
হালনাগাদ নোট: এই লেখার কিছু হার এখনো মূল সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়নি (SSC/HSC গ্রেড স্কেল (নম্বর → গ্রেড পয়েন্ট))। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে দেখে নিন।
SSC বা HSC-র মার্কশিটে ৪র্থ বিষয়ের গ্রেড দেখে অনেকেই ভাবেন, ওটাও বাকি বিষয়ের মতো গড়ে ঢুকে গেছে। আসলে ঢোকে না: ৪র্থ বিষয়ের পুরো পয়েন্ট নয়, শুধু ২.০০-এর ওপরের অংশটুকু যোগফলে যায়, আর ভাগ হয় আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়েই। এই গাইডে কাল্পনিক কয়েকটি ফলাফলে দেখবেন কোন গ্রেডে কত যোগ হয়, কোথায় লাভ বেশি, আর কোন ভুলে হিসাব ফুলে যায়। হিসাব মেলাতে SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটর খুলে রাখুন; শেষে টুলে মেলানোর ধাপও দেওয়া আছে।

নিয়মটা এক লাইনে
৪র্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিন। বাদ দেওয়ার পর শূন্য বা ঋণাত্মক এলে কিছু যোগ হয় না; ধনাত্মক হলে সেটি আবশ্যিক বিষয়গুলোর পয়েন্ট-যোগফলের সঙ্গে যোগ হয়। তারপর ভাগ করুন আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে। ৪র্থ বিষয় সেই সংখ্যায় গোনা হয় না। ফল ৫.০০-এর বেশি এলে ৫.০০ ধরা হয়।
সূত্রের আকারে: GPA = (আবশ্যিক বিষয়ের পয়েন্টের যোগফল + বোনাস) ÷ আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা, যেখানে বোনাস = ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট − ২ (০-এর কম হলে ০)। গ্রেডের স্কেল ও পুরো হিসাবের ধাপ আছে SSC/HSC GPA হিসাবের নিয়ম গাইডে; এখানে শুধু ৪র্থ বিষয়টি নিয়ে কথা।
কোন গ্রেডে কত যোগ হয়
| নম্বর | গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট | ৪র্থ বিষয় থেকে যোগ |
|---|---|---|---|
| ৮০–১০০ | A+ | ৫.০০ | ৩.০০ |
| ৭০–৭৯ | A | ৪.০০ | ২.০০ |
| ৬০–৬৯ | A- | ৩.৫০ | ১.৫০ |
| ৫০–৫৯ | B | ৩.০০ | ১.০০ |
| ৪০–৪৯ | C | ২.০০ | ০ |
| ৩৩–৩৯ | D | ১.০০ | ০ |
| ০–৩২ | F | ০.০০ | ০ |
C-তে পয়েন্ট ঠিক ২.০০, তাই বোনাস শূন্য: ৪০ নম্বরের C আর ৪৯ নম্বরের C-তে GPA-র দিক থেকে কোনো ফারাক নেই। টুলের হিসাবে ৪র্থ বিষয়ে D বা F পেলেও GPA কমে না, শুধু কিছু যোগ হয় না।
একটি পুরো উদাহরণ: একই ছয় বিষয়, ৪র্থ বিষয় আলাদা
ধরুন ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ে গ্রেড A+, A, A, A-, B, A+। পয়েন্ট ৫ + ৪ + ৪ + ৩.৫ + ৩ + ৫ = ২৪.৫ (এই ছয় গ্রেডের উদাহরণ SSC/HSC GPA হিসাবের নিয়ম গাইডেও আছে, ওখানকার ৪.০৮ ও ৪.৪২-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারবেন)। ৪র্থ বিষয় ছাড়া GPA = ২৪.৫ ÷ ৬ = ৪.০৮। এবার ৪র্থ বিষয়ের গ্রেড বদলে দেখি:
| ৪র্থ বিষয়ের গ্রেড | যোগ হয় | হিসাব | GPA |
|---|---|---|---|
| নেই | ০ | ২৪.৫ ÷ ৬ | ৪.০৮ |
| C, D বা F | ০ | ২৪.৫ ÷ ৬ | ৪.০৮ |
| B | ১.০০ | ২৫.৫ ÷ ৬ | ৪.২৫ |
| A- | ১.৫০ | ২৬ ÷ ৬ | ৪.৩৩ |
| A | ২.০০ | ২৬.৫ ÷ ৬ | ৪.৪২ |
| A+ | ৩.০০ | ২৭.৫ ÷ ৬ | ৪.৫৮ |

সবচেয়ে ভালো ৪র্থ বিষয়েও লাভ ০.৫০, কারণ বোনাস ৩ আসছে ছয় দিয়ে ভাগ হয়ে। ৪র্থ বিষয় আপনার GPA-কে সামান্য ওপরে ঠেলে, বদলে দেয় না।
কত বিষয়ে ভাগ হচ্ছে, তাতে লাভ বদলায়
