
চাকরির আবেদন, ভর্তি ফর্ম বা কোনো পোর্টালে নিবন্ধন, সব জায়গায় শেষ ধাপটা প্রায় একই রকম: “ছবি আপলোড করুন”। আর সেখানেই আটকে যান অনেকে, কারণ লেখা থাকে এই ধরনের শর্ত, “ছবি ৩০০ × ৩০০ পিক্সেল, ১০০ KB-এর বেশি নয়”। দুটো শর্ত একসঙ্গে মেলাতে হবে, আর ফোনের গ্যালারির ছবি এর কোনোটাই মেনে চলে না। ছবির সাইজ কমান টুল দিয়ে কাজটা মিনিট খানেকে হয়ে যায়, তবে কোন ঘরে কী বসাচ্ছেন বুঝে নিলে একবারেই ঠিক ফল আসে।
একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি: এই লেখার মাপ আর KB-র সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র। প্রতিটি আবেদনের সীমা আলাদা। আপনার ফর্মে যা লেখা আছে, সেটাই চূড়ান্ত।
দুটি শর্ত, দুটি আলাদা বিষয়
“৩০০ × ৩০০ পিক্সেল” হলো ছবির মাপ, মানে প্রস্থ আর উচ্চতা। “১০০ KB” হলো ফাইলের ওজন। এ দুটো আলাদা। একই ৩০০ × ৩০০ ছবি কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে ২০ KB-ও হতে পারে, ১৫০ KB-ও হতে পারে। তাই মাপ ঠিক করে ফেললেও সাইজ মিলতে পারে না, আবার সাইজ মিলিয়ে ফেললেও মাপ ভুল থাকতে পারে। টুলে দুটোর জন্যই আলাদা ঘর আছে, আর দুটো একসঙ্গে বসালে টুল দুই শর্তই মেটানোর চেষ্টা করে।
পিক্সেল আর KB-র সম্পর্ক নিয়ে হিসাব আছে ছবির সাইজ কীভাবে ঠিক হয়, সেই লেখায়। সংক্ষেপে: ৩০০ × ৩০০ ছবি সংকোচন ছাড়া প্রায় ২৬৪ KB, তাই ১০০ KB সীমায় ঢুকতে সংকোচন লাগবেই।
চার ধাপে কাজ

- ছবি বাছুন। টুলে ছবি বেছে নিন বা টেনে এনে ছাড়ুন। ফোনের আসল ছবিটাই দিন, আগে থেকে ছোট করা কোনো কপি নয়। কেন, তা পরে বলছি।
- লক্ষ্য সাইজ বাছুন। তালিকায় আছে ২০, ৩০, ৫০, ৬০, ১০০, ২০০, ৩০০ ও ৫০০ KB। ফর্মের সীমা যেটা, সেটা বাছুন। এটা বাছলে কোয়ালিটি স্লাইডার বন্ধ হয়ে যায়, কারণ টুল নিজেই কোয়ালিটি ঠিক করে।
- ঠিক মাপ দিন। “ঠিক মাপ” ঘরে প্রস্থ আর উচ্চতা দুটোই লিখুন, যেমন ৩০০ আর ৩০০। বাংলা অঙ্কেও চলে। শুধু একটা দিলে টুল জানিয়ে দেয় যে দুটোই দরকার, আর আপাতত আসল অনুপাতেই কাজ করে।
- ডাউনলোড চাপুন। আগে ফলটা দেখে নিন। প্রতিটি ছবির নিচে লেখা থাকে কত KB হলো, কত পিক্সেল, আর সীমার মধ্যে এল কি না।
ঠিক মাপ দিলে ছবি কাটা পড়ে
এই জায়গাটা না জানলে অবাক হতে পারেন। ফর্মের মাপ চৌকো, কিন্তু আপনার ছবি সম্ভবত ৪:৩ অনুপাতের। দুটোকে মেলানোর একটাই উপায়: ছবিকে মাঝখান থেকে কেটে নেওয়া। টুল ঠিক তা-ই করে, আর কাটা ছবিটা পুরো ঘর ভরে দেয়, কোনো সাদা ফাঁক থাকে না।
