
ফারজানা নামে এক কাল্পনিক পাঠককে অফিসে বাংলায় চিঠি টাইপ করতে হয়। বাংলা টাইপিং টেস্টে প্রথম দিন এক মিনিটে তিনি পেলেন ১৯ শব্দ প্রতি মিনিট, নির্ভুলতা ৮০%। তাঁর প্রশ্ন, আগে গতি বাড়াবেন নাকি ভুল কমাবেন? টুলের মাপার নিয়ম ধরে এর একটি পরিষ্কার উত্তর আছে। এই লেখায় সেটি আর তার সঙ্গে একটি সহজ অনুশীলনের ধারা আছে। মাপার নিয়ম আলাদা করে জানতে বাংলা টাইপিং স্পিড কীভাবে মাপা হয় গাইড পড়ুন।
প্রথমে নিজের শুরুর মাপ নিন
তিনটি অনুচ্ছেদ একবার করে ১ মিনিটের টেস্টে টাইপ করুন (“নতুন অনুচ্ছেদ” চাপলে অনুচ্ছেদ বদলায়)। প্রতিবার গতি ও নির্ভুলতা কোথাও লিখে রাখুন। এই সংখ্যাই আপনার শুরুর মাপ, পরে তুলনা চলবে এর সঙ্গে। টুলের ফল অন্য সাইট বা চাকরির পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলবে না, তাই নিজের উন্নতি মাপতে সব সময় এই একই টেস্ট ব্যবহার করুন।
কেন নির্ভুলতা আগে

টুলের গতির সূত্রে শুধু সঠিক অক্ষর গোনা হয়। তাই ভুলে-ভরা দ্রুত টাইপ ধীর কিন্তু নির্ভুল টাইপের চেয়ে বেশি এগোয় না। কাল্পনিক দুজনের হিসাব দেখুন:
- ক: মিনিটে ২০০ অক্ষর লেখেন, ৮৫% ঠিক। ঠিক অক্ষর ১৭০, গতি = ১৭০ ÷ ৫ = ৩৪ শব্দ।
- খ: মিনিটে ১৭৫ অক্ষর লেখেন, ৯৮% ঠিক। ঠিক অক্ষর ১৭১.৫, গতি = ১৭১.৫ ÷ ৫ = ৩৪.৩ শব্দ।
প্রায় একই গতি, অথচ ক-এর লেখায় প্রতি ১০০ অক্ষরে ১৫টি ভুল। টুল দেখে আপনার ঘরের শেষ লেখা, তাই ক ভুল ঠিক করে নিলে নির্ভুলতা ফেরে, কিন্তু ঠিক করতে যে সময় যায় তা ঘড়ি থেকে কাটা পড়ে। ছাপার আগের চিঠিতে ভুল থাকলে তা ঠিক করার কাজটিও আপনারই। আর শুধু গতি বাড়ালে ভুল বাড়ার ঝুঁকি থাকে, যেমন একটি ফাঁক বাদ পড়ে পরের সব অক্ষর সরে যাওয়া। সেটি সরাসরি নির্ভুলতার সংখ্যায় ধরা পড়ে।
পর্দার রং দেখে ভুল ধরুন

টেস্টের সময় ওপরের অনুচ্ছেদের শব্দগুলো রং বদলায়। রংগুলোর মানে:
- সবুজ অক্ষর: শব্দটি ঠিক লিখে ফেলেছেন।
- লাল ঢেউ-দাগ: শব্দ পেরিয়ে গেছেন, কিন্তু শব্দটি মেলেনি। ছবির “পারে” (লক্ষ্য “পাড়ে”) এমন।
- হালকা সবুজ ঘর: এই শব্দটি এখন লিখছেন, এ পর্যন্ত যা লিখেছেন তা শব্দের শুরুর সঙ্গে মেলে।
- লাল আভা ও ঢেউ-দাগ: এই শব্দ এখন লিখছেন, কিন্তু এ পর্যন্ত লেখা অংশ শব্দের শুরুর সঙ্গে মেলে না। ছবির দ্বিতীয় সারির “বিখ” লিখলে “বিকেলের” ঘরের এমন হয়।
