QR কোড বানানোর সহজ নিয়ম: লিংক বা লেখা থেকে স্ক্যান করা কোড

লিংক থেকে QR কোড বানানোর কাল্পনিক উদাহরণ, পাশে ২৫ × ২৫ ঘরের একটি কোড

ধরুন রুবি ঘরে বসে শাড়ির একটি অনলাইন পেজ চালান। নামটা কাল্পনিক, গল্পটাও। প্যাকেটের সঙ্গে একটা ছোট কার্ড দিতে চান, যাতে ক্রেতা পরের বার সরাসরি পেজে ঢুকতে পারেন। কিন্তু কার্ডে লম্বা লিংক ছাপলে কেউ সেটা টাইপ করে না। এখানেই কাজে আসে QR কোড: ফোনের ক্যামেরা ধরলেই লিংক খুলে যায়। QR কোড জেনারেটর টুলে কোডটা বানাতে এক মিনিটও লাগে না, আর টুল ব্রাউজারেই চলে, আলাদা অ্যাপ নামাতে হয় না।

এই লেখায় শুরুর কাজটা দেখাব: কোড বানানো, তাতে কী কী লেখা দেওয়া যায়, আর শেয়ার বা ছাপার আগে কী মিলিয়ে নেবেন। ছাপা কোডের মাপ, মাত্রা আর রং নিয়ে আলাদা একটি লেখা আছে: ছাপার জন্য QR কোড।

QR কোড আসলে কী

একটু সহজ করে বললে, QR কোড হলো একটা লেখাকে সাদা-কালো ঘরের ছবি করে রাখা। ফোনের ক্যামেরা সেই ছবি পড়ে লেখাটা ফিরিয়ে দেয়। লেখাটা ওয়েব ঠিকানা হলে ফোন সাধারণত সেটা খোলার প্রস্তাব দেয়। এর বেশি কিছু নয়। কোড নিজে কিছু চালায় না, তার কোনো মেয়াদও নেই। লিংক বা লেখা যতদিন ঠিক থাকে, কোডও ততদিন কাজ করে।

একটা কথা শুরুতেই মাথায় রাখুন: কোড বানানোর পর তার ভেতরের লেখা বদলানো যায় না। লিংক বদলাতে চাইলে নতুন কোড বানাতে হবে। তাই কার্ড বা পোস্টার ছাপতে দেওয়ার আগে একবার ভেবে নিন, ঠিকানাটা কি সত্যিই এটাই থাকবে।

তিন ধাপে কোড বানান

QR কোড বানানোর তিন ধাপ: লিংক বা লেখা বসানো, দরকারে বদলানো, স্ক্যান করে নামানো
তিন ধাপে কাজ শেষ।
  1. লিংক বা লেখা বসান। টুল খুললে ঘরে গোড়ার লেখা হিসেবে https://sellshop.com.bd বসানো থাকে। ওটা মুছে নিজের লিংক বা লেখা দিন। ঘর ফাঁকা থাকলে কোড আসে না, লেখা দিলেই নিচে কোড দেখা যায়।
  2. দরকার হলে বদলান। মাপ, ভুল সংশোধনের মাত্রা আর কোড ও পেছনের রং বদলানোর ঘর আছে। না ছুঁলেও চলে, কারণ গোড়ার সেটিং মাঝারি মাত্রা (M), ৩৮৪ px মাপ, সাদা পেছনে গাঢ় কোড। লেখা বা সেটিং বদলালে কোডও সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়।
  3. স্ক্যান করে দেখুন, তারপর নামান। নিজের ফোনের ক্যামেরা পর্দার কোডে ধরুন। ঠিক পাতাটি খুললে “PNG ডাউনলোড” বা “SVG ডাউনলোড” চাপুন। ফাইলের নাম হবে qr-code.png বা qr-code.svg। কম্পিউটারে Alt + D চাপলেও PNG নামে।

রুবির কার্ডের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। পেজের লিংক বসালেন, ফোনে স্ক্যান করে পেজ খুলল কি না দেখলেন, তারপর PNG নামিয়ে কার্ডের নকশায় বসালেন।

কী কী লেখা কোডে দেওয়া যায়

ওয়েব লিংক, ফোন নম্বর, ইমেইল ও ওয়াই-ফাইয়ের লেখা থেকে বানানো চারটি QR কোড, প্রতিটির ঘরের সংখ্যাসহ
একই মাত্রায় (M) চার ধরনের লেখার কোড। উদাহরণের নম্বর ও পাসওয়ার্ড কাল্পনিক।