উদাহরণ নিন। ছবি ৪০০০ × ৩০০০, লক্ষ্য ৩০০ × ৩০০। ছোট ধারটা ৩০০০ পিক্সেল, তাই ঘরটা ৩০০০ × ৩০০০ অংশ থেকে তৈরি হয় আর ০.১ গুণ ছোট করা হয়। প্রস্থ থেকে ৪০০০ − ৩০০০ = ১০০০ পিক্সেল বাদ যায়, মানে দুই পাশে ৫০০ করে। ছবির প্রস্থের এক-চতুর্থাংশ চলে গেল।

মাঝখানে মুখ থাকলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি যদি ছবির এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, মুখ কেটে যেতে পারে। তাই আপলোডের আগে ফলাফলটা চোখে দেখে নিন। দরকার হলে গ্যালারির ক্রপ দিয়ে আগেই নিজে কেটে নিন, তারপর টুলে দিন। ছবি তোলার সময় মুখটা ফ্রেমের মাঝখানে রাখলে ঝামেলাই থাকে না।
টুল কীভাবে সীমায় পৌঁছায়
লক্ষ্য সাইজ বাছলে টুল সীমার ঠিক কিনারায় থামে না, একটু আগে থামে। হিসাবটা সহজ: সীমাকে ১০২৪ দিয়ে বাইটে নেয়, তারপর ৯৮% ধরে। ১০০ KB হলে ১,০২,৪০০ × ০.৯৮ = ১,০০,৩৫২ বাইট। ২০ KB-তে ২০,০৭০, ৫০ KB-তে ৫০,১৭৬, ৩০০ KB-তে ৩,০১,০৫৬ বাইট।

ভেতরের পথটা এমন। প্রথমে ৯৫% কোয়ালিটিতে চেষ্টা করে। তাতে সীমায় এলে সেখানেই থামে। না এলে ৪০%-এ চেষ্টা করে। তাতেও না এলে ছবির মাপ ছোট করে আবার চেষ্টা করে, প্রতিবার ০.৮৫ গুণ করে। মাঝামাঝি কোয়ালিটি খুঁজতে কয়েকবার ভাগাভাগিও করে। ফলে আপনি সীমার মধ্যে সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির ছবিটাই পান।
তবে ঠিক মাপ দিলে একটা তফাত আছে। মাপ তখন বাঁধা, তাই টুল ছবি ছোট করতে পারে না। শুধু কোয়ালিটি কমায়, ৪০%-এর নিচে নয়। তাতেও সীমায় না এলে টুল সাফ জানায় যে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি, আর সবচেয়ে ছোট যেটা হয়েছে সেটা দেখায়। এমন হলে কয়েকটা জিনিস চেষ্টা করুন। ফরম্যাট JPEG রাখুন, PNG নয়। যে ছবির পেছনে সরল দেয়াল বা আকাশ আছে, সেটা সাধারণত বেশি ছোট হয়, জটিল পটভূমির ছবি কম। আর ছবিটা আরেকটু ভেতর থেকে কেটে নিলে মুখের খুঁটিনাটি বেশি বাঁচে।
নামযুক্ত প্রিসেট
টুলে চারটি নামযুক্ত বোতাম আছে: সরকারি চাকরির ছবি ৩০০ × ৩০০ ও ১০০ KB, সরকারি চাকরির সই ৩০০ × ৮০ ও ৬০ KB, CUET ভর্তির ছবি ৩০০ × ৩০০ ও ৩০০ KB, আর CUET-র সই ৩০০ × ৮০ ও ১০০ KB। বোতাম চাপলে মাপ আর KB-সীমা একসঙ্গে বসে যায়, আর নিচে দেখা যায় এই সংখ্যার সূত্র কী।
এখানে সততার কথাটা বলা দরকার। একটি সূত্র হলো একটি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা, যার মূল বিজ্ঞপ্তি সরাসরি দেখা যায়নি। অন্যটি CUET ভর্তি আবেদনের নিজস্ব প্রশ্নোত্তর পাতা। কাজেই এগুলোকে শুরুর ধারণা হিসেবে নিন, নিয়ম হিসেবে নয়। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির মাপ আলাদা হতে পারে। আপনার বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা, সেটা “ঠিক মাপ” ঘরে আর লক্ষ্য সাইজে বসান। পাসপোর্টসহ অন্য পোর্টালের কোনো প্রিসেট নেই, কারণ তাদের নিজস্ব পাতা থেকে মাপ যাচাই করা যায়নি।
