গ্র্যাচুইটি কীভাবে হিসাব হয়: সূত্র, ছয়টি ঘর ও উদাহরণ

মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা, ৮ বছর, বছরে ৩০ দিন থেকে গ্র্যাচুইটি ২,৪০,০০০ টাকা, নিচে হিসাবের লাইন

ধরুন রফিক নামে এক কাল্পনিক কর্মী ৮ বছর চাকরির পর ছাড়ছেন, শেষ মাসের মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা। তিনি জানতে চান গ্র্যাচুইটি কত দাঁড়াবে। গ্র্যাচুইটি ক্যালকুলেটরে কয়েকটি সংখ্যা বসালেই উত্তর আসে ২,৪০,০০০ টাকা। এই লেখায় দেখব সেই অঙ্ক কীভাবে আসে, ছয়টি ঘরে কী বসবে আর কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। উদাহরণের সব অঙ্ক আমি টুলের নিজের গণনার ফাংশন Node-এ চালিয়ে বের করেছি। রফিক ও তাঁর বেতন কাল্পনিক।

সূত্রটি তিন ধাপের

তিন ধাপ: ৩০,০০০ ÷ ৩০ = ১,০০০ এক দিনের মজুরি, × ৩০ দিন = ৩০,০০০ প্রতি বছরের জন্য, × ৮ বছর = ২,৪০,০০০
এক দিনের মজুরিকে বছরের দিন ও বছর দিয়ে গুণ করলেই গ্র্যাচুইটি।

টুলের সূত্র: গ্র্যাচুইটি = (শেষ মাসের মূল বেতন ÷ ৩০) × প্রতি পূর্ণ বছরের দিন × পূর্ণ বছর।

  1. এক দিনের মজুরি। মূল বেতনকে ৩০ দিয়ে ভাগ। রফিকের ক্ষেত্রে ৩০,০০০ ÷ ৩০ = ১,০০০ টাকা। মাসে কয়দিন কাজ হয়, সে কথা এখানে ধরা হয় না; ভাজক সবসময় ৩০।
  2. এক বছরের জন্য কত। এক দিনের মজুরিকে প্রতি বছরের দিনসংখ্যা দিয়ে গুণ। ৩০ দিন ধরলে ১,০০০ × ৩০ = ৩০,০০০ টাকা, অর্থাৎ এখানে প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য এক মাসের মূল বেতন।
  3. মোট। তাকে পূর্ণ বছর দিয়ে গুণ। ৩০,০০০ × ৮ = ২,৪০,০০০ টাকা।

টুল ফলের নিচে হিসাবটি এক লাইনে লিখে দেখায়, যেমন “হিসাব: ৳ ১,০০০ × ৩০ দিন × ৮ বছর।”, আর আলাদা করে দেখায় গোনা পূর্ণ বছর ও এক দিনের মজুরি। হিসাব হাতে মেলাতে চাইলে এই লাইনই যথেষ্ট। শতকরা বা ভাগের হিসাবে আটকালে শতকরা হিসাবের গাইড দেখতে পারেন।

ছয়টি ঘরে কী বসবে

টুল খুললে ছয়টি ঘর পাবেন। শুরুর মানগুলো মূল বেতন ৩০,০০০, ৮ বছর, ০ অতিরিক্ত মাস, বছরে ৩০ দিন, ন্যূনতম মেয়াদ ৫ বছর, আর ৬ মাসের বেশি অংশ “গোনা হবে না”। এই মানেই রফিকের ২,৪০,০০০ আসে।

