SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটর

SSC বা HSC-র বিষয়ভিত্তিক গ্রেড বা নম্বর দিয়ে ৫.০ স্কেলে GPA বের করুন, ৪র্থ বিষয়সহ ও ছাড়া।

এসএসসি বা এইচএসসির প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড (বা নম্বর) দিলে এই টুল ৫.০ স্কেলে GPA বের করে। ৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয় চিহ্নিত করলে তার ২-এর ওপরের পয়েন্ট যোগ করে GPA দেখায়, সঙ্গে ৪র্থ বিষয় ছাড়া GPA-ও। কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে ফল অকৃতকার্য ধরা হয়। কাজ আপনার ব্রাউজারেই হয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. গ্রেড বেছে নেবেন, না নম্বর লিখবেন, তা ঠিক করুন। মার্কশিটে গ্রেড থাকলে সেটাই বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
  2. প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড বা নম্বর দিন। বিষয় বেশি হলে "বিষয় যোগ করুন" চাপুন, ৪র্থ বিষয়ের সারিতে টিক দিন।
  3. GPA সঙ্গে সঙ্গে নিচে দেখাবে: ৪র্থ বিষয়সহ, ছাড়া, এবং হিসাবের ধাপ।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

SSC/HSC-র GPA কীভাবে হিসাব হয়

প্রতিটি বিষয়ের নম্বর থেকে একটি গ্রেড ও গ্রেড পয়েন্ট আসে: A+ (৮০–১০০) ৫.০০, A (৭০–৭৯) ৪.০০, A- (৬০–৬৯) ৩.৫০, B (৫০–৫৯) ৩.০০, C (৪০–৪৯) ২.০০, D (৩৩–৩৯) ১.০০, আর ৩৩-এর নিচে F, পয়েন্ট ০। আবশ্যিক বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করে বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে GPA পাওয়া যায়। ৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয়ে ২-এর বেশি পয়েন্ট পেলে অতিরিক্ত অংশটুকু (পয়েন্ট − ২) যোগফলে যোগ হয়, কিন্তু ভাগ হয় শুধু আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে। GPA ৫.০০-এর বেশি দেখানো হয় না।

হাতে মেলানো উদাহরণ

  • ছয়টি আবশ্যিক বিষয়: A+, A+, A+, A, A, A-। পয়েন্ট ৫ + ৫ + ৫ + ৪ + ৪ + ৩.৫ = ২৬.৫। GPA = ২৬.৫ ÷ ৬ = ৪.৪১৬৭, দুই দশমিকে ৪.৪২।
  • একই ছয় বিষয়ের সঙ্গে ৪র্থ বিষয়ে B (৩.০০): অতিরিক্ত ৩ − ২ = ১। (২৬.৫ + ১) ÷ ৬ = ২৭.৫ ÷ ৬ = ৪.৫৮৩৩, দুই দশমিকে ৪.৫৮।
  • ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ে সবই A (৪.০০), ৪র্থ বিষয়ে A+ (৫.০০): অতিরিক্ত ৫ − ২ = ৩। (২৪ + ৩) ÷ ৬ = ৪.৫০। ৪র্থ বিষয় ছাড়া ২৪ ÷ ৬ = ৪.০০।
  • পাঁচটিতে A+ ও একটিতে A, ৪র্থ বিষয়ে A+: যোগফল ২৯ + ৩ = ৩২, ৩২ ÷ ৬ = ৫.৩৩। কিন্তু GPA সর্বোচ্চ ৫.০০ ধরা হয়।

সাধারণ ভুল

  • ৪র্থ বিষয়ের পুরো পয়েন্ট আবশ্যিক বিষয়ের তালিকায় ধরা। এতে GPA বেশি আসে। শুধু ২-এর ওপরের অংশ যোগ হয়।
  • ভাগের সংখ্যায় ৪র্থ বিষয় গোনা। ভাগ হয় আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে।
  • একটি বিষয়ে F থাকলেও বাকিগুলো দিয়ে GPA বের করা। কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে ফল অকৃতকার্য, তাই এই টুল তখন GPA ০.০০ দেখায়।
  • দুই পত্রের বিষয়ের (যেমন বাংলা ১ম ও ২য় পত্র) দুটি আলাদা সারি বসানো। মার্কশিটে যেভাবে বিষয়ের একটি গ্রেড পয়েন্ট দেওয়া আছে, সেভাবে একটি সারি বসান।

সূত্র ও সীমাবদ্ধতা

গ্রেডের স্কেল মিলিয়েছি নেদারল্যান্ডসের সরকারি সংস্থা Nuffic-এর বাংলাদেশ-নির্দেশিকা ও আরও কয়েকটি প্রকাশিত লেখার সঙ্গে; ৪র্থ বিষয়ের নিয়ম মিলেছে কয়েকটি শিক্ষা-সহায়ক লেখায়। শিক্ষা বোর্ডের মূল বিজ্ঞপ্তি আমরা সরাসরি দেখিনি। বোর্ডের গোল করার নিয়ম, কোনো বিষয়ের আলাদা অংশের পাসমার্ক এবং মাদ্রাসা বা কারিগরি বোর্ডের সামান্য ফারাক এই টুল ধরে না। চূড়ান্ত ফল সবসময় আপনার মার্কশিটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০ স্কেলের হিসাব লাগলে দেখুন CGPA ক্যালকুলেটর।

প্রশ্ন ও উত্তর

গ্রেড পয়েন্ট কীভাবে ধরা হয়?

A+ (৮০–১০০) ৫.০০, A (৭০–৭৯) ৪.০০, A- (৬০–৬৯) ৩.৫০, B (৫০–৫৯) ৩.০০, C (৪০–৪৯) ২.০০, D (৩৩–৩৯) ১.০০, ৩৩-এর নিচে F, পয়েন্ট ০।

৪র্থ বিষয় কীভাবে যোগ হয়?

৪র্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিয়ে যা থাকে, তা আবশ্যিক বিষয়গুলোর পয়েন্টের যোগফলের সঙ্গে যোগ হয়। ভাগ হয় আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে। ৪র্থ বিষয়ে ২ বা তার কম পেলে কিছু যোগ হয় না।

GPA কি ৫.০০-এর বেশি হতে পারে?

না। হিসাবে ৫-এর বেশি এলেও GPA সর্বোচ্চ ৫.০০ ধরা হয়।

একটি বিষয়ে F পেলে কী হয়?

কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে ফল অকৃতকার্য ধরা হয়, এই টুল তখন GPA ০.০০ দেখায়। ৪র্থ বিষয়ে F হলে আবশ্যিক বিষয়ের ফল নষ্ট হয় না, শুধু অতিরিক্ত পয়েন্ট যোগ হয় না।