
ধরুন তানভীর নামে এক কাল্পনিক পাঠক বাংলা টাইপিং টেস্টে এক মিনিটে পেলেন ২৮ শব্দ প্রতি মিনিট, নির্ভুলতা ৯২%। এক বন্ধু বলল, অন্য এক সাইটে সে ৪৫ পেয়েছে। তাহলে কি বন্ধুর হাত এত দ্রুত, নাকি দুই টেস্টের মাপার নিয়ম আলাদা? উত্তর বুঝতে হলে জানা দরকার টুল ঠিক কী গোনে। এই লেখায় সেই নিয়ম ধাপে ধাপে আছে। উদাহরণের সব সংখ্যা আমি টুলের নিজের গণনার ফাংশন Node-এ চালিয়ে বের করেছি।
দুটি সূত্র: গতি ও নির্ভুলতা

টুল দুটি সংখ্যা বের করে।
- গতি (শব্দ প্রতি মিনিট) = (সঠিক অক্ষর ÷ ৫) ÷ মিনিট। পাঁচটি অক্ষরকে এক শব্দ ধরা হয়, তাই টুলের “শব্দ” মানে বাংলার আসল শব্দ নয়। গতিতে শুধু সঠিক অক্ষর ধরা হয়, ভুল অক্ষর গোনা হয় না।
- নির্ভুলতা = সঠিক অক্ষর ÷ আপনার টাইপ করা অক্ষর × ১০০।
উদাহরণ: তানভীর এক মিনিটে ১৫০টি অক্ষর লিখলেন, তার ১৩৮টি অনুচ্ছেদের সঙ্গে মিলল। গতি = (১৩৮ ÷ ৫) ÷ ১ = ২৭.৬, পর্দায় ২৮। নির্ভুলতা = ১৩৮ ÷ ১৫০ = ৯২%। সবগুলো ঠিক হলে গতি হতো ৩০। অর্থাৎ ১২টি ভুল অক্ষর গতি থেকে ১২ ÷ ৫ = ২.৪ শব্দ কেটে নিল, আবার নির্ভুলতাও কমাল।
“অক্ষর” মানে এখানে ইউনিকোড চিহ্ন

টুল অক্ষর বলতে গোনে কম্পিউটারে জমা হওয়া চিহ্ন (ইউনিকোড চিহ্ন), চোখে দেখা অক্ষর নয়। বাংলায় যুক্তাক্ষর বা কারযুক্ত অক্ষর কয়েকটি চিহ্নে তৈরি। “দক্ষতা” শব্দে চোখে তিনটি অংশ (দ, ক্ষ, তা), কিন্তু চিহ্ন ছয়টি: দ, ক, ্ (হসন্ত), ষ, ত ও া। “ক্ষেত্রেও” শব্দে চিহ্ন নয়টি, “টাইপিংয়ের” শব্দে দশটি। শেষটিতে য় নিজেই দুটি চিহ্ন (য ও ়), কারণ টুল তুলনার আগে লেখাকে NFC নামের সাধারণ রূপে আনে। বিস্তারিত আছে বাংলা অক্ষর গোনার জটিলতা গাইডে।
এর ফল: টুলের তিনটি অনুচ্ছেদ যথাক্রমে ২০৩, ২২৪ ও ১৭৯ চিহ্নের, অথচ ফাঁক ধরে গুনলে শব্দ ৩৬, ৩৫ ও ৩৩টি। চিহ্নকে ৫ দিয়ে ভাগ করলে “টুলের শব্দ” দাঁড়ায় ৪০.৬, ৪৪.৮ ও ৩৫.৮। যে টেস্ট আসল শব্দ বা চোখে দেখা অক্ষর গোনে, তার সংখ্যা এই টুলের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। নিজের উন্নতি মাপতে তাই একই টেস্ট বারবার ব্যবহার করাই ঠিক।
মিল দেখা হয় জায়গা ধরে

নির্ভুলতার হিসাবে টুল আপনার লেখার প্রথম চিহ্নকে অনুচ্ছেদের প্রথম চিহ্নের সঙ্গে, দ্বিতীয়টিকে দ্বিতীয়টির সঙ্গে, এভাবে এক এক করে মেলায়। তাই একটি চিহ্ন বাদ পড়লে তার পরের সব চিহ্ন এক ঘর সরে যায় আর ভুল ধরা পড়ে। ছোট উদাহরণ: লক্ষ্য “নদীর পাশে বসে” (১৩ চিহ্ন), আপনি লিখলেন “নদীরপাশে বসে”, অর্থাৎ “নদীর”-এর পরের ফাঁক বাদ। টাইপ করা ১২টির মধ্যে সঠিক মাত্র ৪টি, নির্ভুলতা ৩৩%। একটি ফাঁক বাদ পড়ার দাম এত বেশি।
