
চাকরির আবেদনে এক পাতার সিভি লাগলে সিভি (CV) মেকার টুলে ঘর পূরণ করেই A4 পাতার সিভি পাওয়া যায়। টুল বাড়তি কিছু করে না: আপনার লেখা সাজিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন পাতা বানায়, যেটি আপনি PDF করে রাখেন। এই লেখায় আছে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার লাইন কীভাবে লিখলে ঠিকঠাক বসে, PDF কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, ছবি নিয়ে কী জানা দরকার, আর NID, ধর্ম বা বৈবাহিক অবস্থার ঘর কেন ফাঁকা রাখাই ভালো। উদাহরণের নাম ও তথ্য কাল্পনিক।
অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার লাইন কীভাবে লিখবেন
দুটি ঘরেই প্রতি লাইনে একটি করে এন্ট্রি লিখতে হয়, আর অংশগুলো আলাদা করতে হয় | চিহ্ন দিয়ে। কাজের অভিজ্ঞতার ক্রম: পদ | প্রতিষ্ঠান | সময় | কাজের বিবরণ। শিক্ষার ক্রম: ডিগ্রি | প্রতিষ্ঠান | পাসের বছর | ফল। যেমন:
- সহকারী হিসাবরক্ষক | উদাহরণ ট্রেডার্স | ২০২১–২০২৬ | মাসিক হিসাব ও ভ্যাট রিটার্ন
- বি.কম | উদাহরণ কলেজ | ২০২০ | CGPA ৩.৪০
সিভিতে পদ বা ডিগ্রি মোটা অক্ষরে আসে, সময় বা সাল ডান পাশে বসে, প্রতিষ্ঠান ও বিবরণ নিচের লাইনে যায়। শেষের ঘরগুলো বাদ দিলেও চলে। দক্ষতা ও ভাষা কমা বা নতুন লাইন দিয়ে লিখুন; সিভিতে সেগুলো দুই কলামের তালিকা হয়। যে ঘর ফাঁকা থাকবে, সিভিতে তার শিরোনামও আসবে না। একমাত্র বাধ্যতামূলক ঘর নাম; ফাঁকা থাকলে টুল “আগে নাম লিখুন” বলে থেমে যায়।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতির ঘরে দুই-তিন বাক্যে নিজের কথা লিখলে সেটি সিভির শুরুতে আসে; এটি ঐচ্ছিক। সনদ, প্রশিক্ষণ বা রেফারেন্সের মতো যা অন্য কোনো ঘরে ধরে না, তা “অতিরিক্ত তথ্য”-র ঘরে দিন, সেটি আলাদা অংশ হয়ে বসে। একটি লাইনে একটি কাজই লিখুন; একই লাইনে দুই পদ ঢোকালে তারা এক এন্ট্রি হয়ে যায়।
PDF হিসেবে সংরক্ষণ
টুল সরাসরি PDF ফাইল ডাউনলোড করে না। “সিভি খুলুন ও PDF করুন” চাপলে সিভি নতুন ট্যাবে খোলে এবং ব্রাউজারের প্রিন্ট জানালা নিজে থেকে আসে। সেখানে গন্তব্য হিসেবে “PDF হিসেবে সংরক্ষণ” (Save as PDF) বেছে নিলেই ফাইল পাবেন। জানালা না এলে নতুন ট্যাবে Ctrl+P চাপুন। ব্রাউজার নতুন ট্যাব আটকে দিলে টুল জানায়; তখন এই সাইটের পপআপ অনুমতি দিয়ে আবার চাপুন। পাতার মাপ A4, চারপাশে ১৪ মিমি ফাঁকা।
একটি জিনিস আগে জেনে রাখুন: টুল আপনার লেখা সংরক্ষণ করে না। পাতা বন্ধ করলে বা রিফ্রেশ করলে সব মুছে যায়, তাই PDF সংরক্ষণ আগে, পাতা বন্ধ পরে। লেখা ও ছবি ব্রাউজারেই থাকে, টুলের কোডে কোনো সার্ভারে পাঠানোর অংশ নেই।
ছবি দেবেন কি না
