
চেক ভরার সময় অঙ্ক আর কথার সামান্য গরমিলেও ব্যাংক চেকটি ফেরত দিতে পারে, আর তাতে পেমেন্ট আটকে যায়। তাই কোন ঘরে কী লিখবেন এবং টাকা কথায় কীভাবে লিখবেন, তা জানা জরুরি। কথাটা ঠিকঠাক লিখতে আমাদের টাকা কথায় লেখার টুল কাজে লাগাতে পারেন। এই লেখায় আছে ঘর অনুযায়ী নির্দেশনা, ভুল বনাম ঠিকের উদাহরণ এবং লেখার আগের একটি চেকলিস্ট।
চেকের কোন ঘরে কী লিখবেন
ব্যাংকভেদে চেকের নকশা কিছুটা আলাদা, তবে মূল ঘরগুলো একই রকম। নিচের নমুনায় পাঁচটি ঘর চিহ্নিত করা আছে।

- তারিখ: দিন, মাস ও বছর পুরো লিখুন, যেমন ২২/১০/২০২৬।
- প্রাপক: যাকে টাকা দেবেন, তাঁর বা প্রতিষ্ঠানের নাম বানান মিলিয়ে লিখুন।
- কথায় টাকা: বাঁ দিক থেকে শুরু করে কথায় লিখুন, শেষে “টাকা মাত্র”।
- অঙ্কে টাকা: ৳ চিহ্নসহ অঙ্ক লিখুন এবং শেষে “/-” দিন।
- সই: ব্যাংকে জমা দেওয়া নমুনা সইয়ের মতো করে সই করুন।
কথায় লেখার নিয়ম
- বাঁ দিক থেকে শুরু: লাইনের শুরুতে জায়গা ফাঁকা রাখবেন না।
- শেষে “মাত্র”: এটি জানিয়ে দেয় যে পরিমাণ এখানেই শেষ।
- বাকি জায়গায় দাগ: কথার পরে লাইনে ফাঁকা থাকলে “————” দাগ টেনে দিন, যাতে কেউ শব্দ যোগ করতে না পারে।
- অঙ্কের সঙ্গে হুবহু মিল: অঙ্ক ৮৭,৪৫০ হলে কথায় হবে সাতাশি হাজার চার শত পঞ্চাশ টাকা মাত্র।
- পয়সা থাকলে: টাকার পরে পয়সা লিখুন, যেমন “দশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা মাত্র”। বিস্তারিত দেখুন পয়সাসহ টাকা কথায় লেখার গাইডে।
ভুল বনাম ঠিক

অঙ্ক ১২,৫০০ টাকা হলে ছকের প্রথম তিনটি লেখাই সমস্যার। “মাত্র” না থাকলে বাক্য অসম্পূর্ণ থাকে। ফাঁকা জায়গা রাখলে সেখানে শব্দ বসানোর সুযোগ থাকে। আর “তিন টাকা” বেশি লেখা হলে অঙ্কের সঙ্গে গরমিল তৈরি হয়। ঠিক লেখাটি হলো: বারো হাজার পাঁচ শত টাকা মাত্র।
অঙ্ক ও কথায় গরমিল হলে
অঙ্ক ও কথা না মিললে সাধারণত কথায় লেখা পরিমাণকেই ধরা হয়, এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনেও এ বিষয়ে বিধান আছে। তবে বাস্তবে ব্যাংক গরমিল দেখলে চেকটি ফেরত দিতে পারে, আর তাতে সময় নষ্ট হয়। তাই গরমিলের ওপর ভরসা না করে লেখার সময়ই অঙ্ক ও কথা মিলিয়ে নিন। কোনো ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকলে আপনার ব্যাংকের শাখায় জিজ্ঞেস করুন।
কাটাকাটি হলে কী করবেন
লিখতে গিয়ে ভুল হলে ওপরে আবার লিখে বা ঘষামাজা করে ঠিক করার চেষ্টা না করাই ভালো। কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং থাকলে অনেক ব্যাংক চেক গ্রহণ করে না, কিংবা দাতার পূর্ণ সই চায়। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো নতুন চেকের পাতা নেওয়া। ভুল পাতাটি বাতিল চিহ্ন দিয়ে চেকবইয়ে রেখে দিন, যাতে হিসাব মেলে।
টুল দিয়ে মিলিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি
- টুলে চেকের অঙ্ক বসান, ৮৭৪৫০ বা ৮৭,৪৫০, যেভাবে সুবিধা।
- বাংলা ফল দেখুন: সাতাশি হাজার চার শত পঞ্চাশ টাকা মাত্র।
- নিজের লেখা কথার সঙ্গে শব্দে শব্দে মিলিয়ে নিন।
- ইংরেজি চেক বা ফর্ম হলে ইংরেজি লাইনটি কপি করুন: Eighty Seven Thousand Four Hundred Fifty Taka Only।
