্ম DPI বা পিক্সেল নিয়ে কিছু না বললে ৩০০ রাখা যায়।
  4. অনলাইন আপলোডে KB-এর সীমা থাকলে “ফাইলের সীমা” থেকে বাছুন: ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০ বা ৫০০ KB।
  5. প্রিভিউয়ে ছবি টেনে বসিয়ে “ছবি ডাউনলোড (JPEG)” চাপুন। ফাইলের নাম হয় যেমন passport-photo-35x45mm.jpg।

ছবি কীভাবে ফ্রেমে বসাবেন, তা ফ্রেমে বসানোর ভুলের লেখায় আছে। একসঙ্গে অনেক কপি ছাপাতে চাইলে প্রিন্ট শিটের হিসাবের লেখা দেখুন।

ফর্ম পিক্সেলে মাপ চাইলে

কিছু পোর্টাল মিমি নয়, সরাসরি পিক্সেল চায়, যেমন ৩০০ × ৩০০। তখন উল্টো সূত্র কাজে লাগে: মিমি = পিক্সেল ÷ DPI × ২৫.৪।

  • ৩০০ পিক্সেল, ৩০০ DPI: ৩০০ ÷ ৩০০ × ২৫.৪ = ২৫.৪ মিমি। প্রস্থ ও উচ্চতায় ২৫.৪ দিলে টুলের সূত্রে ২৫.৪ ÷ ২৫.৪ × ৩০০ = ৩০০ পিক্সেল আসে।
  • উল্টো দিকে: ৪১৩ পিক্সেল ÷ ৩০০ × ২৫.৪ = ৩৪.৯৭ মিমি, যা ৩৫ মিমির কাছাকাছি।

এই উল্টো হিসাব আমি সূত্র ধরে মিলিয়েছি, টুলের পাতায় বসিয়ে চালিয়ে দেখিনি। পিক্সেল আর KB দুটোই চাওয়া ফর্মে ছবির সাইজ কমান টুলের নামযুক্ত প্রিসেট আছে, তার নিয়ম ফর্মে ছবি ও সই আপলোডের লেখায়। টুলের ন্যূনতম ১০ মিমির সীমার কারণে খুব ছোট মাপ (যেমন সইয়ের সরু ফালি) এখানে নাও চলতে পারে।

KB-এর সীমা: টুল কীভাবে ধরে

KB-এর সীমা বাছলে টুল কত বাইট ধরে: ২০ KB-এ ২০,০৭০, ৫০ KB-এ ৫০,১৭৬, ১০০ KB-এ ১,০০,৩৫২, ২০০ KB-এ ২,০০,৭০৪, ৩০০ KB-এ ৩,০১,০৫৬ ও ৫০০ KB-এ ৫,০১,৭৬০ বাইট
টুল সীমার ৯৮% পর্যন্ত নামায়।

টুল ধাপে ধাপে এগোয়, আর নিয়মগুলো পাতার লেখা ও কোড থেকে নেওয়া:

  • ১ KB = ১,০২৪ বাইট ধরা হয়।
  • লক্ষ্য সীমার ৯৮%। ৫০ KB বাছলে ৫০ × ১,০২৪ × ০.৯৮ = ৫০,১৭৬ বাইটের মধ্যে নামে, যাতে হিসাবের ব্যবধানে ফর্মের সীমা ছাড়িয়ে না যায়।
  • আগে সবচেয়ে ভালো মান (JPEG মান ০.৯৫) চেষ্টা করে। সীমার ভেতরে হলে সেটাই দেয়।
  • বড় হলে সবচেয়ে কম মান (০.৩) চেষ্টা করে। তাতেও সীমার বাইরে থাকলে ছোট করা ফাইলটি নামিয়ে জানায়: “… KB-এ পৌঁছানো যায়নি, এটাই সবচেয়ে ছোট করা গেছে। DPI কমিয়ে আবার চেষ্টা করুন।”
  • ০.৩-এ সীমার ভেতরে এলে ০.৩ ও ০.৯৫-এর মাঝামাঝি মান সাতবার ভাগ করে খুঁজে সীমার মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানটি নেয়, আর জানায় “… KB-এর মধ্যে এসেছে”।

