বেতন থেকে আয়কর হিসাব ২০২৬-২৭: করমুক্ত অংশ, মাসিক কর ও উদাহরণ

বেতন থেকে আয়কর: মাসে ৳ ৮৩,০০০ ও বছরে ৳ ১,০০,০০০ বোনাসে বার্ষিক কর ৳ ৩৪,৬০০, মাসে গড়ে ৳ ২,৮৮৩

হালনাগাদ নোট: এই লেখার কিছু হার এখনো মূল সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়নি (বেতন আয়ের করমুক্ত অংশ)। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে দেখে নিন।

বেতনভোগীর আয়কর হিসাব সাধারণ করদাতার চেয়ে এক ধাপ বেশি: আগে মোট বেতন থেকে করমুক্ত অংশ বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করতে হয়, তারপর স্ল্যাব বসে। দ্রুত হিসাবের জন্য বেতন থেকে আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। এই লেখায় আয়বছর ২০২৫-২৬ (কর বছর ২০২৬-২৭)-এর হিসাব একটি পূর্ণ উদাহরণসহ ধাপে ধাপে দেখানো হলো, সঙ্গে মাসে গড়ে কত কর পড়ে ও উৎসে কাটা করের সমন্বয়।

হিসাবের ছয় ধাপ

  1. বছরের মোট বেতন: মাসিক মূল বেতন ও সব ভাতার যোগফল × ১২, সঙ্গে বছরের বোনাস।
  2. করমুক্ত অংশ: মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৳ ৫,০০,০০০, যেটি কম।
  3. করযোগ্য আয়: মোট বেতন − করমুক্ত অংশ।
  4. স্ল্যাবের কর: করযোগ্য আয়ের প্রথম অংশ (করদাতার ধরনভেদে ৳ ৪,০০,০০০ থেকে) করমুক্ত, তারপর ১০%, ১৫%, ২০%, ২৫% ও ৩০% ধাপে। স্ল্যাবের বিস্তারিত দেখুন আয়করের গাইডে।
  5. বিনিয়োগ রেয়াত: করযোগ্য আয়ের ৩%, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০% ও ৳ ৭,৫০,০০০-এর মধ্যে যেটি কম, তা কর থেকে বাদ।
  6. ন্যূনতম কর: করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমার ওপরে থাকলে দেয় কর ন্যূনতম করের (সাধারণ করদাতার জন্য ৳ ৫,০০০) চেয়ে কম হয় না।

উদাহরণ: মাসে ৳ ৮৩,০০০ ও বছরে ৳ ১,০০,০০০ বোনাস

ক্যালকুলেটরের ডিফল্ট ঘরের মান ধরা হলো: মূল বেতন ৳ ৫০,০০০, বাড়িভাড়া ৳ ২৫,০০০, চিকিৎসা ৳ ৫,০০০, যাতায়াত ৳ ৩,০০০ এবং বছরে বোনাস ৳ ১,০০,০০০। সাধারণ করদাতা, বিনিয়োগ নেই।

ধাপহিসাবফল
মোট বেতন৮৩,০০০ × ১২ + ১,০০,০০০৳ ১০,৯৬,০০০
করমুক্ত অংশ১০,৯৬,০০০ ÷ ৩ (৫ লাখের কম)৳ ৩,৬৫,৩৩৩
করযোগ্য আয়১০,৯৬,০০০ − ৩,৬৫,৩৩৩৳ ৭,৩০,৬৬৭
করমুক্ত সীমা বাদে৭,৩০,৬৬৭ − ৪,০০,০০০৳ ৩,৩০,৬৬৭
প্রথম ৳ ৩,০০,০০০-এ ১০%৳ ৩০,০০০
পরের ৳ ৩০,৬৬৭-এ ১৫%৳ ৪,৬০০
বার্ষিক দেয় কর৳ ৩৪,৬০০
মাসে গড়ে৩৪,৬০০ ÷ ১২প্রায় ৳ ২,৮৮৩

অর্থাৎ ৳ ১০,৯৬,০০০ মোট বেতনে কর প্রায় ৩.২%, কারণ এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত ধরার পর স্ল্যাবের নিচের ধাপেই আয় থাকে।

করমুক্ত অংশের ৳ ৫,০০,০০০ সীমা কখন কাজ করে

মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ ৳ ৫,০০,০০০ ছাড়ালে বাদ পড়ে শুধু ৳ ৫,০০,০০০। উদাহরণ: মাসে ৳ ১,৫০,০০০ ও বছরে ৳ ৩,০০,০০০ বোনাস, মোট বেতন ৳ ২১,০০,০০০।

  • এক-তৃতীয়াংশ = ৳ ৭,০০,০০০, তাই সীমা ৳ ৫,০০,০০০ খাটে।
  • করযোগ্য আয় ৳ ১৬,০০,০০০। করমুক্ত ৳ ৪,০০,০০০ বাদে ১২,০০,০০০-এ: ৩০,০০০ + ৬০,০০০ + ১,০০,০০০ = ৳ ১,৯০,০০০।

