দেরিতে আয়কর রিটার্ন দিলে কত বাড়তি কর: ২০২৬-২৭-এর হিসাব ও উদাহরণ

দেরিতে রিটার্নের বাড়তি কর: জানুয়ারি থেকে মার্চে প্রদেয় করের ২% বা ৳ ৩,০০০, এপ্রিল থেকে জুনে ৫% বা ৳ ৫,০০০, ৩০ জুনের পর নিজে দিলে ১০% বা ৳ ৫,০০০, যেটি বেশি

আজ ৩১ অক্টোবর। প্রণোদনার সময় (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) চলে গেছে, রিটার্নও এখনো দেওয়া হয়নি, এমন অনেকের প্রশ্ন: এখন দিলে কি জরিমানা? সংক্ষেপে: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়তি কর নেই। দেরির খরচ শুরু হয় ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।

দেরিতে রিটার্নের বাড়তি কর: জানুয়ারি থেকে মার্চে প্রদেয় করের ২% বা ৳ ৩,০০০, এপ্রিল থেকে জুনে ৫% বা ৳ ৫,০০০, ৩০ জুনের পর নিজে দিলে ১০% বা ৳ ৫,০০০, যেটি বেশি

কর বছর ২০২৬-২৭-এ কী বদলেছে

আগের বছরগুলোয় ব্যক্তিকরদাতার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দিন (সাধারণত ৩০ নভেম্বর) ছিল, দরকারে এনবিআর এক মাস বাড়াত। PwC বাংলাদেশের অর্থ আইন ২০২৬-এর সারাংশ অনুযায়ী এবার ব্যবস্থা অন্য: রিটার্ন কর বছরের যেকোনো সময় দেওয়া যায়, আর কখন দিলেন তার ওপর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নির্ভর করে। এনবিআরের এক মাস বাড়ানোর ক্ষমতাও বাতিল হয়েছে। তাই “এবারও সময় বাড়বে” ভেবে বসে থাকার সুযোগ কম।

সময় অনুযায়ী কী হয়

দাখিলের সময়ফল
১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬প্রদেয় করের ৫% প্রণোদনা, সর্বোচ্চ ৳ ২৫,০০০
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬প্রণোদনা নেই, অতিরিক্ত করও নেই
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭অতিরিক্ত কর: প্রদেয় করের ২% বা ৳ ৩,০০০, যেটি বেশি
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৭অতিরিক্ত কর: প্রদেয় করের ৫% বা ৳ ৫,০০০, যেটি বেশি

শেষ দিন সরকারি ছুটি হলে পরের কর্মদিবস গণ্য হয় বলে একটি সূত্রে আছে। ধাপ বদলের দিনের (৩০ সেপ্টেম্বর, ৩১ ডিসেম্বর) ওপর নির্ভর না করে আগে দেওয়াই নিরাপদ।

হিসাবটা কীভাবে করবেন

নিয়মটি সহজ: দুটি অঙ্ক বের করুন, বড়টি নিন। প্রথম অঙ্ক প্রদেয় করের শতাংশ, দ্বিতীয়টি ন্যূনতম টাকার অঙ্ক। শতাংশ বের করার কৌশল আছে শতকরা হিসাবের গাইডে; দ্রুত মেলাতে শতকরা ক্যালকুলেটর কাজে লাগে।

প্রদেয় কর ৳ ৫০,০০০ হলে বাড়তি কর ৳ ৩,০০০ বা ৳ ৫,০০০; ৳ ১,০০,০০০ হলে ৳ ৩,০০০ বা ৳ ৫,০০০; ৳ ৩,০০,০০০ হলে ৳ ৬,০০০ বা ৳ ১৫,০০০
কাল্পনিক অঙ্ক: ন্যূনতম অঙ্ক ছোট করের ক্ষেত্রে বেশি কাজ করে।

নিচের তিনটি অঙ্ক কাল্পনিক, কোড দিয়ে হিসাব করা:

  • প্রদেয় কর ৳ ৫০,০০০: জানুয়ারি-মার্চে ২% = ৳ ১,০০০, ন্যূনতম ৳ ৩,০০০ বড়, তাই ৳ ৩,০০০। এপ্রিল-জুনে ৫% = ৳ ২,৫০০, ন্যূনতম ৳ ৫,০০০ বড়, তাই ৳ ৫,০০০।
  • প্রদেয় কর ৳ ১,০০,০০০: ২% = ৳ ২,০০০, তাই ৳ ৩,০০০। ৫% = ৳ ৫,০০০, ন্যূনতমের সমান, তাই ৳ ৫,০০০।
  • প্রদেয় কর ৳ ৩,০০,০০০: ২% = ৳ ৬,০০০ (ন্যূনতমের বেশি)। ৫% = ৳ ১৫,০০০।