লম্বা অনুচ্ছেদে ফল নির্ভর করে ভুলটি কোথায় ঘটল তার ওপর। “নদীর পাড়ে বসে বিকেলের আলো…” দিয়ে শুরু ১৭৯ চিহ্নের অনুচ্ছেদে একটি চিহ্ন বাদ পড়লে, ২১তম জায়গায় ঘটলে সঠিক থাকে ২০টি, নির্ভুলতা ১১%। ১৫১তম জায়গায় ঘটলে সঠিক থাকে ১৫০টি, নির্ভুলতা ৮৪% (টাইপ করা ১৭৮টির মধ্যে)।
ভালো খবর: টুল দেখে আপনার ঘরে এখন যে লেখা আছে তা, কীবোর্ডে কতবার কী চেপেছেন তা নয়। ভুল ধরে ব্যাকস্পেস দিয়ে ঠিক করলে নির্ভুলতা আবার উঠে আসে। শুধু ঠিক করতে যে সময় গেল, তা ঘড়ি থেকে কাটা পড়ে। তাই ভুল ধরা পড়ামাত্র ঠিক করা, জমতে না দেওয়াই সস্তা।
কীবোর্ডভেদে একই অক্ষরের দুই রূপ
একই বাংলা অক্ষর কোনো কীবোর্ডে একটি চিহ্ন হয়ে বসে, কোনোটিতে দুটি চিহ্ন মিলে। যেমন “ড়” এক চিহ্নে বা ড ও ় মিলে, আবার “ো” এক চিহ্নে বা ে ও া পরপর। টুল অনুচ্ছেদ আর আপনার লেখা, দুটিকেই তুলনার আগে NFC রূপে আনে, তাই যেকোনো পথে লিখলে মিলে যায়। আমি “বাড়ি” শব্দ দুই রূপে এবং “কো” দুই রূপে টুলের ফাংশনে দিয়ে দেখেছি, দুই ক্ষেত্রেই নির্ভুলতা ১০০%। টুলে পেস্ট করা আর টেনে আনা বন্ধ, লিখতেই হয়।
টেস্ট কখন শুরু ও শেষ হয়
- শুরু: আপনি প্রথম চিহ্ন লেখার মুহূর্তে ঘড়ি চালু হয়। আগে নয়। সময় বাছা যায় ১, ২ বা ৩ মিনিট।
- শেষ: দুইভাবে। সময় ফুরোলে, অথবা আপনার লেখা অনুচ্ছেদের সমান দৈর্ঘ্যে পৌঁছালে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে শেষ কয়েকটি চিহ্ন ভুল হলেও টেস্ট শেষ হয়ে যায়।
- আগে শেষ করলে: গতি মাপা হয় আসলে যত সময় গেছে তা দিয়ে, বাছা পুরো সময় দিয়ে নয়। উদাহরণ: ১৭৯ চিহ্নের অনুচ্ছেদ সব ঠিক রেখে ৭২ সেকেন্ডে শেষ করলে গতি = (১৭৯ ÷ ৫) ÷ (৭২ ÷ ৬০) = ২৯.৮, পর্দায় ৩০।
- অসম্ভব গতি: গতি ৩০০ শব্দ প্রতি মিনিটের বেশি এলে টুল ফল গোনে না এবং জানায়, লেখা সম্ভবত একসঙ্গে বসেছে (স্বয়ংক্রিয় পূরণ বা টেনে আনা)।
অনুচ্ছেদ ছোট বলে সময়ের বাছাই কাজে আসে কম। নিচের তালিকায় দেখুন, অনুচ্ছেদের পুরোটা লিখে ফেলতে (ফল ঠিক হোক বা না হোক) কত গতি লাগে:
| অনুচ্ছেদ | চিহ্ন | ১ মিনিটে শেষ করতে | ২ মিনিটে | ৩ মিনিটে |
|---|---|---|---|---|
| “আজ সকালে আকাশ…” | ২০৩ | ৪০.৬ | ২০.৩ | ১৩.৫ |
| “নিয়মিত অনুশীলন…” | ২২৪ | ৪৪.৮ | ২২.৪ | ১৪.৯ |