ছবি ঐচ্ছিক। দিলে JPEG বা PNG ফাইল বাছুন; টুল সেটি লম্বা দিকে সর্বোচ্চ ৪০০ পিক্সেলে ছোট করে JPEG বানায় এবং সিভির ওপরের ডান কোণে ৩০ × ৩৬ মিমির ঘরে বসায়। অর্থাৎ বড় ছবি দিলে PDF ফুলে যাওয়ার ভয় কম। ফর্মের মাপে ছবি লাগলে পাসপোর্ট ছবি মেকার আর মিমি থেকে পিক্সেল ও KB-এর হিসাব দেখুন।

ব্যক্তিগত তথ্য: কী দেবেন না
পিতা ও মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয়তা, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা ও NID নম্বরের ঘরগুলো টুলে “ঐচ্ছিক” অংশে আছে। সুপারিশ সহজ: কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফর্ম স্পষ্ট করে চাইলে তবেই দিন, নইলে ফাঁকা রাখুন। কারণ সিভির PDF ইমেইল, জব পোর্টাল ও অচেনা অফিসে ঘোরে, আর একবার পাঠালে কপি কোথায় থাকে তা আপনার হাতে থাকে না। NID নম্বর সবচেয়ে সংবেদনশীল; ছবি, নাম ও ঠিকানার সঙ্গে সেটি একসঙ্গে থাকলে অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে। ধর্ম ও বৈবাহিক অবস্থা সাধারণত আবেদনের যোগ্যতা বিচারের জন্য জরুরি নয়।
টুলের একটি খুঁটিনাটি: জাতীয়তার ঘরে “বাংলাদেশি” আগে থেকে লেখা থাকে। ফলে অন্য ঘর ফাঁকা রাখলেও সিভিতে “ব্যক্তিগত তথ্য” অংশ আসবে, শুধু একটি সারি নিয়ে। পুরো অংশ বাদ দিতে জাতীয়তার ঘরটিও মুছে দিন।
কী মাথায় রাখবেন
- একটিই সাদামাটা ডিজাইন; রং, টেমপ্লেট বা ফন্ট বদলানো যায় না।
- লেখা বেশি হলে সিভি একাধিক পাতায় যেতে পারে; সংক্ষিপ্ত লিখুন।
- PDF পোর্টালে আপলোডের সীমা থাকলে PDF সাইজ কমান টুল ও সীমার মধ্যে আনার হিসাব কাজে লাগবে।
- সংরক্ষণের পর PDF খুলে নাম, ফোন নম্বর ও সাল একবার চোখে দেখে নিন।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: এই লেখার সব বর্ণনা Sellshop Tools-এর সিভি মেকারের কোড পড়ে এবং Chromium-এ সেই কোড চালিয়ে মেলানো; আসল সাইটের পাতায়, ফোনে বা অন্য ব্রাউজারে নয়। বাংলা ফন্ট ডিভাইসে যা আছে সেটাই দেখায় (টুলও তাই জানায়), তাই অক্ষরের চেহারা ডিভাইসভেদে আলাদা হতে পারে; ফন্ট বা ফোনে PDF কেমন আসে, তা আমি পরীক্ষা করে দেখিনি। হালনাগাদ: ৪ নভেম্বর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
আমার তথ্য কি সার্ভারে যায়?
না। লেখা ও ছবি আপনার ব্রাউজারেই থাকে। সেই কারণেই পাতা বন্ধ করলে লেখা ফিরে পাওয়া যায় না।
PDF ফাইল ডাউনলোড বোতাম কোথায়?
নেই। সিভি নতুন ট্যাবে খুলে প্রিন্ট জানালা আনে; সেখান থেকে “PDF হিসেবে সংরক্ষণ” বেছে ফাইল রাখতে হয়।
NID বা বাবার নাম না দিলে কি সিভি অসম্পূর্ণ হয়?
টুলের দিক থেকে না; সবই ঐচ্ছিক। নির্দিষ্ট আবেদনপত্র চাইলে তবেই দিন।