এই সীমার কারণে বেশি বেতনে মোট বেতনের তুলনায় করমুক্ত অংশের শতাংশ কমে যায়।

বিনিয়োগ করলে কর কত কমে

ওপরের প্রথম উদাহরণে ধরুন ৳ ১,০০,০০০ অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ। করযোগ্য আয়ের ৩% = ৳ ২১,৯২০, বিনিয়োগের ১০% = ৳ ১০,০০০; কমটি ৳ ১০,০০০। দেয় কর ৳ ৩৪,৬০০ − ৳ ১০,০০০ = ৳ ২৪,৬০০, মাসে গড়ে ৳ ২,০৫০। পুরো রেয়াত পেতে এই ক্ষেত্রে মোট প্রায় ৳ ২,১৯,২০০ বিনিয়োগ লাগত।

উৎসে কাটা কর ও বাকি মাসের হিসাব

অনেক প্রতিষ্ঠান মাসে মাসে বেতন থেকে কর কেটে জমা দেয়। বার্ষিক দেয় করের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখলে বাকি কর বোঝা যায়। ধরুন প্রথম ৬ মাসে মোট ৳ ২০,০০০ কাটা হয়েছে:

  • বাকি কর = ৳ ৩৪,৬০০ − ৳ ২০,০০০ = ৳ ১৪,৬০০।
  • বাকি ৬ মাসে প্রতি মাসে ৳ ১৪,৬০০ ÷ ৬ = প্রায় ৳ ২,৪৩৩ কাটা দরকার।

প্রতিষ্ঠান আসলে কত কাটে তা এই গড়ের সমান নাও হতে পারে। বেতন-স্লিপ বা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগের হিসাবই এখানে চূড়ান্ত।

আয় কম হলে

মাসে ৳ ৩০,০০০ বেতন, বোনাস নেই: মোট ৳ ৩,৬০,০০০, করমুক্ত অংশ ৳ ১,২০,০০০, করযোগ্য আয় ৳ ২,৪০,০০০। এটি সাধারণ করদাতার ৳ ৪,০০,০০০ সীমার নিচে, তাই কর শূন্য। তবে আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা থাকে; তা এনবিআর-এর নির্দেশনায় দেখে নিন।

যে বিষয়গুলো এই হিসাবে ধরা হয়নি

  • প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্য আয় (যেমন বাড়িভাড়া, সুদ)।
  • নিট সম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জ।
  • ক্যালকুলেটর সব ভাতা ও বোনাস মোট বেতনে যোগ করে এক-তৃতীয়াংশের নিয়ম বসায়। আপনার কোন ভাতা কীভাবে ধরা হবে, তা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ বা কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

সূত্র ও যাচাইয়ের অবস্থা: আয়কর আইন ২০২৩ (ষষ্ঠ তফসিল) ও অর্থ আইন ২০২৬, এনবিআর। বেতনের করমুক্ত অংশের হার (এক-তৃতীয়াংশ বা ৳ ৫,০০,০০০) এখনো ২০২৬-২৭ করবর্ষের মূল নথিতে মেলানো হয়নি, তাই রিটার্ন জমার আগে এনবিআর-এর সর্বশেষ নির্দেশনায় দেখে নিন। এটি আনুমানিক হিসাব। হালনাগাদ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

বেতনের কত অংশ করমুক্ত?

এই ক্যালকুলেটরে মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৳ ৫,০০,০০০, যেটি কম, করমুক্ত ধরা হয়েছে। এই হার ২০২৬-২৭ করবর্ষের মূল নথিতে এখনো মেলানো হয়নি, তাই এনবিআর-এর সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।

বেতন থেকে মাসে কত আয়কর কাটা হয়?

বার্ষিক দেয় করকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে গড়ে কত পড়ে তা মেলে। যেমন বার্ষিক ৳ ৩৪,৬০০ হলে মাসে প্রায় ৳ ২,৮৮৩। প্রতিষ্ঠান আসলে কত কাটে তা আলাদা হতে পারে।

উৎসে কাটা কর কি বার্ষিক করের চেয়ে বেশি হতে পারে?

হ্যাঁ, কখনো কখনো। তখন বাকি কর শূন্য ধরা হয় এবং বাড়তি কাটা অংশ রিটার্নে সমন্বয়ের বিষয়। এর নিয়ম এনবিআর-এর নির্দেশনায় দেখুন।

বোনাস কি আলাদা করে ধরতে হয়?

এই হিসাবে বছরের মোট বোনাস মোট বেতনের সঙ্গে যোগ হয়, তারপর এক-তৃতীয়াংশের নিয়ম খাটে। উদাহরণে ৳ ১,০০,০০০ বোনাস যোগ হয়ে মোট বেতন ৳ ১০,৯৬,০০০।