
স্টুডিওতে ছাপাতে গেলে একই ছবির অনেক কপি লাগে, আর সেগুলো এক কাগজে সাজিয়ে নিলে ছাপানো সুবিধার। পাসপোর্ট ছবি মেকার টুল আপনার ছবিটি ৩R, ৪R বা A4 কাগজ ভরে সাজিয়ে একটি JPEG হিসেবে নামায়। এই লেখায় টুল কাগজ কীভাবে ভাগ করে, কোন মাপে কত কপি বসে আর ছাপার সময় কী মানতে হবে, তার হিসাব আছে।
ছবির মাপগুলো (২৫ × ৩০, ৩০ × ৪০, ৩৫ × ৪৫ ইত্যাদি) এখানে কাল্পনিক উদাহরণ। আপনার ফর্ম যে মাপ চায়, সেটিই টুলে দেবেন। ছবির মাপ ঠিক করার হিসাব আছে মিমি থেকে পিক্সেলের লেখায়।
তিনটি কাগজ ও দুটি নিয়ম
| কাগজ | মিমিতে | ইঞ্চিতে |
|---|---|---|
| ৩R | ৮৮.৯ × ১২৭ | ৩.৫ × ৫ |
| ৪R | ১০১.৬ × ১৫২.৪ | ৪ × ৬ |
| A4 | ২১০ × ২৯৭ | প্রায় ৮.২৭ × ১১.৭ |
টুল কাগজের চার কিনারায় ৪ মিমি ফাঁকা রাখে আর ছবিগুলোর মাঝে ২ মিমি ফাঁক। এই দুই নিয়মে কলাম ও সারির সংখ্যা বের হয়:
- কলাম = (কাগজের প্রস্থ − ৮ + ২) ÷ (ছবির প্রস্থ + ২), ভগ্নাংশ ফেলে।
- সারি = (কাগজের উচ্চতা − ৮ + ২) ÷ (ছবির উচ্চতা + ২), ভগ্নাংশ ফেলে।
(+ ২ যোগ হয় কারণ শেষ ছবির পরে ফাঁক লাগে না।) উদাহরণ: ৩৫ × ৪৫ মিমির ছবি ৪R কাগজে। কলাম = (১০১.৬ − ৮ + ২) ÷ ৩৭ = ৯৫.৬ ÷ ৩৭ = ২.৫৮, অর্থাৎ ২। সারি = (১৫২.৪ − ৮ + ২) ÷ ৪৭ = ১৪৬.৪ ÷ ৪৭ = ৩.১১, অর্থাৎ ৩। মোট ২ × ৩ = ৬টি।
ছবির গুচ্ছের মাপ ২ × ৩৫ + ২ = ৭২ মিমি চওড়া আর ৩ × ৪৫ + ২ × ২ = ১৩৯ মিমি লম্বা। টুল গুচ্ছটি কাগজের ঠিক মাঝে বসায়, তাই ডান-বাঁয়ে (১০১.৬ − ৭২) ÷ ২ = ১৪.৮ মিমি আর ওপর-নিচে (১৫২.৪ − ১৩৯) ÷ ২ = ৬.৭ মিমি করে ফাঁকা থাকে।
সোজা না আড়াআড়ি: টুল দুটোই হিসাব করে
টুল কাগজ সোজা ও আড়াআড়ি, দুভাবে ধরে হিসাব করে। আড়াআড়িতে বেশি কপি ধরলে সেটিই নেয়, সমান হলে সোজা। ৩৫ × ৪৫ মিমি ৪R কাগজে আড়াআড়িতেও ৩ × ২ = ৬, তাই সোজাই থাকে। কিন্তু ৩০ × ৪০ মিমিতে ফল আলাদা:

- সোজা: কলাম (১০১.৬ − ৬) ÷ ৩২ = ২, সারি (১৫২.৪ − ৬) ÷ ৪২ = ৩, মোট ৬।
- আড়াআড়ি (১৫২.৪ × ১০১.৬ ধরে): কলাম (১৫২.৪ − ৬) ÷ ৩২ = ৪, সারি (১০১.৬ − ৬) ÷ ৪২ = ২, মোট ৮।
তখন টুল আড়াআড়ি ধরে ৮টি বসায়, আর শিট ডাউনলোডের পর জানায় “(কাগজ আড়াআড়ি ধরে)”। ফাইলটি তাই ১৫২.৪ × ১০১.৬ মিমির আড়াআড়ি কাগজের মাপে তৈরি হয়, ছবিগুলো নিজে সোজাই থাকে। ছাপার সময় কাগজ আড়াআড়ি দিতে বা ঘুরিয়ে নিতে হতে পারে।
কোন মাপে কত কপি

| কাল্পনিক মাপ (মিমি) | ৩R | ৪R | A4 |
|---|---|---|---|
| ২৫ × ৩০ | ৯ | ১২ | ৬৩ |
| ৩০ × ৪০ | ৪ | ৮ (আড়াআড়ি) | ৩৬ |
| ৩৫ × ৪৫ | ৪ | ৬ | ৩০ |
| ৪০ × ৫০ | ২ | ৪ | ২০ |
| ৪৫ × ৫৫ | ২ | ৪ | ২০ |
সংখ্যাগুলো টুলের কাগজ-ভাগের সূত্র কোডে বসিয়ে বের করা। ছকে চোখে পড়ে ৪০ × ৫০ আর ৪৫ × ৫৫ মাপে ৪R-এ একই ৪টি আসে, কারণ ৪৫ মিমির দুটি ছবি আর মাঝের ফাঁক মিলে ২ × ৪৫ + ২ = ৯২ মিমি, যা ৯৫.৬ মিমির ভেতরে ঢোকে। ফর্মের মাপ সামান্য বদলালেও সংখ্যা বদলাতে পারে: ৪R-এ দুই কলাম ধরতে প্রস্থ ৪৬.৮ মিমির মধ্যে থাকতে হয় (২ × ৪৬.৮ + ২ = ৯৫.৬)। ৪৭ মিমি হলে এক কলামে নামে, কপি অর্ধেক হয়ে যায়।