  • শেষ মাসের মূল বেতন (৳): কোন বেতন, সে কথা পরের অংশে।
  • চাকরির মেয়াদ: বছর ও এর সঙ্গে অতিরিক্ত মাস: যেমন ৭ বছর ৮ মাস হলে ৭ ও ৮। মাসের ঘরে ০ থেকে ১১ চলে, ১২ বা তার বেশি দিলে ত্রুটির বার্তা আসে।
  • প্রতি পূর্ণ বছরে কত দিনের বেতন: আপনার ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য।
  • ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ (বছর): এর কম চাকরি হলে টুল গ্র্যাচুইটি শূন্য দেখায়।
  • ৬ মাসের বেশি অংশ: গোনা হবে না, নাকি পূর্ণ এক বছর ধরা হবে। এই দুটি ঘরের আচরণ নিয়ে আলাদা গাইড আছে: গ্র্যাচুইটিতে চাকরির মেয়াদ ও ৬ মাসের নিয়ম।

দিনের সংখ্যা আর ন্যূনতম মেয়াদ টুল নিজে ঠিক করে না, কারণ এগুলো আইন, চুক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নীতিভেদে আলাদা হতে পারে। শুরুর মান ৩০ ও ৫ কোনো আইনের ঘোষণা নয়, শুধু একটি শুরুর বিন্দু। আপনার ক্ষেত্রে কোনটি খাটে, তা চাকরির চুক্তি, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা বা এইচআর থেকে জেনে বসান।

কোন বেতন বসাবেন

একই ৮ বছর ও ৩০ দিনে তিন রকম বেতন বসালে তিন রকম ফল: যোগদানের বেতন ১৫,০০০ থেকে ১,২০,০০০, শেষ মাসের মূল বেতন ৩০,০০০ থেকে ২,৪০,০০০, মোট বেতন ৫০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০
বেতনের ঘরে কোন সংখ্যা বসছে, তার ওপরই পুরো ফল নির্ভর করে।

টুল ঘরে বসানো সংখ্যাকেই “শেষ মাসের মূল বেতন” ধরে। সংখ্যাটি ভুল হলে বাকি সব হিসাব নিখুঁত হয়েও ফল ভুল আসবে। ৮ বছর ও ৩০ দিন ধরে তিনটি সম্ভাব্য ভুল দেখুন (সংখ্যাগুলো কাল্পনিক):

ঘরে যা বসালেনবেতনএক দিনের মজুরিগ্র্যাচুইটি
যোগদানের সময়ের মূল বেতন১৫,০০০৫০০১,২০,০০০
শেষ মাসের মূল বেতন (টুলের নিয়ম)৩০,০০০১,০০০২,৪০,০০০
শেষ মাসের মোট বেতন৫০,০০০১,৬৬৬.৬৭৪,০০,০০০

একই চাকরি, একই মেয়াদ, অথচ ফলের ব্যবধান ২,৮০,০০০ টাকা। টুলের নিয়ম শেষ মাসের বেতন, প্রথম বেতন নয়। আর মূল বেতন ও মোট বেতন ভিন্ন জিনিস; বাড়িভাড়া, যাতায়াত বা অন্য ভাতা মোট বেতনে থাকে, মূল বেতনে নয়। আপনার প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটি কোন বেতনের ওপর হিসাব হয়, তা চুক্তি বা নীতিতে দেখে নিন। টুল এ বিষয়ে কিছু বলে না।

দিনের সংখ্যা বদলালে

মূল বেতন ৫০,০০০ ও ১০ বছরে প্রতি বছরের দিন ১৫, ৩০, ৪৫ ও ৬০ হলে গ্র্যাচুইটি ২,৫০,০০০, ৫,০০,০০০, ৭,৫০,০০০ ও ১০,০০,০০০ টাকা
দিন দ্বিগুণ হলে অঙ্কও ঠিক দ্বিগুণ হয়।

দিনের ঘরটি সবচেয়ে সরাসরি ফল বদলায়। মূল বেতন ৫০,০০০ আর ১০ বছর ধরে (সংখ্যাগুলো কাল্পনিক):