একই বোনাস যত বেশি বিষয়ে ভাগ হয়, GPA-তে তার ওজন তত কম। ধরুন সব আবশ্যিক বিষয়ে A (৪.০০) আর ৪র্থ বিষয়ে A+ (বোনাস ৩.০০):
| আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা | ৪র্থ বিষয় ছাড়া | ৪র্থ বিষয়ে A+ সহ | লাভ |
|---|---|---|---|
| ৬ | ৪.০০ | ৪.৫০ | ০.৫০ |
| ৮ | ৪.০০ | ৪.৩৮ | ০.৩৮ |
| ৯ | ৪.০০ | ৪.৩৩ | ০.৩৩ |
এখানকার ৬, ৮ ও ৯ কাল্পনিক সংখ্যা। আপনার মার্কশিটে আবশ্যিক বিষয় কয়টি ধরা আছে, তা বোর্ড, শাখা ও বছরভেদে আলাদা হতে পারে, তাই মার্কশিট দেখে গুনে নিন। যে বিষয়ে একাধিক পত্র আছে, সেখানে মার্কশিটে বিষয়ের একটিই গ্রেড পয়েন্ট থাকলে একটিই সারি ধরুন। টুলে সারির সংখ্যাই ভাগের সংখ্যা। (৮ বিষয়ে ০.৩৭৫ দুই দশমিকে ০.৩৮ হয়েছে।)
GPA ৫.০০ ধরতে ৪র্থ বিষয় কখন কাজে লাগে
ধরুন ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ে পাঁচটিতে A+ আর একটিতে A-: পয়েন্ট ২৫ + ৩.৫ = ২৮.৫, GPA ৪.৭৫। ৫.০০ হতে যোগফল লাগে ৩০ (৩০ ÷ ৬), অর্থাৎ আরও ১.৫০ পয়েন্ট।
| ৪র্থ বিষয়ের গ্রেড | যোগ হয় | যোগফল | GPA |
|---|---|---|---|
| B | ১.০০ | ২৯.৫ | ৪.৯২ |
| A- | ১.৫০ | ৩০ | ৫.০০ |
| A | ২.০০ | ৩০.৫ | ৫.০০ (হিসাবে ৫.০৮৩৩) |
| A+ | ৩.০০ | ৩১.৫ | ৫.০০ (হিসাবে ৫.২৫) |
এখানে ৪র্থ বিষয়ে অন্তত A- লাগছে; A বা A+ হলে বাড়তি অংশ ৫.০০-এর সীমায় আটকে যায়। একইভাবে পাঁচটিতে A+ ও একটিতে A (যোগফল ২৯, GPA ৪.৮৩) থাকলে ৪র্থ বিষয়ে A+ এনে দেয় ৩২ ÷ ৬ = ৫.৩৩, যা ৫.০০ ধরা হয়।
৪র্থ বিষয়সহ ও ছাড়া: দুটি GPA
টুল দুটি অঙ্কই পাশাপাশি দেখায়: ৪র্থ বিষয়সহ GPA, ৪র্থ বিষয় ছাড়া GPA আর ৪র্থ বিষয় থেকে যোগ হওয়া পয়েন্ট। কোনো ফর্ম বা সার্কুলারে GPA চাইলে কোনটি চাওয়া হয়েছে তা দেখে বসান। আমরা একটি শিক্ষা-সহায়ক লেখায় পেয়েছি, কিছু বৃত্তি বা ভর্তির ফর্ম ৪র্থ বিষয় বাদে GPA চায়; কোন ফর্মে, তা আমরা যাচাই করিনি, তাই ফর্মের নিজের নির্দেশনাই শেষ কথা। মার্কশিটে ছাপা GPA-ই চূড়ান্ত; ক্যালকুলেটরের অঙ্ক তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য।
যে ভুলগুলো বেশি হয়
- পুরো পয়েন্ট যোগ করা: A+ পেলে ৫ নয়, ৩ যোগ হয়। উদাহরণের ছয় বিষয়ে ৫ যোগ করলে ২৯.৫ ÷ ৬ = ৪.৯২ আসত, ঠিক ফল ৪.৫৮-এর জায়গায়।
- ৪র্থ বিষয়কে ভাগের সংখ্যায় গোনা: সাত দিয়ে ভাগ করলে ২৭.৫ ÷ ৭ = ৩.৯৩ আসে, যেন ৪র্থ বিষয় GPA কমিয়েছে। ভাগ হয় ছয় দিয়েই।
- C বা D-তে বোনাস ধরা: ২.০০-এর ওপরে না গেলে কিছু যোগ হয় না।
- দুটি সারিতে ৪র্থ বিষয় চিহ্ন দেওয়া: ৪র্থ বিষয় একটিই; টুল একাধিক চিহ্নিত দেখলে ত্রুটি দেখায়।
- আবশ্যিক বিষয়ের F ঢাকতে ৪র্থ বিষয়ের ভরসা: কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে টুল GPA ০.০০ দেখায়, ৪র্থ বিষয়ে A+ থাকলেও।
টুলে নিজের হিসাব মেলান
- SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটর খুলুন। শুরুতে সাতটি সারি থাকে, সবশেষটিতে “৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয়” চিহ্ন দেওয়া।
- প্রথম ছয় সারিতে গ্রেড বাছুন: A+, A, A, A-, B, A+। ৪র্থ সারি ফাঁকা থাকলে GPA ৪.০৮ আসবে।
- ৪র্থ সারিতে B বাছুন: ৪র্থ বিষয়সহ ৪.২৫, ছাড়া ৪.০৮, যোগ হওয়া পয়েন্ট ১.০০। A+ বাছলে ৪.৫৮ ও ৩.০০।
