
DPS ক্যালকুলেটর আপনার লেখা সংখ্যাই হিসাব করে; ঘরে কী লিখেছেন, তা ধরে দেওয়ার কাজ তার সামান্যই। অথচ ফল ভুল হয় বেশির ভাগ সময় সূত্রে নয়, ঘরে সংখ্যা বসানোর সময়। এই লেখায় ছয়টি ঘর-ভুল আর টুলের লাল বার্তাগুলো আছে, প্রতিটি টুলের কোড চালিয়ে মেলানো। মুনাফা কীভাবে জমে, সেই যুক্তি আলাদা গাইডে: DPS-এর মুনাফা হিসাব। একই মোট জমার বিভিন্ন ছক পাশাপাশি দেখতে: একই মোট জমায় কম কিস্তি আর বেশি কিস্তি।
পাঁচটি ঘর আছে, আর শুরুতে বসানো থাকে কিস্তি ৳ ৫,০০০, হার ৮%, মেয়াদ ৫ বছর, আসলে যোগ প্রতি ৩ মাসে আর কর ০। এই অবস্থায় কিছু না বদলালে ফল: মোট জমা ৳ ৩,০০,০০০, মুনাফা ৳ ৬৯,৩২০.০২, মেয়াদশেষে ৳ ৩,৬৯,৩২০.০২। ঘর পূরণের ভুল ধরতে এই ফলটিই সবচেয়ে সহজ মাপকাঠি: নিজের সংখ্যা বসানোর পর মেয়াদ বা হারের ঘর ঠিক পড়ছে কি না, মোট জমা দেখে বোঝা যায় (৳ ৫,০০০ × ৬০ মাস = ৳ ৩,০০,০০০)। হার কাল্পনিক; আপনার ব্যাংকের হার নিজে বসান।
টুল কমা মুছে সংখ্যা পড়ে, তাই “৫,০০০” ঠিক চলে। কিন্তু হারে সাড়ে আট বোঝাতে “৮,৫” লিখলে কমা মুছে হয় ৮৫। ৮৫ শূন্য থেকে একশর মধ্যে, তাই টুল কোনো বার্তা দেয় না এবং মাসে ৳ ৫,০০০, ৫ বছরে মুনাফা দেখায় ৳ ৩৪,২০,৪৮৮.১০, মেয়াদশেষে ৳ ৩৭,২০,৪৮৮.১০। সঠিক “৮.৫” লিখলে মুনাফা ৳ ৭৪,২৫৯.৫৯, মেয়াদশেষে ৳ ৩,৭৪,২৫৯.৫৯। দশমিকে বিন্দু দিন।
সৌভাগ্য এটুকু যে অনেক ভুল ধরা পড়ে: “১২,৫” মুছে হয় ১২৫, আর ১০০-র বেশি হারে লাল বার্তা আসে। তাই ফলের সংখ্যা অস্বাভাবিক বড় লাগলে আগে হারের ঘর দেখুন। হাতে ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিতে শতকরা ক্যালকুলেটর কাজে লাগে।

হারের ঘরে “৮%” লিখলে টুল সংখ্যা চেনে না, লাল বার্তা আসে: “ফাঁকা বা সংখ্যা নয়, এমন ঘর আছে। সবগুলো ঘরে সংখ্যা লিখুন।” এটি সহজে ধরা পড়ে। কিন্তু করের ঘরে “১০%” লিখলে একই ঘটনা চুপচাপ ঘটে: টুল সংখ্যা চেনে না এবং কোনো বার্তা না দিয়ে কর ০ ধরে নেয়। “কর কাটা” বাক্সটি ফলে আসেই না।
