
ছবি থেকে PDF বানানো সহজ, এটা সবাই জানেন। কিন্তু ফাইলটা খুলে অনেকে দেখেন, ছবি পাতায় ছোট হয়ে এক কোণে বসে আছে, অথবা কিনারা ঘেঁষে এমনভাবে আছে যে ছাপলে কেটে যাবে। এর কারণ ছবির মাপ আর পাতার মাপ আলাদা, আর দুটোকে মেলানোর একটা নিয়ম আছে। ছবি → PDF টুলে সেই নিয়ম পাঁচটি সেটিংয়ে ধরা: পাতার মাপ, দিক, মার্জিন, ছবি বসানো আর ছবির মান। এই লেখায় দেখব সংখ্যাগুলো কোথা থেকে আসে।
সব হিসাব টুলের নিজের কোড থেকে নেওয়া আর হাতে মিলিয়ে দেখা। ছবিগুলো কাল্পনিক, তাই কোনো আসল ফাইলের সাইজ এখানে দাবি করা হয়নি। প্রথম ধাপের নিয়মগুলো আগে দেখতে চাইলে পড়ুন ছবি থেকে PDF বানানোর সহজ নিয়ম।
পয়েন্ট কী আর পাতা কত বড়
PDF-এ মাপ লেখা হয় পয়েন্টে। ১ পয়েন্ট মানে ইঞ্চির ৭২ ভাগের এক ভাগ। এই হিসাবে A4 পাতা ৫৯৫.২৮ × ৮৪১.৮৯ পয়েন্ট, যা ২১০ × ২৯৭ মিলিমিটারের সমান। Letter পাতা ৬১২ × ৭৯২ পয়েন্ট, মানে ৮.৫ × ১১ ইঞ্চি। বাংলাদেশে সাধারণত A4-ই চলে, তাই টুলেও সেটাই গোড়ায় বসানো।
ছবির মাপ পিক্সেলে। দুটোকে মেলানোর জন্য টুল একটি ধরে নেয়: ১ পিক্সেল = ০.৭৫ পয়েন্ট। এই সংখ্যাটা পরে বারবার আসবে। ১০০ পিক্সেলের ছবির “আসল মাপ” তাই ৭৫ পয়েন্ট।
মার্জিন: কিনারার ফাঁকা জায়গা
মার্জিনের তিনটি বিকল্প: নেই, ছোট আর মাঝারি। ছোট মানে ১৮ পয়েন্ট, প্রায় ৬ মিলিমিটার। মাঝারি মানে ৩৬ পয়েন্ট, প্রায় ১৩ মিলিমিটার। গোড়ার সেটিং ছোট। মার্জিন পাতার চার দিকেই সমান থাকে, আর ছবি তার ভেতরের ঘরে বসে।
একটা উদাহরণ নিন। ১,৮০০ × ১,৩৫০ পিক্সেলের ছবি, আড়াআড়ি A4 পাতা। মার্জিন না থাকলে ছবি বসে ৭৯৩.৭১ × ৫৯৫.২৮ পয়েন্টে, অর্থাৎ পাতার উচ্চতা পুরো ভরে। ছোট মার্জিনে ৭৪৫.৭১ × ৫৫৯.২৮, মাঝারিতে ৬৯৭.৭১ × ৫২৩.২৮। মার্জিন বাড়লে ছবি ছোট হয়, আর ছাপার সময় কিনারা কাটা পড়ার ভয় কমে। অনেক প্রিন্টার কাগজের একেবারে কিনারায় ছাপতে পারে না (প্রিন্টারভেদে আলাদা), তাই ছাপার ফাইলে মার্জিন না রাখা ঝুঁকির।
একটি ছবি, পুরো হিসাব
ধরুন একটি কাল্পনিক ছবি ৪,০০০ × ৩,০০০ পিক্সেলের, আর টুলের গোড়ার সেটিংয়ে (A4, ছোট মার্জিন, পাতা ভরে, মাঝারি মান) আপনি PDF বানাচ্ছেন। ধাপে ধাপে যা ঘটে:

- ছবি ছোট হয়। মাঝারি মানে ছবির লম্বা দিক সর্বোচ্চ ১,৮০০ পিক্সেল। ৪,০০০ থেকে ১,৮০০ মানে ০.৪৫ গুণ, তাই ছবি দাঁড়ায় ১,৮০০ × ১,৩৫০ পিক্সেল।
