একটি বিষয়ে F হলে SSC/HSC GPA: ৩২ ও ৩৩ নম্বরের ফারাক

পাঁচ বিষয়ে A+, A+, A, A, A- থাকলে ষষ্ঠ বিষয়ে ৩২ নম্বরে ফল অকৃতকার্য ও GPA ০.০০; ৩৩ নম্বরে GPA ৩.৭৫, ৪০-এ ৩.৯২, ৫০-এ ৪.০৮, ৭০-এ ৪.২৫

হালনাগাদ নোট: এই লেখার কিছু হার এখনো মূল সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়নি (SSC/HSC গ্রেড স্কেল (নম্বর → গ্রেড পয়েন্ট))। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে দেখে নিন।

ফলে একটি বিষয়ে F দেখলে প্রথম প্রশ্ন আসে: বাকি বিষয়ে ভালো গ্রেড থাকলে GPA কত হয়? ক্যালকুলেটরের নিয়মে উত্তর, কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে ফল অকৃতকার্য, আর গড় বের হয় না। নিজের গ্রেড বসিয়ে মেলাতে SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন; নিচের সব অঙ্ক ওই টুলের হিসাবে বের করা।

পাঁচ বিষয়ে A+, A+, A, A, A- থাকলে ষষ্ঠ বিষয়ে ৩২ নম্বরে ফল অকৃতকার্য ও GPA ০.০০; ৩৩ নম্বরে GPA ৩.৭৫, ৪০-এ ৩.৯২, ৫০-এ ৪.০৮, ৭০-এ ৪.২৫

আবশ্যিক বিষয়ে একটি F-ই পুরো ফল অকৃতকার্য করে

নম্বর ৩৩-এর নিচে হলে গ্রেড F, পয়েন্ট ০। টুল কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F পেলে ফল অকৃতকার্য ধরে এবং GPA ০.০০ দেখায়। এই ০.০০ আসলে চিহ্ন যে ফল হয়নি; বাকি বিষয়ের পয়েন্ট থেকে গড় করার সুযোগ নেই। মার্কশিটে অকৃতকার্য ফল ঠিক কীভাবে লেখা হয়, তা আমরা মিলিয়ে দেখিনি।

৩২ আর ৩৩ নম্বরের ফারাক

ধরুন পাঁচ বিষয়ে A+, A+, A, A, A- (পয়েন্ট ৫ + ৫ + ৪ + ৪ + ৩.৫ = ২১.৫)। ষষ্ঠ আবশ্যিক বিষয়ের নম্বর বদলে দেখুন। উদাহরণে গাইড ০৯-এর মতো ছয় বিষয় ধরেছি; আপনার মার্কশিটে যত আবশ্যিক বিষয়, তত সারি দেবেন।

ষষ্ঠ বিষয়ের নম্বরগ্রেড (পয়েন্ট)টুলে ফল
৩২F (০.০০)অকৃতকার্য, GPA ০.০০
৩৩D (১.০০)(২১.৫ + ১) ÷ ৬ = ৩.৭৫
৪০C (২.০০)২৩.৫ ÷ ৬ = ৩.৯২
৫০B (৩.০০)২৪.৫ ÷ ৬ = ৪.০৮
৭০A (৪.০০)২৫.৫ ÷ ৬ = ৪.২৫

এক নম্বরের ফারাকে ফল অকৃতকার্য থেকে ৩.৭৫-এ ওঠে।

ফেল থাকলে “কাগজের GPA” ধরবেন না

৩২ নম্বরের সারিতে পাঁচ পাস বিষয়ের ২১.৫ কে ৬ দিয়ে ভাগ করলে ৩.৫৮ আসে। এটি ফল নয়: টুল ও গাইড ০৯-এর নিয়মে F থাকলে ভাগফলের কোনো মান ধরা হয় না। এই ৩.৫৮-কে GPA বলে ধরবেন না।

৪র্থ বিষয়ে F হলে

টুল ৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয়ের পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিয়ে বাকিটা যোগ করে; ২ বা কম হলে কিছু যোগ হয় না। তাই ৪র্থ বিষয়ে F, D বা C হলে GPA একই থাকে এবং টুল তাতে ফল অকৃতকার্য ধরে না। ছয় আবশ্যিক বিষয়ে A+, A+, A, A, A-, B (২৪.৫ ÷ ৬ = ৪.০৮) থাকলে ৪র্থ বিষয়ে F, D বা C-তে ৪.০৮ থাকে; B-তে ৪.২৫ ও A-তে ৪.৪২।

ছয় আবশ্যিক বিষয়ে GPA ৪.০৮ থাকলে ৪র্থ বিষয়ে F, D বা C হলে ৪.০৮ থাকে; B-তে ৪.২৫, A-তে ৪.৪২
উদাহরণ কাল্পনিক। হিসাব Sellshop Tools-এর SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটরের নিয়মে; বোর্ডের মার্কশিটই চূড়ান্ত।

ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নির্দেশনা নিয়ে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে “চতুর্থ বিষয় বাদে” এক বিষয়ে অকৃতকার্য থাকার কথা আছে, যা এই দিকেই ইঙ্গিত করে। তবে বোর্ডের মূল নিয়ম আমরা মিলিয়ে দেখিনি।

নম্বর ঠিক থাকলেও টুলের D ধরে নেবেন না

টুল শুধু বিষয়ের মোট নম্বর দেখে ৩৩-এর সীমা ধরে। বিষয়ে আলাদা অংশ (যেমন তত্ত্ব ও ব্যবহারিক) থাকলে প্রতি অংশের নিজস্ব পাসমার্ক থাকতে পারে; টুল তা দেখে না, আমরাও বোর্ডের নিয়ম মেলাইনি। মার্কশিটে F থাকলে সেটিই চূড়ান্ত।