| “নদীর পাড়ে বসে…” | ১৭৯ | ৩৫.৮ | ১৭.৯ | ১১.৯ |
সংখ্যাগুলো শব্দ প্রতি মিনিটে। যেমন ৩ মিনিট বেছে প্রথম অনুচ্ছেদ করলে গতি ১৩.৫-এর নিচে থাকলেই সময় ফুরোবে, তার ওপরে থাকলে অনুচ্ছেদ শেষ হয়ে টেস্ট আগেই থামবে। অর্থাৎ ৩০ গতির কেউ ৩ মিনিট বাছলেও দুই মিনিটের আগেই শেষ করবেন।
যা মনে রাখবেন
- অফিসিয়াল মান নয়: এই হিসাব একটি সরল সূত্র। চাকরির বা সরকারি টাইপিং পরীক্ষা শব্দ গোনার ও ভুলের হিসাব অন্যভাবে করতে পারে। সেখানকার নিয়ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
- অনুচ্ছেদ মাত্র তিনটি: বারবার করলে লেখা মুখস্থ হয়ে গতি বেশি আসতে পারে। “নতুন অনুচ্ছেদ” চেপে বদলান।
- কীবোর্ড: Unicode বাংলা বের হয় এমন যেকোনো কীবোর্ডে চলে, যেমন অভ্র ফোনেটিক বা ফোনের বাংলা কীবোর্ড। বিজয়ের পুরোনো ফন্টভিত্তিক আউটপুট মিলবে না। পুরোনো লেখা ঠিক করতে বিজয় থেকে ইউনিকোড গাইড দেখুন।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: লেখার সব সংখ্যা টুলের সোর্স কোড পড়ে আর তার গণনার ফাংশন (গতি-নির্ভুলতা ও শব্দের রং ঠিক করার অংশ) Node-এ চালিয়ে মেলানো। টুলটি আসল ব্রাউজারে খুলে চালিয়ে দেখিনি। তানভীর ও তার বন্ধু কাল্পনিক, ৪৫ সংখ্যাটিও উদাহরণ মাত্র। হালনাগাদ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬।
গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে বাংলা টাইপিং অনুশীলন: আগে নির্ভুলতা, তারপর গতি গাইডে।
সাধারণ প্রশ্ন
ভুল অক্ষর কি গতিতে ধরা হয়?
না। গতির সূত্রে শুধু সঠিক অক্ষর আছে। তবে ভুল অক্ষর নির্ভুলতা কমায়, আর ভুল ঠিক করতে সময় গেলে গতিও পড়ে।
৫ অক্ষরে এক শব্দ কেন?
এটি টাইপিং মাপার একটি প্রচলিত সাধারণ নিয়ম, যা টুল বাংলাতেও নেয়। বাংলা শব্দ গড়ে ৫ চিহ্নের কম বা বেশি হতে পারে। টুলের তিনটি অনুচ্ছেদে ফাঁক-ধরা শব্দপিছু চিহ্ন গড়ে ৫.৪ থেকে ৬.৪।
অন্য সাইটে আমার গতি বেশি আসে কেন?
অনুচ্ছেদ, শব্দ গোনার নিয়ম আর ভুলের হিসাব আলাদা হলে সংখ্যা ভিন্ন আসবেই। কোনোটিই “ভুল” নয়। নিজের উন্নতি দেখতে একই টেস্টের ফল পাশাপাশি রাখুন।
সময় শেষের আগে অনুচ্ছেদ ফুরোলে কী হয়?
টেস্ট থেমে যায় এবং আসলে যত সময় গেছে তা দিয়ে গতি মাপা হয়।
“এত দ্রুত টাইপ সম্ভব নয়” বার্তা এল কেন?
টুল গতি ৩০০ শব্দ প্রতি মিনিটের বেশি পেলে ধরে নেয় লেখা একসঙ্গে বসেছে, যেমন কীবোর্ডের স্বয়ংক্রিয় পূরণে। তখন “আবার চেষ্টা” চেপে নিজে টাইপ করুন।