টুলের ফল বসানোর আগে নিজে একবার পড়ে নিন, কারণ চেকের দায় আপনার। ভাউচার ও ইনভয়েসে লেখার নিয়ম আলাদা করে দেখতে পারেন এই গাইডে।
বিভিন্ন অঙ্ক কথায় কেমন হয়
| অঙ্ক | কথায় |
|---|---|
| ১৫,০০০ | পনেরো হাজার টাকা মাত্র |
| ২৫,০০০ | পঁচিশ হাজার টাকা মাত্র |
| ১,০৫,০০০ | এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা মাত্র |
| ১,৫০,০০০ | এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মাত্র |
| ৪,৫০,০০০ | চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মাত্র |
বড় অঙ্কে শূন্যের ঘরে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যেমন ১,০৫,০০০ ও ১,৫০,০০০ দেখতে কাছাকাছি, কিন্তু কথায় আলাদা: পাঁচ হাজার আর পঞ্চাশ হাজার।
ক্রস করা চেক ও “A/C Payee”
চেকের বাঁ দিকের ওপরে দুটি আড়াআড়ি দাগ টেনে ভেতরে “A/C Payee Only” লিখলে চেকটি ক্রস করা হয়। এতে টাকা নগদে না দিয়ে শুধু প্রাপকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। চেক হারিয়ে গেলে বা হাতবদল হলে ঝুঁকি কমে, তাই বড় অঙ্কের চেকে ক্রস করা নিরাপদ অভ্যাস। কিছু ব্যাংকের চেকে ক্রস আগে থেকেই ছাপা থাকে, তাই চেকের ছক দেখে নিন।
চেক ফেরতের সাধারণ কারণ
- অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ না মেলা।
- কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং, যার পাশে দাতার সই নেই।
- সই ব্যাংকে জমা দেওয়া নমুনার সঙ্গে না মেলা।
- অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা।
- চেকের তারিখ ভবিষ্যতের হওয়া, কিংবা নির্ধারিত মেয়াদের পরে জমা দেওয়া।
ইংরেজিতে চেক লিখতে হলে
কিছু চেক বা ফর্মে ইংরেজি শব্দে লিখতে বলা হয়। তখন টুলের ইংরেজি লাইন কপি করুন। যেমন ১,৪৮,৫০০ টাকা হয় One Lakh Forty Eight Thousand Five Hundred Taka Only। এর কাঠামো ও Lakh-Million-এর পার্থক্য আলাদা করে বোঝানো আছে ইংরেজিতে টাকা কথায় লেখার গাইডে।
চেক লেখার আগের চেকলিস্ট
- তারিখ ঠিক আছে কি না।
- প্রাপকের নামের বানান ঠিক কি না।
- কথায় লেখা টাকা ও অঙ্ক হুবহু মেলে কি না।
- “মাত্র” আছে কি না এবং ফাঁকা জায়গায় দাগ টানা হয়েছে কি না।
- অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা আছে কি না। না থাকলে চেক ফেরত যেতে পারে, আর তার আইনি ঝুঁকি আছে।
- সই নমুনার সঙ্গে মেলে কি না।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: ব্যাংকভেদে নিয়ম ও চেকের ছক আলাদা হতে পারে। এই লেখা সাধারণ গাইড, ব্যাংকের নির্দেশনা বা আইনি পরামর্শ নয়। হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
চেকে টাকা কথায় না লিখলে কী হয়?
কথায় লেখার ঘর ফাঁকা থাকলে সাধারণত ব্যাংক চেকটি গ্রহণ করে না বা ফেরত দেয়। কাজ আটকানো এড়াতে ঘরটি অবশ্যই পূরণ করুন।
অঙ্ক ও কথা আলাদা হলে কোনটি ধরা হয়?
সাধারণ রীতিতে কথায় লেখা পরিমাণ ধরা হয়। তবে ব্যাংক চেক ফেরত দিতে পারে, তাই দুটি মিলিয়ে লেখাই নিরাপদ।
চেকে “মাত্র” লেখা কি জরুরি?
এটি বহুল প্রচলিত রীতি, যা পরিমাণ শেষ হওয়ার চিহ্ন দেয়। ব্যাংকের কড়াকড়ি আলাদা হতে পারে, তাই লিখে দেওয়াই ভালো।