এই KB-সীমা শুধু একক ছবির ডাউনলোডে কাজ করে, প্রিন্ট শিটে নয়।

সীমায় না পৌঁছালে

টুলের নিজের পরামর্শ DPI কমানো, আর কারণটা পিক্সেলের সংখ্যায় দেখা যায়। ৩৫ × ৪৫ মিমির ছবি:

  • ৬০০ DPI: ৮২৭ × ১০৬৩ = ৮,৭৯,১০১ পিক্সেল।
  • ৩০০ DPI: ৪১৩ × ৫৩১ = ২,১৯,৩০৩ পিক্সেল, অর্থাৎ ৬০০ DPI-র প্রায় চার ভাগের এক ভাগ।
  • ২০০ DPI: ২৭৬ × ৩৫৪ = ৯৭,৭০৪ পিক্সেল, অর্থাৎ ৩০০ DPI-র প্রায় ২.২ ভাগের এক ভাগ।

পিক্সেল কমলে কম তথ্য থাকে, তাই KB-ও কমে। তবে কত KB হবে, তা ছবির ধরন (সমান দেয়াল না কাপড়ের নকশা) ওপর নির্ভর করে। আমি বানানো ছবি দিয়ে আসল KB সংখ্যা দিইনি, কারণ তা ভুল ধারণা দিত।

একটি সতর্কতা: ফর্ম যদি ন্যূনতম পিক্সেল মাপও চায়, DPI কমালে সেই মাপের নিচে নেমে যেতে পারেন। ছোট হওয়ার আগে ওপরের ছক দেখে নিন।

মাপের ওপরের সীমা

কোনো দিকে ৪,০০০ পিক্সেলের বেশি হলে টুল ডাউনলোড করতে দেয় না: “এই মাপে ছবি বেশি বড় হয়ে যায়। DPI কমান।” যেমন ২০০ × ২০০ মিমির ফ্রেমে ৬০০ DPI-তে দিক হয় ৪,৭২৪ পিক্সেল, তাই আটকায়। একই মাপে ৩০০ DPI-তে ২,৩৬২ পিক্সেল, এটি চলে।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: সূত্র ও সব সংখ্যা টুলের আসল হিসাবের সূত্র (মিমি ÷ ২৫.৪ × DPI, ৯৮%, ৪,০০০ পিক্সেল সীমা) কোডে বসিয়ে মেলানো। এই লেখার জন্য আসল ব্রাউজারে বা ফোনে টুল চালিয়ে দেখা হয়নি। মাপগুলো কাল্পনিক, কোনো সরকারি ফর্মের নয়। হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

৩৫ × ৪৫ মিমির ছবি কত পিক্সেল?

৩০০ DPI-তে ৪১৩ × ৫৩১, ২০০ DPI-তে ২৭৬ × ৩৫৪, ৬০০ DPI-তে ৮২৭ × ১০৬৩ পিক্সেল। তবে ৩৫ × ৪৫ আপনার ফর্মের মাপ কি না, তা ফর্মে দেখে নিন।

DPI কোনটি বাছব?

ফর্ম কিছু না বললে ডিফল্ট ৩০০। ফাইল ছোট চাইলে ২০০, কিন্তু ফর্মের ন্যূনতম পিক্সেল মাপ থাকলে তা মিলিয়ে নিন। ৬০০ শুধু ছাপার জন্য, ফাইল অনেক বড় হয়।

KB-এর সীমায় পৌঁছায়নি, এখন কী?

DPI কমিয়ে আবার ডাউনলোড করুন। দরকারে সাদা বা সমান পেছনের ছবি দিন, কারণ নকশাওয়ালা পেছন ফাইল বাড়ায়।

ছবি কি সার্ভারে আপলোড হয়?

না। সব কাজ আপনার ডিভাইসের ব্রাউজারেই হয়।