- পাতার দিক ঠিক হয়। ছবি চওড়া, তাই “নিজে ঠিক হবে” সেটিংয়ে পাতা আড়াআড়ি, ৮৪১.৮৯ × ৫৯৫.২৮ পয়েন্ট।
- মার্জিন বাদ যায়। চার দিক থেকে ১৮ করে বাদ দিলে ভেতরের ঘর ৮০৫.৮৯ × ৫৫৯.২৮।
- ছোট অনুপাতটা নেওয়া হয়। প্রস্থে ৮০৫.৮৯ ÷ ১,৮০০ = ০.৪৪৮, উচ্চতায় ৫৫৯.২৮ ÷ ১,৩৫০ = ০.৪১৪। ছোটটি নিলে ছবি দুই দিকেই ঘরে ঢোকে, তাই ০.৪১৪৩ (চার দশমিক পর্যন্ত)।
- ছবি বসে। ১,৮০০ × ০.৪১৪৩ = ৭৪৫.৭১ পয়েন্ট প্রস্থ, ১,৩৫০ × ০.৪১৪৩ = ৫৫৯.২৮ উচ্চতা। উচ্চতা ঘর ভরে ফেলেছে, প্রস্থে জায়গা বাকি। তাই ছবি মাঝখানে বসে, পাতার বাঁ ও ডান কিনারা থেকে ৪৮.০৯ পয়েন্ট করে ফাঁক, আর ওপর-নিচে ১৮।
এই কারণেই ছবির চার দিকের ফাঁক সমান হয় না। ছবির অনুপাত পাতার অনুপাতের সঙ্গে না মিললে যেদিকে আগে ঠেকে, সেদিকে ফাঁক কম থাকে।
পাতার দিক: খাড়া, আড়াআড়ি বা নিজে ঠিক
গোড়ার সেটিং “নিজে ঠিক হবে”: চওড়া ছবি আড়াআড়ি পাতায়, বাকি সব খাড়া পাতায় যায়। একটি ফাইলে খাড়া ও আড়াআড়ি পাতা মিশে থাকতে পারে, আর অনেক সময় সেটাই চাওয়া হয় না। সব পাতা একরকম চাইলে “সব পাতা খাড়া” বেছে নিন।
তবে খাড়া পাতায় চওড়া ছবির দাম দিতে হয়। ১,৬০০ × ১,০০০ পিক্সেলের একটি ছবি (ধরুন আইডি কার্ডের ছবি) আড়াআড়ি A4-তে বসে ৮০৫.৮৯ × ৫০৩.৬৮ পয়েন্টে। কিন্তু খাড়া A4-তে প্রস্থ আটকে যায় ৫৫৯.২৮-এ, উচ্চতা হয় ৩৪৯.৫৫, আর ওপর-নিচে প্রায় ২৪৬ পয়েন্ট করে ফাঁকা পড়ে। ছবি ছোট দেখায়, কিন্তু লেখা পড়া যায় কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। কার্ডে ছোট অক্ষর থাকলে আড়াআড়ি পাতাই ভালো।
“ছবির মাপেই পাতা” বাছলে দিক আর ছবি বসানোর সেটিং দুটোই অকেজো হয়ে ধূসর হয়ে যায়, কারণ তখন পাতা ছবির সমান। সেটা নিয়ে একটু পরে বলছি।
“পাতা ভরে” বনাম “ছোট ছবি বড় হবে না”
এই সেটিংটা বড় ছবিতে কোনো তফাত ঘটায় না, কারণ বড় ছবি দুই ক্ষেত্রেই পাতায় ঢোকার জন্য ছোট হয়। তফাত দেখা যায় ছোট ছবিতে। “পাতা ভরে” বাছলে টুল ছোট ছবিকেও টেনে বড় করে পাতা ভরায়। “ছোট ছবি বড় হবে না” বাছলে ছবি তার আসল মাপের (১ পিক্সেল = ০.৭৫ পয়েন্ট) চেয়ে বড় হয় না।