- নম্বর থেকে দেখতে “নম্বর লিখব” বাছুন। ছয় সারিতে ৮৫, ৭২, ৭৫, ৬২, ৫৫, ৯০ লিখলে ওই ছয় গ্রেডই হয়; ৪র্থ সারিতে ৭৮ (গ্রেড A) লিখলে ২.০০ যোগ হয়ে GPA ৪.৪২।
- আট বিষয়ের হিসাব দেখতে “+ বিষয় যোগ করুন” চেপে দুটি সারি বাড়ান। সব আবশ্যিক বিষয়ে A ও ৪র্থ বিষয়ে A+ দিলে ৪.৩৮ আসবে।
নম্বরকে শতাংশে আনতে চাইলে শতকরা হিসাব টুল আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব আলাদা: সেখানে ক্রেডিট-ভারযুক্ত গড় হয়, ৪র্থ বিষয়ের এই নিয়ম নেই; দেখুন CGPA ক্যালকুলেটর আর CGPA কীভাবে হিসাব করবেন গাইড।
সূত্র ও যাচাইয়ের অবস্থা: সব অঙ্ক Sellshop Tools ১.৩০.০-এর boardGpa (src/tools.src.js) হুবহু Node-এ চালিয়ে বের করা; ছয়, আট ও নয় বিষয়ের ছক এবং ৫.০০ ধরার উদাহরণও একই ফাংশনের ফল। “পয়েন্ট − ২” নিয়মটি পেয়েছি কয়েকটি শিক্ষা-সহায়ক লেখায় (educatebd.com এবং teachers.gov.bd-এর ব্লগে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর একটি লেখা), যেগুলো একই কথা বলে; শিক্ষা বোর্ডের মূল বিজ্ঞপ্তি আমরা নিজে খুলে দেখিনি। যাচাই করা হয়নি: ৪র্থ বিষয়ে F পেলে ফল অকৃতকার্য হয় কি না (টুল তা ধরে না), কোন বিষয় ৪র্থ হিসেবে নেওয়া যায়, শাখা ও বোর্ডভেদে আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা, বোর্ডের গোল করার নিয়ম, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের সামান্য ফারাক। এসএসসি-এইচএসসির বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর একটি পরিকল্পনা জুন ২০২৬-এ খবরে এসেছিল এবং এনসিটিবি তখন তা চূড়ান্ত নয় বলেছিল (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বাসস, ৬ জুন ২০২৬); চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খবর আমাদের দেখা সূত্রে পাইনি। বিষয়কাঠামো বদলালে এই লেখা হালনাগাদ করতে হবে। ২০২৬-এর এসএসসির ফলও ১০ আগস্ট ২০২৬-এ GPA ধরেই প্রকাশ হয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)। হালনাগাদ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬।
GPA ও CGPA-র ছয়টি প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় দেখতে পড়ুন GPA ও CGPA এক জায়গায়: হিসাব, ৪র্থ বিষয়, F, ভর্তির শর্ত।
সাধারণ প্রশ্ন
৪র্থ বিষয়ে A+ পেলে GPA কত বাড়ে?
যোগফলে ৩.০০ যোগ হয়, তাই GPA বাড়ে ৩ ÷ আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা: ছয় বিষয়ে ০.৫০, আট বিষয়ে ০.৩৮ (০.৩৭৫)। ফল ৫.০০ ছাড়ালে বাড়তি অংশ কাজে লাগে না।
৪র্থ বিষয়ে C বা D পেলে কি GPA কমে?
না। ২.০০ বা তার কম পয়েন্টে কিছু যোগ হয় না, আবার বাদও যায় না। টুলে তখন ৪র্থ বিষয়সহ ও ছাড়া GPA সমান দেখায়।
৪র্থ বিষয়ের পুরো পয়েন্ট কি যোগ হয়?
না, শুধু ২.০০-এর ওপরের অংশ। A+ (৫.০০) থেকে ৩.০০, A (৪.০০) থেকে ২.০০ যোগ হয়।
GPA কি ৫.০০-এর বেশি হতে পারে?
না। হিসাবে ৫.০০-এর বেশি এলেও সর্বোচ্চ ৫.০০ ধরা হয়; টুলও তা-ই দেখায়।
৪র্থ বিষয়ে F পেলে কি ফল অকৃতকার্য ধরা হয়?
টুল ধরে না: ৪র্থ বিষয়ের F-এ শুধু ০ যোগ হয়, আর আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে GPA ০.০০ দেখায়। তবে ৪র্থ বিষয়ে F-এর পাস-ফেল নিয়ম আমরা বোর্ডের মূল বিজ্ঞপ্তিতে মেলাইনি; মার্কশিট ও বোর্ডের ঘোষণাই ধর্তব্য।