ছোট করে ন্যূনতম অঙ্কই আসল বোঝা, বড় করে শতাংশ। আর ৳ ৩,০০,০০০ করের একজন সেপ্টেম্বরে দিলে ৫% প্রণোদনা পেতেন ৳ ১৫,০০০; এপ্রিলে দিলে উল্টে ৳ ১৫,০০০ বাড়তি দেবেন। মাসের পর মাস ফেলে রাখার দাম এই ফারাকে বোঝা যায়।

৩০ জুনের পরে দিলে

কর বছরের (৩০ জুন ২০২৭) মধ্যে না দিলে সেটি “বিলম্বিত রিটার্ন”। সূত্রগুলো অনুযায়ী নিজে থেকে দিলে প্রদেয় করের ১০% বা ৳ ৫,০০০ (যেটি বেশি), আর কর অফিসের নোটিসের পরে দিলে ১৫% বা ৳ ১০,০০০ (যেটি বেশি)। ফলে নোটিসের অপেক্ষায় থাকা সবচেয়ে দামি পথ।

যাঁদের জন্য আলাদা নিয়ম আছে

  • প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন এমন করদাতা প্রযোজ্য হারে কর দিয়ে আয় বছর শেষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে দিতে পারেন বলে একটি সূত্রে আছে।
  • উচ্চশিক্ষা, প্রেষণ বা বৈধ ভিসায় আয়ের জন্য বিদেশে থাকলে ফেরার পর ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়ার সুযোগের কথা সূত্রে আছে।
  • ৬৫ বছর বা বেশি, সনদধারী প্রতিবন্ধী, প্রবাসী ও আরও কয়েকটি শ্রেণি কাগজে রিটার্ন দিতে পারেন, ধাপগুলো ই-রিটার্নের গাইডে।

এখন কী করবেন

  1. আয়কর ক্যালকুলেটর বা বেতনভোগী হলে বেতনের কর ক্যালকুলেটরে মোট কর বের করুন।
  2. অফিস বা ব্যাংক যে কর কেটেছে তার সনদ জোগাড় করুন। অতিরিক্ত কর কোন অঙ্কের ওপর ধরা হবে (কাটা কর বাদ গেলে কী দাঁড়ায়), তা এখানে যাচাই হয়নি; পোর্টালের অঙ্কে মিলিয়ে নিন।
  3. ৩১ ডিসেম্বরের আগেই পোর্টালে বসুন; কাজের ধাপ আছে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের গাইডে।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: সময়-সারণি ও হার PwC বাংলাদেশের “Finance Act, 2026: Key Amendments” ও তাদের কর সারাংশ (পর্যালোচনা ৩১ জুলাই ২০২৬), KPMG-র অর্থ বিল সারাংশ এবং একটি বাংলা সার্ভিস-রুল ব্লগ মিলিয়ে নেওয়া। বিলম্বিত রিটার্ন, প্রথমবারের করদাতা ও প্রবাসের ছাড় শেষ দুই সূত্রে আছে, PwC-র আইন-সারাংশে সবকটি নেই। অর্থ আইনের মূল গেজেট ও এনবিআরের আদেশ নিজে খোলা হয়নি। “প্রদেয় কর” ঠিক কোন অঙ্ক (উৎসে কাটা কর বাদ কি না) তা যাচাই হয়নি; তাই উদাহরণের অঙ্কগুলো কাল্পনিক ও তা পোর্টালের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬। এটি কর বা আইনি পরামর্শ নয়; সন্দেহ থাকলে কর পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন।

পুরো ছবি এক জায়গায় দেখতে পড়ুন আয়কর ও বেতনের কর ২০২৬-২৭ এক জায়গায়।

সাধারণ প্রশ্ন

নভেম্বরে দিলে কি বাড়তি কর লাগবে?

না। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এ দিলে প্রণোদনা নেই, অতিরিক্ত করও নেই।

জানুয়ারিতে দিলে সর্বনিম্ন কত বাড়তি কর?

৳ ৩,০০০, কারণ ন্যূনতম অঙ্ক ২%-এর হিসাবের চেয়ে বড় হলে সেটিই ধরা হয়। প্রদেয় কর ৳ ১,৫০,০০০-এর বেশি হলে ২% ৳ ৩,০০০ ছাড়ায়।

এপ্রিলে ৳ ২,০০,০০০ প্রদেয় করে কত বাড়তি?

৫% = ৳ ১০,০০০, ন্যূনতম ৳ ৫,০০০-এর বেশি, তাই ৳ ১০,০০০।

শূন্য কর হলেও কি রিটার্ন লাগে?

কিছু ক্ষেত্রে লাগতে পারে; নিজের ক্ষেত্র ন্যূনতম কর ও প্রথম রিটার্নের গাইডে আর এনবিআরের নির্দেশনায় দেখুন।