৬০০ × ৮০০ পিক্সেলের একটি ছবি খাড়া A4-তে বসালে: “পাতা ভরে”-তে ছবি দাঁড়ায় ৫৫৯.২৮ × ৭৪৫.৭১ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রতি পিক্সেল ০.৯৩ পয়েন্ট। আসল মাপের (০.৭৫) চেয়ে প্রায় ১.২৪ গুণ বড়। “বড় হবে না”-তে ছবি ৪৫০ × ৬০০ পয়েন্ট, প্রায় ১৫৯ × ২১২ মিলিমিটার, পাতার মাঝখানে। দুই পাশে ও ওপর-নিচে সাদা ফাঁক থাকে।
আরও ছোট ছবিতে ফারাক নাটকীয়। ৪০০ × ৩০০ পিক্সেলের একটি ছবি আড়াআড়ি A4-তে “পাতা ভরে”-তে প্রতি পিক্সেল ১.৮৬ পয়েন্ট, মানে আসল মাপের প্রায় ২.৫ গুণ বড়। এত টানলে ছবি ঝাপসা দেখায়। “বড় হবে না”-তে ছবি ৩০০ × ২২৫ পয়েন্ট (প্রায় ১০৬ × ৭৯ মিলিমিটার) হয়, আকারে ছোট কিন্তু পরিষ্কার।
সুতরাং ছোট ছবি, যেমন কাটা সই, ছোট স্ক্রিনশট বা কম রেজোলিউশনের কাগজের ছবি, জুড়লে “ছোট ছবি বড় হবে না” নেওয়াই ভালো। পাতা ভরানো ছবি দেখতে সুন্দর লাগলেও পরিষ্কার না-ও থাকতে পারে।
ছবির মান: কম, মাঝারি, উচ্চ
মান বাছলে দুটো জিনিস ঠিক হয়: ছবির লম্বা দিক সর্বোচ্চ কত পিক্সেল হবে, আর JPEG কোয়ালিটি কত। কম মানে ১,২০০ পিক্সেল ও ৬০%, মাঝারি ১,৮০০ ও ৮০%, উচ্চ ২,৬০০ ও ৯২%। ছবি এই সীমার চেয়ে ছোট হলে বড় করা হয় না, তাই ছোট ছবির জন্য তিন মানে পিক্সেল সংখ্যা একই থাকে।

আবার সেই ৪,০০০ × ৩,০০০ ছবিটা ধরুন। কমে সেটি ১,২০০ × ৯০০ (১০,৮০,০০০ পিক্সেল), মাঝারিতে ১,৮০০ × ১,৩৫০ (২৪,৩০,০০০), উচ্চতে ২,৬০০ × ১,৯৫০ (৫০,৭০,০০০)। আড়াআড়ি A4 পাতার ৭৪৫.৭১ পয়েন্ট, মানে প্রায় ১০.৪ ইঞ্চি চওড়া জায়গায় এই পিক্সেলগুলো ছড়ালে প্রতি ইঞ্চিতে মোটামুটি ১১৬, ১৭৪ আর ২৫১ পিক্সেল পড়ে। সংখ্যা যত বেশি, ছবির খুঁটিনাটি তত স্পষ্ট থাকে।
তাহলে সবসময় উচ্চ নিলেই হয়? না, কারণ উচ্চ মানে ফাইল বড় হয়। পোর্টালে সাইজের সীমা থাকলে সেটা বাধা। সাধারণ পরামর্শ: পর্দায় দেখা বা জমা দেওয়ার জন্য মাঝারি দিয়ে শুরু করুন। ছাপতে হলে বা কাগজে খুব ছোট অক্ষর থাকলে উচ্চ নিন, টুলের নিজের লেখাতেও ছাপার জন্য উচ্চ মানের কথা আছে। সাইজের সীমায় আটকে গেলে কম নিন আর ফল পড়া যায় কি না দেখে নিন। কোন মানে ফাইল ঠিক কত KB হবে, তা ছবির ধরনের ওপর নির্ভর করে। টুল তৈরির পর সাইজ দেখায়, সেটাই ভরসা।
“ছবির মাপেই পাতা”: আলাদা এক পথ