ঘরে আপনি যা লিখবেন, টুল সেটাই লেখা হিসেবে কোডে ঢোকায়। ওয়েব লিংক সবচেয়ে চালু, তবে আরও কয়েকটি ধরন কাজে লাগে:

  • ওয়েব লিংক। https:// দিয়ে শুরু করে পুরো ঠিকানা দিন। শুধু sellshop.com.bd লিখলে কিছু ফোন সেটাকে লিংক না-ও ধরতে পারে।
  • ফোন নম্বর। tel:+8801700000000 ধরনের লেখা। অনেক ফোন এতে কল করার প্রস্তাব দেয়।
  • ইমেইল। mailto:hello@example.com ধরনের লেখা।
  • সাধারণ লেখা। বাংলা বা ইংরেজি ছোট বার্তা, যেমন “স্বাগতম”। ফোন সেটা পর্দায় দেখায়।
  • ওয়াই-ফাই। WIFI:T:WPA;S:CafeNet;P:coffee1234;; ধরনের লেখা (নেটওয়ার্কের নাম আর পাসওয়ার্ড কাল্পনিক)। তবে কোড যে-ই স্ক্যান করুক, পাসওয়ার্ড তার কাছে চলে যায়। তাই অতিথির জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক থাকলে সেটারই কোড বানান, মূল নেটওয়ার্কের নয়।

ঘরের হিসাবটাও দেখে রাখুন। একই মাত্রায় (M) ওয়েব লিংক, ফোন নম্বর আর ইমেইলের কোড হয় ২৫ × ২৫ ঘরের, ওয়াই-ফাইয়ের লেখাটির কোড ২৯ × ২৯। লেখা যত বড়, ঘর তত বেশি।

এখানে একটা সীমারেখা পরিষ্কার করা দরকার। টুল শুধু লেখাটা কোডে ঢোকায়। ফোন তা দিয়ে কী করবে, সেটা ঠিক করে ফোনের ক্যামেরা বা স্ক্যানার অ্যাপ। tel:, mailto: বা ওয়াই-ফাইয়ের লেখা সব ফোন একইভাবে বোঝে, এমন নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি না, কারণ এগুলো আমি আসল ফোনে পরীক্ষা করিনি। এসব কোড ছাপার আগে অন্তত দুটি আলাদা ফোনে চেষ্টা করে নিন।

লেখা অতিরিক্ত বড় হলে

লেখা এত বড় হয়ে গেলে টুল একটি বার্তা দেখায়: লেখাটি কোডে ধরছে না, লেখা ছোট করুন বা ভুল সংশোধনের মাত্রা কমান। ঠিক কত অক্ষর পর্যন্ত ধরে, তা আমি মাপিনি, তাই কোনো সীমা বলছি না। তবে একটা কথা বলা যায়: QR কোড লম্বা অনুচ্ছেদ রাখার জায়গা নয়। বেশি কিছু জানাতে চাইলে সেটা একটি পাতায় রেখে সেই পাতার লিংক কোডে দিন। লেখায় কত শব্দ আর অক্ষর আছে দেখতে শব্দ ও অক্ষর গণনা টুল আছে।

শেয়ার বা ছাপার আগে পাঁচটি পরীক্ষা

QR কোড শেয়ার বা ছাপার আগে পাঁচটি পরীক্ষা
জমা দেওয়ার আগে এক মিনিটের পরীক্ষা।
  1. নিজের ফোনে স্ক্যান করুন। আগে পর্দায়, তারপর ছাপা কাগজে। দুটোই চললে তবেই এগোন।
  2. লিংকটা শেষ পর্যন্ত খুলে দেখুন। স্ক্যানে পাতা খুলল, কিন্তু ভুল পাতা খুললে কাজ হলো না। একটি অক্ষর ভুল থাকলেও কোড দিব্যি তৈরি হয়, কোড সেই ভুল ঠিকানাই বহন করে।
  3. কোড গাঢ়, পেছন হালকা রাখুন। রং বদলালে টুল নিজেই সতর্ক করে, যদি কোড পেছনের চেয়ে হালকা হয় বা দুই রঙের পার্থক্য কম হয়।
  4. চারপাশের সাদা ফাঁকা জায়গা রাখুন। টুল কোডের চার ধারে চার ঘর পরিমাণ ফাঁকা নিজেই দেয়। নকশায় সেটা কেটে ফেলবেন না।
  5. অন্তত দুটি ফোনে চেষ্টা করুন। একটি ফোনে চললে সব ফোনে চলবেই, এমন নয়। পুরোনো ফোন হাতে থাকলে সেটিতেও দেখে নিন।