প্রতি বছরে দিনগ্র্যাচুইটি
১৫২,৫০,০০০
৩০৫,০০,০০০
৪৫৭,৫০,০০০
৬০১০,০০,০০০

এক দিনের মজুরি এখানে ৫০,০০০ ÷ ৩০ = ১,৬৬৬.৬৬৬… টাকা, ঠিক বিভাজ্য নয়। টুল পর্দায় তা ১,৬৬৬.৬৭ দেখায়, কিন্তু গুণ করার সময় পুরো দশমিকটি ধরে, শেষে অঙ্ক দুই দশমিকে গোল করে। তাই ৩০ দিনে ফল ঠিক ৫,০০,০০০। আপনি যদি ক্যালকুলেটরে ১,৬৬৬.৬৭ × ৩০ × ১০ করেন, পাবেন ৫,০০,০০১। এক টাকার এই তফাত ভুল নয়, গোলের ফল।

নিজে মিলিয়ে নেওয়ার তিন ধাপ

  1. মূল বেতনকে ৩০ দিয়ে ভাগ করুন। টুলের “এক দিনের মজুরি” ঘরের সঙ্গে মিলবে।
  2. ফলকে দিন দিয়ে, তারপর টুলের “গোনা পূর্ণ বছর” দিয়ে গুণ করুন।
  3. অঙ্ক না মিললে আগে দেখুন বছরের সংখ্যা। ৬ মাসের নিয়ম বা ন্যূনতম মেয়াদের কারণে বছর আপনার ভাবা সংখ্যার চেয়ে আলাদা হতে পারে।

যা মনে রাখবেন

  • এটি আনুমানিক হিসাব। টুল কোনো আইনের ধারা নিশ্চিত করে না এবং কর, ছুটি নগদায়ন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো অন্য পাওনা ধরে না।
  • চূড়ান্ত অঙ্ক প্রতিষ্ঠানের। আপনার পাওনা নিশ্চিত করতে এইচআর বা শ্রম আইনের মূল পাঠ দেখুন।
  • এক বেতনেই হিসাব। চাকরির মাঝখানে বেতন বদলালে টুল শুধু আপনার দেওয়া শেষ মাসের সংখ্যাটিই ধরে।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: লেখার সব অঙ্ক টুলের সোর্স কোড পড়ে আর তার গণনার ফাংশন Node-এ চালিয়ে মেলানো। টুলটি আসল ব্রাউজারে খুলে চালিয়ে দেখিনি। রফিক ও সব বেতন কাল্পনিক। দিনের সংখ্যা বা ন্যূনতম মেয়াদ নিয়ে এখানে কোনো আইনি দাবি নেই। হালনাগাদ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

মূল বেতন না মোট বেতন বসাব?

টুল যা বসান তা-ই “মূল বেতন” ধরে। কোনটি ধরা হবে তা আপনার চুক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নীতিতে থাকে। সেখান থেকে জেনে বসান।

৭.৫ বছর লিখলে কী হয়?

বছরের ঘরে দশমিক দিলে ভগ্নাংশ বাদ যায়, ৭.৫ লিখলে ৭ ধরা হয়। ৭ বছর ৬ মাস হলে বছরের ঘরে ৭ আর মাসের ঘরে ৬ লিখুন।

বছর ৬০-এর বেশি বা দিন ৩৬৫-এর বেশি দিলে?

টুল ফল না দেখিয়ে ত্রুটির বার্তা দেয়: বেতন ও দিন শূন্যের বেশি, বছর ৬০-এর মধ্যে এবং অতিরিক্ত মাস ০ থেকে ১১-এর মধ্যে হতে হবে।

এখান থেকে পাওয়া অঙ্কই কি আমি পাব?

না, এটি আনুমানিক। প্রতিষ্ঠানের নীতি, চুক্তি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর আসল অঙ্ক নির্ভর করে। টুলের অঙ্ক নিয়ে এইচআরের সঙ্গে কথা বলার সময় হিসাবের এক লাইনটি সঙ্গে রাখলে আলোচনা সহজ হয়।