পাতার মাপের তৃতীয় বিকল্প A4 বা Letter নয়, “ছবির মাপেই পাতা”। এখানে পাতাই ছবির সমান হয়। পাতার প্রস্থ = ছবির প্রস্থ × ০.৭৫ + দুই পাশের মার্জিন, উচ্চতাও তেমন। একটি ১,০৮০ × ১,৯২০ পিক্সেলের স্ক্রিনশট মার্জিন ছাড়া হয় ৮১০ × ১,৪৪০ পয়েন্ট, প্রায় ২৮৬ × ৫০৮ মিলিমিটার। ছোট মার্জিনে ৮৪৬ × ১,৪৭৬।
লম্বা স্ক্রিনশট বা পুরো ওয়েবপেজের ছবির জন্য এটা ভালো: ছবি কাটা পড়ে না, ছোটও হয় না, পাতায় সাদা ফাঁকও থাকে না। তবে এমন পাতা A4-এর চেয়ে বড়, তাই ছাপতে গেলে প্রিন্টার বা ছাপার সেটিং তাকে ছোট করতে বা কেটে ফেলতে পারে। ছাপার ফাইল চাইলে A4-ই ঠিক।
কোন কাজে কোন সেটিং
- কাগজপত্র জমা দেওয়া: A4, ছোট মার্জিন, পাতা ভরে, মান মাঝারি। সব পাতা একরকম চাইলে দিক “খাড়া”।
- ফাইলের সাইজে সীমা আছে: মান কম। দরকার হলে আগে ছবির সাইজ কমান টুলে ছবিগুলো ছোট করে নিন।
- ছাপার জন্য: A4, ছোট বা মাঝারি মার্জিন, মান উচ্চ।
- ছোট ছবি বা কাটা সই: “ছোট ছবি বড় হবে না”।
- লম্বা স্ক্রিনশট: “ছবির মাপেই পাতা”।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: এই লেখার হিসাব টুলের বর্তমান কোড অনুযায়ী (১ পিক্সেল = ০.৭৫ পয়েন্ট, মার্জিন ১৮ ও ৩৬ পয়েন্ট, মানের তিনটি সীমা) এবং প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেলের সংখ্যা সরল ভাগের আন্দাজ। ছাপার আসল ফল প্রিন্টার ও কাগজের ওপর নির্ভর করে। কোনো আসল ছবির সংকোচন বা ফাইলের সাইজ এখানে মাপা হয়নি। জমা দেওয়ার আগে ফাইলটি খুলে দেখে নিন। হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
ছবি পাতার মাঝখানে কেন, একদিকে সরানো যায় না?
টুল সবসময় ছবি পাতার মাঝখানে বসায়। অবস্থান সরানোর সেটিং নেই।
ছবি পাতার কিনারা ছুঁয়ে যাচ্ছে। কী করব?
মার্জিন “ছোট” বা “মাঝারি” বেছে আবার তৈরি করুন। মার্জিন “নেই” থাকলে ছবি পাতার একটি দিক পুরো ভরে ফেলতে পারে।
পাতার সাইজ A4 না Letter, কোনটা নেব?
বাংলাদেশে সাধারণত A4 চলে। আবেদনে নির্দিষ্ট করে বলা না থাকলে A4 নিন। ফর্মে অন্য কিছু চাইলে সেটাই মানুন।
মান “কম” নিলে কি লেখা পড়া যাবে?
ছবির ওপর নির্ভর করে। ফাইল বানিয়ে পাতা বড় করে দেখে নিন, ছোট অক্ষর আর সংখ্যা পড়া যাচ্ছে কি না।
এক PDF-এ কিছু পাতা খাড়া আর কিছু আড়াআড়ি হলো কেন?
“নিজে ঠিক হবে” সেটিংয়ে চওড়া ছবি আড়াআড়ি পাতায় যায়। সব খাড়া চাইলে দিক “সব পাতা খাড়া” করে আবার বানান।