উদাহরণ (কিস্তি ৳ ৫,০০০, ৮%, ৫ বছর, প্রতি ৩ মাসে): করের ঘরে ১০ লিখলে কর কাটা ৳ ৬,৯৩২.০০ আর করের পর হাতে ৳ ৩,৬২,৩৮৮.০২। “১০%” লিখলে কোনো কর কাটা হয় না, হাতে দেখায় পুরো ৳ ৩,৬৯,৩২০.০২। “দশ” লিখলেও একই। কর হিসাবে ধরা হয়েছে কি না, ফলে “কর কাটা” বাক্স আছে কি না দেখে নিন। কাটার হার ব্যাংকের শর্তে দেখে শুধু সংখ্যা বসান; টুলে কোনো ব্যাংকের বা সরকারি হার ধরা নেই।
মেয়াদের ঘরে দশমিক চলে, কিন্তু টুল মাসে গোল করে নেয়। “২.৫” বছর হয় ৩০ মাস: মোট জমা ৳ ১,৫০,০০০, মুনাফা ৳ ১৬,৪৩৫.৭৬, মেয়াদশেষে ৳ ১,৬৬,৪৩৫.৭৬। কিন্তু “মাস” বাছা থাকলে “৭.৫” হয় ৮ মাস, ৭ নয়: ৮ মাসে মুনাফা ৳ ১,২১৩.৩৯, ৭ মাসে ৳ ৯৪২.০৩। গোল করার ফল ফলের নিচে “মাসওয়ারি তালিকা (৮ মাস)” লেখায় দেখা যায়। ওটি আপনার ভাবা মাসের সঙ্গে মেলে কি না দেখে নিন।
খুব ছোট মেয়াদ গোল হয়ে শূন্য হলে (যেমন “০.০৪” বছর, অর্থাৎ ০.৪৮ মাস) লাল বার্তা আসে: “কিস্তি ও মেয়াদ শূন্যের বেশি এবং সুদের হার ঋণাত্মক নয়, এমন সংখ্যা দিন।” আরেকটি ফাঁদ মেয়াদের পাশের বাছাই: “বছর” বাছা থাকা অবস্থায় ৬০ লিখলে ৬০ বছর, অর্থাৎ ৭২০ মাস, আর সেটি সীমার (৬০০ মাস) বাইরে বলে বার্তা আসে। মাসে ৬০ চাইলে “মাস” বাছুন।
“সুদ আসলে যোগ হয়” ঘরে প্রতি ১, ৩, ৬ বা ১২ মাস বাছা যায়। মেয়াদ ওই ব্যবধানের কম বা তার মাঝামাঝি হলে কী হয়, তা অনেকে ভাবেন না। টুল প্রতি মাসের সুদ জমা রাখে (accrued), আর বাছা ব্যবধান পূর্ণ হলে তা আসলে যোগ করে। যে সুদ আসলে যোগ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ, তা মেয়াদশেষে একবারে যোগ হয়, কিন্তু নিজে সুদ আনে না।
কাল্পনিক ৳ ৫,০০০, ৮%:
- ২ মাস, আসলে যোগ ৩ মাস: একবারও আসলে যোগ হয় না। মুনাফা ৳ ১০০.০০, মেয়াদশেষে ৳ ১০,১০০। “প্রতি মাসে” বাছলে ৳ ১০০.২২।
- ১৮ মাস: প্রতি মাসে যোগে মুনাফা ৳ ৫,৯২১.১৯, প্রতি ৩ মাসে ৳ ৫,৮৮৩.৪৪, প্রতি ১২ মাসে ৳ ৫,৮০৪.০০। ১২ মাসের বিকল্পে আসলে যোগ হয় শুধু ১২ নম্বর মাসে; তালিকায় ১৩ থেকে ১৮ নম্বর সারিতে তারকা নেই, শেষ সারির ৳ ৯৫,৮০৪ তারকা ছাড়াই মেয়াদশেষের মোট।
তাই শেষ সারিতে তারকা না থাকলে ভাববেন না যে সুদ বাদ গেছে; জমা সুদ মেয়াদশেষে যোগ ধরাই টুলের নিয়ম।