PNG না SVG

ফেসবুক পোস্ট, মেসেজ বা ছোট কার্ডের জন্য PNG চলে। টুলের মাপ-তালিকায় ২৫৬, ৩৮৪, ৫১২ আর ১০২৪ px আছে, আর ছাপার কাজে ১০২৪ px নিতে বলা আছে। ব্যানার বা পোস্টারের মতো বড় ছাপায় SVG নিন, কারণ SVG যত বড় করুন ঝাপসা হয় না। কেন, আর কোন মাপে কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আছে ছাপার লেখাটিতে।

কোথায় কোথায় কাজে লাগাবেন

রুবির কার্ড তো একটা জায়গা। একই কোড আরও কয়েক জায়গায় কাজে আসে, আর প্রতিটির জন্য আলাদা কোড বানাতে চাইলে প্রতিবার লিংক বদলে নতুন করে নামালেই হয়।

  • প্যাকেটের কার্ড বা ক্যাশমেমো। পেজের লিংক বা অর্ডারের ফর্মের লিংক।
  • দোকানের কাউন্টার বা জানালা। ফোন নম্বর বা দোকানের পেজ, যাতে পথচারী ছবি তুলে না রেখে সরাসরি স্ক্যান করে ফেলেন।
  • ভিজিটিং কার্ড। আপনার সব যোগাযোগের লিংক একটি পাতায় রেখে সেই পাতার কোড।
  • অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ। স্থান বা সময়ের তথ্যের পাতা, অথবা ছোট একটি স্বাগত বার্তা।
  • ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে ছবি। কেউ পর্দায় কোডটা দেখে অন্য ফোনে স্ক্যান করতে পারেন। এখানে PNG-ই যথেষ্ট।

একটি ছোট অভ্যাস কাজে লাগে: কোডের ঠিক নিচে লিংকটাও ছোট হরফে লিখে দিন। যার ফোনে স্ক্যান হলো না, তিনি অন্তত টাইপ করে ঢুকতে পারবেন। এটা আমার নিজের পরামর্শ, টুলের কোনো সুবিধা নয়। লিংক লম্বা হলে নিচে লেখাটাও লম্বা হবে, তাই ছোট লিংক রাখার কারণ এখানে আরও জোরালো হয়। সে নিয়েও আলাদা লেখায় বলেছি।

আপনার লেখা কোথায় যায়

কোড তৈরি হয় আপনার ব্রাউজারেই। যে লিংক বা লেখা দিলেন, তা টুল কোনো সার্ভারে পাঠায় না। কার্ডের নম্বর বা ব্যক্তিগত লিংকের মতো জিনিস দিলে এটা স্বস্তির কথা। তবে মনে রাখবেন, কোডটা একবার ছাপা বা শেয়ার হয়ে গেলে তার ভেতরের লেখা যে-কেউ স্ক্যান করে পড়তে পারবে। গোপন কিছু কোডে দেবেন না।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: এই টুল শুধু কোড বানায়। কোডে লোগো বসানো, স্ক্যান কত বার হলো গোনা বা কোডের লিংক পরে বদলানোর কোনো সুবিধা নেই। লেখার ধরনভেদে (ফোন, ইমেইল, ওয়াই-ফাই) ফোন কী করবে, তা আমি আসল ফোনে মাপিনি। কোডের ঘরের সংখ্যাগুলো টুলের নিজের লাইব্রেরি চালিয়ে বের করা। ছবির উদাহরণের লিংক, নম্বর ও পাসওয়ার্ড কাল্পনিক (sellshop.com.bd ছাড়া)। জমা দেওয়ার বা ছাপার আগে নিজে স্ক্যান করে মিলিয়ে নিন। হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

QR কোডের কি মেয়াদ থাকে?

না। লিংক বা লেখা যতদিন ঠিক থাকে, কোড ততদিনই কাজ করে।

বাংলা লেখা কোডে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, টুল বাংলা লেখা দিয়েও কোড বানায়। তবে বাংলা অক্ষর কোডে বেশি জায়গা নেয়, তাই ছোট বার্তার কোডও বড় দেখায়।

কোড বানানোর পর লিংক বদলানো যায়?

না। কোডের ভেতরে লেখাটা বসে গেছে। লিংক বদলাতে চাইলে নতুন কোড বানিয়ে নিতে হবে।

ছবি কোথায় নামে?

PNG আর SVG, দুটোই আপনার ব্রাউজারের ডাউনলোড ফোল্ডারে নামে। ফাইলের নাম qr-code.png ও qr-code.svg।

লেখা কি কোথাও জমা হয়?

না। কোড আপনার ব্রাউজারেই তৈরি হয়, লেখা সার্ভারে যায় না।