কপির সংখ্যা কম দিলে
“কপির সংখ্যা” ঘরে ০ দিলে কাগজে যত ধরে ততটি বসে। কম সংখ্যা দিলে (যেমন ৪টি) ছবিগুলো ওপরের সারি থেকে বাঁ থেকে ডানে ভরতে থাকে, বাকি জায়গা সাদা থাকে। কোড পড়ে দেখা যায়, জায়গা ঠিক হয় পুরো গ্রিডের মাপ ধরে, তাই কম কপিতে ছবিগুলো কাগজের ওপরের দিকে জমে, নিচে ফাঁকা থাকে। কাগজে ধরার চেয়ে বেশি দিলে টুল সর্বোচ্চেই থামে। শিট নামানোর পর টুল জানায় কয়টি কপি বসেছে, সেটি আপনার চাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
ছবির মাপ কাগজের চেয়ে বড় হলে শিট হয় না, টুল বলে: “ছবির মাপ এই কাগজের চেয়ে বড়। বড় কাগজ বেছে নিন।”
ফাইলের পিক্সেল মাপ
শিট সর্বোচ্চ ৩০০ DPI-তে তৈরি হয়, যাতে ফোনেও ফাইল সামলানো যায়। ৬০০ DPI বাছলেও শিট ৩০০-তেই নামে (একক ছবি ৬০০-তে যায়)। ৩০০ DPI-তে কাগজের মাপ হয়:
- ৩R: ১০৫০ × ১৫০০ পিক্সেল
- ৪R: ১২০০ × ১৮০০ পিক্সেল
- A4: ২৪৮০ × ৩৫০৮ পিক্সেল
ডাউনলোডের ফাইলের নাম হয় passport-photo-sheet-4r.jpg (৪R হলে), আর প্রতিটি ছবির কিনারা ঘেঁষে হালকা ধূসর কাটার দাগ থাকে। দাগ খুব সরু, তাই কাটার সময় দাগ ধরে বা ঠিক বাইরে দিয়ে কাটুন।
ছাপার সময় মাপ ঠিক রাখা
টুল শিট তৈরির সময় মাপ ঠিক রাখে, কিন্তু ছাপার সময় প্রিন্টার বা অ্যাপ ছবি ছোট-বড় করে ফেলতে পারে। দেখুন:
- প্রিন্ট ডায়ালগে “আসল মাপ”, “Actual size” বা ১০০% বাছুন। “ফিট টু পেজ” বা “স্কেল” চালু থাকলে ছবির মাপ বদলে যায়।
- ছাপার পর রুলার দিয়ে একটি ছবি মাপুন: ৩৫ × ৪৫ বললে চওড়ায় ৩৫ মিমি, লম্বায় ৪৫ মিমি।
- মাপ কম-বেশি এলে প্রিন্ট সেটিংয়ে স্কেল দেখে আবার ছাপুন। আপনার প্রিন্টারের নিজের কিনারা ৪ মিমির বেশি হলে প্রান্তের কপি কাটা পড়তে পারে, তাই ওই সম্ভাবনাও দেখে নিন।
- ল্যাবে ফাইল দিলে কাগজের আকার (৩R, ৪R বা A4) আর “আসল মাপে ছাপুন” কথাটি আগে জানিয়ে দিন।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: কপির সংখ্যা ও কাগজের পিক্সেল মাপ টুলের আসল কাগজ-ভাগের সূত্রে কোড দিয়ে বসিয়ে মেলানো। আসল ব্রাউজারে বা ফোনে শিট নামিয়ে, কোনো প্রিন্টারে ছাপিয়ে বা রুলারে মাপা হয়নি। প্রিন্টারের কিনারা নিয়ে লেখাটি সম্ভাবনা, মাপা তথ্য নয়। ছবির মাপ কাল্পনিক। হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
৩৫ × ৪৫ মিমির ছবি ৪R কাগজে কয়টি ধরে?
ছয়টি, ২ কলাম ও ৩ সারিতে। A4-এ ৩০টি, ৩R-এ ৪টি।
কাগজ কেন আড়াআড়ি হয়ে গেল?
আড়াআড়ি কাগজে বেশি কপি ধরলে টুল সেটিই নেয়। যেমন ৩০ × ৪০ মিমি ৪R-এ ৬-এর জায়গায় ৮টি।
ছবির কিনারায় ধূসর দাগ কেন?
কাটার সুবিধার জন্য। দাগ ছবির ভেতরে কোনো লেখা বা চিহ্ন বসায় না, শুধু কিনারা ঘেঁষে সরু রেখা।
KB-এর সীমা কি শিটেও খাটে?
না। KB-এর সীমা শুধু একক ছবির ডাউনলোডে কাজ করে।