ফল ভুল মনে হলে: পুনর্নিরীক্ষণ

২০২৬ সালের এসএসসিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয় (ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন)। সময় প্রায় এক সপ্তাহ, তাই ফল দেখেই বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি খুলুন। ফি সূত্রভেদে আলাদা অঙ্কে পেয়েছি, তাই এখানে লিখিনি।

ফেলের পর পরীক্ষা: বর্তমান নিয়ম ও আসছে পরিকল্পনা

প্রথম আলোর ১৩ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমান নিয়মে এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর শুধু ওই বিষয়ে, অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। অক্টোবরে সরকার আরও কম সময়ে পুনঃপরীক্ষার কথা বলছে: শিক্ষামন্ত্রী সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে ফেলদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষার কথা বলেছেন, শিক্ষা বোর্ডগুলো তিন মাসের মধ্যে নিতে প্রস্তুত বলে মত দিয়েছে, আর কালের কণ্ঠের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ২০২৭ থেকে কার্যকরের কথা এসেছে। সময়সীমা ও শুরুর বছর সূত্রে মেলে না, এবং বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা দেখিনি (সর্বশেষ দেখা ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন)। তাই এটি নিয়ম নয়, পরিকল্পনা; নিজের বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

পরে ওই বিষয়ে D, C বা B পেলে এবং বাকি পাঁচটির গ্রেড একই থাকলে টুলে GPA হয় ৩.৭৫, ৩.৯২ ও ৪.০৮। বোর্ড আগের পাস করা বিষয়ের গ্রেড নতুন ফলে কীভাবে ধরে, তা আমরা মেলাইনি; এটি আমাদের হিসাব। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে সেমিস্টারের ফল আলাদা নিয়মে হয়, তার জন্য CGPA ক্যালকুলেটর দেখুন।

টুলে মেলানোর ধাপ

  1. SSC/HSC GPA ক্যালকুলেটর খুললে ছয়টি আবশ্যিক সারি ও একটি ৪র্থ বিষয়ের সারি থাকে। প্রথম পাঁচ সারিতে A+, A+, A, A, A- বাছুন, ষষ্ঠ সারিতে F: টুল “ফল অকৃতকার্য” বার্তা ও GPA ০.০০ দেখাবে।
  2. “নম্বর লিখব” বেছে ষষ্ঠ সারিতে ৩২ লিখুন (অকৃতকার্য), তারপর ৩৩ (GPA ৩.৭৫)।
  3. ষষ্ঠ সারিতে B (বা ৫০ নম্বর) দিন: GPA ৪.০৮। এবার ৪র্থ বিষয়ের সারিতে F বাছুন: GPA ৪.০৮-ই থাকবে।
  4. ৪র্থ বিষয়ে A দিন: GPA ৪.৪২ হবে, আর “৪র্থ বিষয় থেকে যোগ হওয়া পয়েন্ট” ২.০০ দেখাবে।

নম্বরের শতকরা মান দেখতে চাইলে শতকরা হিসাব টুল কাজে লাগবে। নম্বর থেকে GPA-র সাধারণ নিয়ম আছে SSC/HSC GPA হিসাবের নিয়ম গাইডে।

সূত্র ও যাচাইয়ের অবস্থা: সব অঙ্ক Sellshop Tools ১.৩০.০-এর boardGpa ও boardGradeFromMarks (src/tools.src.js) হুবহু Node-এ চালিয়ে বের করা; গ্রেড-স্কেল টুলের হার-তালিকার সারি, যা এখনো বোর্ডের মূল বিজ্ঞপ্তিতে মেলানো হয়নি। পুনঃপরীক্ষার তথ্য প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, শিক্ষাবার্তা ও ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন থেকে; পুনর্নিরীক্ষণের সময় ঢাকা টাইমস থেকে। বোর্ডের মূল প্রজ্ঞাপন নিজে খোলা হয়নি। হালনাগাদ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬।

GPA ও CGPA-র ছয়টি প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় দেখতে পড়ুন GPA ও CGPA এক জায়গায়: হিসাব, ৪র্থ বিষয়, F, ভর্তির শর্ত।

সাধারণ প্রশ্ন

একটি বিষয়ে F পেলে GPA কত হয়?

আবশ্যিক বিষয়ে F হলে ফল অকৃতকার্য, ক্যালকুলেটর GPA ০.০০ দেখায়। বাকি বিষয়ের পয়েন্ট থেকে গড় ধরা হয় না।

৪র্থ বিষয়ে F পেলে কি ফল অকৃতকার্য?

টুলের নিয়মে না: ৪র্থ বিষয়ের ২-এর ওপরের পয়েন্ট যোগ হয়, তাই F-এ কিছু যোগ হয় না, কিন্তু ফলও অকৃতকার্য হয় না। বোর্ডের মূল নিয়ম মেলানো হয়নি।

৩৩ নম্বর পেলে কি পাস?

টুলে ৩৩ নম্বরে D (১.০০) ধরা হয়, তাই পাস। তবে আলাদা অংশের পাসমার্ক থাকলে মার্কশিটের ফলই ঠিক।

ফেল করা বিষয়ে কবে আবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?

বর্তমান নিয়মে পরের বছর। ১৫ দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার পরিকল্পনা আছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা দেখিনি।

ফেল ভুল মনে হলে কী করব?

ফল প্রকাশের পর বোর্ড যে অল্প সময়ের জানালা দেয়, তার মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করুন। ২০২৬ সালের এসএসসিতে তা ছিল ১১ থেকে ১৭ আগস্ট।