হার ০ লিখলে কোনো বার্তা আসে না: মুনাফা ০, মেয়াদশেষে মোট জমার সমান (৳ ৩,০০,০০০)। ফাঁকা ঘরের আচরণ ঘরভেদে আলাদা: কিস্তি, হার বা মেয়াদ ফাঁকা থাকলে লাল বার্তা (“ফাঁকা বা সংখ্যা নয়…”), কিন্তু কর ফাঁকা থাকলে বার্তা ছাড়াই ০ ধরা হয়। তাই কর ঘরটি ফাঁকা রাখা ভুল নয়, কিন্তু কর কাটার কথা ভাবলে সংখ্যা লিখতেই হবে।
মেয়াদ ৬০০ মাস (৫০ বছর) পর্যন্ত চলে; “৫০.১” বছর হয় ৬০১ মাস, আর বার্তা আসে: “সুদের ও করের হার ০–১০০ এর মধ্যে এবং মেয়াদ ৫০ বছরের মধ্যে দিন।” এই এক বার্তাই তিন কারণে আসে: হার ১০০-র বেশি, কর ঋণাত্মক বা ১০০-র বেশি, কিংবা মেয়াদ ৬০০ মাসের বেশি। বার্তায় কোনটি ভুল বলা নেই, তাই তিনটিই দেখুন। সুদের হার ঋণাত্মক হলে অন্য বার্তা (ওপরের “শূন্যের বেশি…”) আসে।
| বার্তা | কখন আসে |
|---|---|
| ফাঁকা বা সংখ্যা নয়, এমন ঘর আছে। সবগুলো ঘরে সংখ্যা লিখুন। | কিস্তি, হার বা মেয়াদ ফাঁকা কিংবা অক্ষর বা % চিহ্নসহ। কর ঘরে এই বার্তা আসে না, কর ০ হয়ে যায়। |
| কিস্তি ও মেয়াদ শূন্যের বেশি এবং সুদের হার ঋণাত্মক নয়, এমন সংখ্যা দিন। | কিস্তি ০ বা ঋণাত্মক, মেয়াদ গোল হয়ে ০, বা হার ঋণাত্মক |
| সুদের ও করের হার ০–১০০ এর মধ্যে এবং মেয়াদ ৫০ বছরের মধ্যে দিন। | হার বা কর ১০০-র বেশি, কর ঋণাত্মক, মেয়াদ ৬০০ মাসের বেশি |
বার্তা এলে ফলের বাক্স ও মাসওয়ারি তালিকা দুটিই লুকিয়ে যায়, তাই CSV বা PDF বোতামও থাকে না। বার্তা কাটলে তালিকা ফিরে আসে।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: এই লেখার সংখ্যা Sellshop Tools ১.৪৬.৫-এর DPS টুলের কোড চালিয়ে মেলানো, আসল সাইটের পাতায় বা ফোনে নয়। হার ও কর কাল্পনিক, কোনো ব্যাংকের আসল হার নয়। ব্যাংকের গোনার নিয়ম (কিস্তি মাসের শুরুতে না শেষে, আসলে যোগের সময়, কর, গোল করা) আলাদা হতে পারে, তাই টুলের ফল আনুমানিক। হালনাগাদ: ৫ নভেম্বর ২০২৬।
টুল সংখ্যা চেনে না, কর ০ ধরে এবং কোনো বার্তা দেয় না। শুধু সংখ্যা লিখুন, যেমন ১০।
টুল কমা মুছে ৮৫ পড়ে। ৮.৫ লিখুন।
মোট জমার সংখ্যা: কিস্তি × মাস মেলে কি না। তারপর হারের ঘরে কমা বা ভুল দশমিক আছে কি না। মোট জমা ঠিক থাকলে সাধারণত হারের ঘরেই ভুল।
তার জন্য আলাদা টুল আছে: FDR ক্যালকুলেটর।