অভ্যাসটি সহজ: লাল ঢেউ-দাগ বা লাল আভা দেখামাত্র ব্যাকস্পেস দিন। যে ঘর লাল হয়েছে তা মুছে ঠিক করতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড, আর জমতে দিলে একটি বাদ-পড়া ফাঁক পুরো লাইনের নির্ভুলতা নষ্ট করে। রঙের একটি সীমা মনে রাখুন: রং শব্দ ধরে ঠিক হয় ফাঁক দেখে, আর নির্ভুলতা চলে চিহ্নের জায়গা ধরে। তাই বাড়তি বা বাদ-পড়া ফাঁক থাকলে রঙের ছবি আর সংখ্যা সব সময় সম্পূর্ণ এক কথা বলবে না।
অনুশীলনের ধারা: ছোট, নিয়মিত, লিখে রাখা

ফারজানা নিজে একটি খাতা রাখলেন। পাঁচটি সারি (সবগুলোই ১ মিনিটের টেস্ট, কাল্পনিক):
| দিন | টাইপ করা অক্ষর | ঠিক অক্ষর | গতি | নির্ভুলতা |
|---|---|---|---|---|
| ১ম | ১২০ | ৯৬ | ১৯ | ৮০% |
| ৩য় | ১১৮ | ১০৮ | ২২ | ৯২% |
| ৭ম | ১২৫ | ১১৯ | ২৪ | ৯৫% |
| ১০ম | ১৩৫ | ১৩০ | ২৬ | ৯৬% |
| ১৪তম | ১৪২ | ১৩৮ | ২৮ | ৯৭% |
গতি = ঠিক অক্ষর ÷ ৫ (এক মিনিটে), যেমন প্রথম সারিতে ৯৬ ÷ ৫ = ১৯.২, পর্দায় ১৯। শেষ সারিতে ১৩৮ ÷ ৫ = ২৭.৬, পর্দায় ২৮। লক্ষ করুন, ফারজানা দ্বিতীয় সারিতে টাইপ করা অক্ষর আসলে কমিয়ে (১২০ থেকে ১১৮) ঠিক অক্ষর বাড়িয়েছেন। গতির বৃদ্ধি এসেছে নির্ভুলতা থেকে।
এখানে একটি নিয়ম আমার প্রস্তাব: নির্ভুলতা টানা দুবার ৯৫% বা তার বেশি এলে তবেই গতি বাড়ানোর চেষ্টা করুন, তার আগে নয়। এটি আমার সাজানো সহজ নিয়ম, টুল বা কোনো পরীক্ষার বিধি নয়। ৯৫% সংখ্যাটিও নিজের সুবিধামতো বদলে নিতে পারেন। টুলের একটি অনুচ্ছেদেও আছে, প্রতিদিন দশ মিনিট অভ্যাস করলে কয়েক সপ্তাহে পরিবর্তন চোখে পড়বে। কোন সংখ্যাটি কতদিনে আসবে, তা মানুষভেদে আলাদা, আমি কোনো সময়ের আশ্বাস দিচ্ছি না।
মুখস্থের ঝুঁকি আর ছোট অনুচ্ছেদের সীমা
টুলে অনুচ্ছেদ মাত্র তিনটি, প্রতিটি ১৭৯ থেকে ২২৪ চিহ্নের। “নতুন অনুচ্ছেদ” চাপলে আগেরটি আবার আসে না, কিন্তু তিনটি দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে কয়েক দিনেই লেখা প্রায় মুখস্থ হয়ে যায়। তখন গতি বাড়লে সেটি আসল উন্নতি নয়। তাই মাঝেমধ্যে নিজের হাতের লেখা (চিঠি, খবর, যা আপনার কাজে লাগে) অনুলিপি করে টাইপ করুন। সেটি আপনার আসল কাজের কাছাকাছি, যদিও টুল তার ফল মাপবে না।
আরেকটি সীমা: অনুচ্ছেদ ছোট বলে ২ বা ৩ মিনিট বাছলেও টেস্ট শেষ হবে ওই ২০০ চিহ্নের আশপাশেই। যেমন ৩০ শব্দ প্রতি মিনিটে চললে ১৭৯ চিহ্নের অনুচ্ছেদ প্রায় ৭২ সেকেন্ডে ফুরোয়। তাই দীর্ঘ সময় ধরে টাইপের ক্লান্তি বা স্থিরতা এই টুলে মাপা যায় না। সেই অনুশীলন নিজের লেখা দিয়ে করতে হবে।
কীবোর্ড আর অভ্যাস