সই নিয়ে আলাদা কথা
সইয়ের মাপ সাধারণত খুব লম্বাটে হয়। ৩০০ × ৮০ মানে প্রস্থ উচ্চতার ৩.৭৫ গুণ। এমন অনুপাতে ছবি তুলতে গেলে আসল ছবির ওপর-নিচ থেকে অনেকটা কাটা পড়ে। সুবিধামতো পথ: সাদা কাগজে কালো বা গাঢ় নীল কলমে সই করুন, ছবি তুলুন সোজা ওপর থেকে, আর কাগজে সই রাখুন লম্বালম্বি একটা পট্টির মতো করে, যাতে কাটার পরও সব অক্ষর থাকে। কাগজে যেন ফোন বা হাতের ছায়া না পড়ে, সেটা দেখে নিন।
সইয়ের ছবিতে কোয়ালিটি বেশি কমালে সরু দাগগুলোর কিনারা ঝাপসা হয়ে যায়। সীমা মিললেও জমা দেওয়ার আগে ছবিটা ১০০% মাপে দেখে নিন। অক্ষর পড়া যাচ্ছে কি না, এটাই আসল পরীক্ষা।
জমা দেওয়ার আগের ছোট তালিকা
- টুলের ফল লাইনে সীমার মধ্যে এসেছে লেখা আছে কি না দেখুন।
- ফর্মে যে ফরম্যাট চেয়েছে (সাধারণত JPG), সেটাই বাছা আছে কি না দেখুন।
- ডাউনলোড করা ফাইলটা খুলে চোখে দেখুন, মুখ ও সই ঠিক আছে কি না।
- ফাইলের নামে বাংলা অক্ষর বা ফাঁকা জায়গা থাকলে সরল ইংরেজি নামে বদলে নিন, কিছু পোর্টাল এতে সমস্যা করতে পারে।
- আসল ছবিটা আলাদা রেখে দিন, ভবিষ্যতে আবার দরকার হবে।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: টুলের প্রিসেটের সংখ্যা সূত্রসহ দেখানো, কিন্তু সূত্রগুলো মূল বিজ্ঞপ্তিতে মেলানো নয়। ফর্মের নিজের শর্তই মানবেন। অনেক ছোট সীমায় (যেমন ২০ KB) ছবি ঝাপসা হতে পারে। ছবি আপনার ডিভাইসেই প্রসেস হয়, কোথাও আপলোড হয় না। হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
পিক্সেল মাপ ঠিক আছে, কিন্তু KB বেশি। কী করব?
লক্ষ্য সাইজ বেছে নিন, তখন টুল নিজে কোয়ালিটি কমিয়ে সীমায় আনবে। ফরম্যাট JPEG রাখুন।
ঠিক মাপে ছবির কিছু অংশ কাটা পড়ল কেন?
ফর্মের মাপ আর ছবির অনুপাত আলাদা, তাই টুল ছবিকে মাঝখান থেকে কেটে বসায়। ছবিটা আগে নিজে কেটে নিলে কোন অংশ থাকবে তা আপনিই ঠিক করতে পারবেন।
“লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি” এলে কী করব?
ঠিক মাপ ছোট না হলে টুল শুধু কোয়ালিটি কমাতে পারে। সরল পটভূমির ছবি দিন, ছবিটা আরেকটু ভেতর থেকে কাটুন, আর JPEG বেছে নিন। তবু না হলে ফর্মের শর্ত আবার পড়ে দেখুন।
প্রিসেটের মাপ কি সব ফর্মে চলবে?
না। প্রিসেট শুধু একটি সূত্রের বর্ণনা, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির মাপ আলাদা হতে পারে। আপনার ফর্মে যা লেখা সেটাই মানুন।
ছবি কি কোথাও পাঠানো হয়?
না। কমানো পুরোটাই আপনার ব্রাউজারে হয়, ছবি সার্ভারে যায় না।