টুল Unicode বাংলা বের হয় এমন যেকোনো কীবোর্ডে চলে, যেমন অভ্র ফোনেটিক বা ফোনের বাংলা কীবোর্ড। কোন কীবোর্ডে কাজ করবেন তা নিজে ঠিক করুন, আর অনুশীলনের সময় একটিতেই লেগে থাকুন। কীবোর্ড বদলালে কী-র জায়গা নতুন করে মনে রাখতে হয়, আর সেই সময়ে সংখ্যা তুলনার যোগ্য থাকে না। বিজয়ের পুরোনো ফন্টভিত্তিক আউটপুটে টেস্ট মিলবে না। ফোনে টাইপ করলে শব্দ-পূর্বাভাস বা স্বয়ংক্রিয় পূরণ লেখা একসঙ্গে বসাতে পারে, আর টুল তেমন ফল ধরে না (গতি ৩০০ ছাড়ালে)। পুরোনো বিজয় লেখা ঠিক করতে বিজয় থেকে ইউনিকোড গাইড দেখুন।
যা মনে রাখবেন
- অফিসিয়াল মান নয়: এই টুলের গতি ও নির্ভুলতা একটি সরল সূত্রে। চাকরি বা পরীক্ষার টাইপিং-মান আলাদা হতে পারে। সেটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন, আমি এখানে কোনো লক্ষ্যমাত্রা দিইনি।
- তুলনা নিজের সঙ্গে: অন্য সাইটের সংখ্যার সঙ্গে নয়, নিজের আগের ফলের সঙ্গে মেলান।
- ৯৫%-এর নিয়ম: এটি আমার প্রস্তাব, কোনো সরকারি বা শিক্ষাগত মান নয়।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: রঙের মানে, অনুচ্ছেদের দৈর্ঘ্য ও গতি-নির্ভুলতার সব সংখ্যা টুলের সোর্স কোড ও স্টাইলশিট পড়ে আর তার ফাংশন Node-এ চালিয়ে মেলানো। টুলটি আসল ব্রাউজারে খুলে চালিয়ে দেখিনি। ফারজানা, ক ও খ কাল্পনিক, তাদের সব সংখ্যা উদাহরণ মাত্র। হালনাগাদ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
আগে গতি বাড়াব নাকি নির্ভুলতা?
টুলের হিসাবে আগে নির্ভুলতা। গতিতে শুধু সঠিক অক্ষর গোনা হয়, তাই ভুল কমালে গতিও সরাসরি বাড়ে। উপরের কাল্পনিক ক ও খ-র গতি প্রায় সমান, যদিও তাদের ভুলের হার ভিন্ন।
প্রতিদিন কতক্ষণ অনুশীলন করব?
টুলের একটি অনুচ্ছেদে প্রতিদিন দশ মিনিটের কথা আছে। সঠিক সময় মানুষভেদে আলাদা, তাই নিজের সুবিধামতো নিয়মিত সময় ঠিক করুন। আমি কোনো নির্দিষ্ট ফলের সময়সীমা দিচ্ছি না।
একই অনুচ্ছেদ বারবার করলে কী হয়?
লেখা মুখস্থ হয়ে যায়, তাই গতি বেশি আসতে পারে কিন্তু সেটি আসল উন্নতি নয়। “নতুন অনুচ্ছেদ” চাপুন, আর মাঝে মাঝে নিজের লেখা দিয়েও অনুশীলন করুন।
ভুল করলে কি মুছে ঠিক করা ভালো?
হ্যাঁ। টুল দেখে আপনার ঘরের শেষ লেখা, কতবার মুছেছেন তা নয়, তাই ঠিক করলে নির্ভুলতা ফেরে। শুধু ঠিক করতে যে সময় যায় তা ঘড়ি থেকে কাটা পড়ে। ভুল জমতে না দিয়ে ধরামাত্র ঠিক করুন।
ফোনে টাইপ করে কি মাপা যায়?
যায়, যদি কীবোর্ড Unicode বাংলা দেয়। শব্দ-পূর্বাভাস চালু থাকলে লেখা একসঙ্গে বসে ৩০০ শব্দ প্রতি মিনিটের সীমা ছাড়াতে পারে, তখন টুল ফল গোনে না।
