
নুসরাত নামে এক কাল্পনিক শিক্ষার্থী স্কুলের অনুষ্ঠানের নোটিশে “৩০ ফাল্গুন ১৪৩২” লিখে বাংলা তারিখ কনভার্টার টুলে বসাল। টুল ইংরেজি তারিখ না দিয়ে জানাল: “ফাল্গুন মাসে ১৪৩২ সালে ১ থেকে ২৯ তারিখ আছে।” ভুল কোথায়? ফাল্গুন কি তবে সব বছরেই ২৯ দিনের? এই লেখায় বারো মাসের দিনসংখ্যা, ছয় ঋতু, আর ফাল্গুন কখন ২৯ ও কখন ৩০ দিনের হয়, তা আছে। তারিখ হাতে বের করার নিয়ম আলাদা, তা আছে আগের গাইডে। সব হিসাব আমি টুলের নিজের ফাংশন Node-এ চালিয়ে মিলিয়েছি।
বারো মাসের দিনসংখ্যা ও ঋতু

টুল বাংলাদেশের সংশোধিত পঞ্জিকা ধরে হিসাব করে। এতে মাসের দিনসংখ্যা এমন:
| ঋতু | মাস | দিন |
|---|---|---|
| গ্রীষ্ম | বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ | ৩১ ও ৩১ |
| বর্ষা | আষাঢ়, শ্রাবণ | ৩১ ও ৩১ |
| শরৎ | ভাদ্র, আশ্বিন | ৩১ ও ৩১ |
| হেমন্ত | কার্তিক, অগ্রহায়ণ | ৩০ ও ৩০ |
| শীত | পৌষ, মাঘ | ৩০ ও ৩০ |
| বসন্ত | ফাল্গুন, চৈত্র | ২৯ (অধিবর্ষে ৩০) ও ৩০ |
প্রতি ঋতুতে দুটি মাস, আর টুল ইংরেজি তারিখ বদলানোর সময় এই ঋতুর নামই দেখায়, যেমন “হেমন্তকাল”। যোগ করে দেখুন: ছয় মাস ৩১ দিন করে ১৮৬, চার মাস ৩০ দিন করে ১২০, মোট ৩০৬। এর সঙ্গে ফাল্গুন ২৯ ও চৈত্র ৩০ যোগ করলে ৩৬৫। অধিবর্ষে ফাল্গুন ৩০ হয়, তাই বছর হয় ৩৬৬।
ফাল্গুন কবে ৩০ দিনের

নিয়মটি সহজ: ফাল্গুন ইংরেজি যে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে পড়ে, সেই বছর অধিবর্ষ হলে ফাল্গুন ৩০ দিনের, নইলে ২৯। ইংরেজি বছর অধিবর্ষ হয় ৪ দিয়ে ভাগ গেলে, তবে শতকের সাল (১৯০০, ২১০০) হলে ৪০০ দিয়েও ভাগ যেতে হবে। তাই ২০০০ অধিবর্ষ, ২১০০ নয়।
বঙ্গাব্দ থেকে সেই ইংরেজি বছর পেতে ৫৯৪ যোগ করুন:
- ১৪৩০ + ৫৯৪ = ২০২৪, অধিবর্ষ। ফাল্গুন ৩০ দিন, বছর ৩৬৬ দিন।
- ১৪৩১, ১৪৩২ ও ১৪৩৩ (২০২৫, ২০২৬, ২০২৭): অধিবর্ষ নয়, ফাল্গুন ২৯ দিন।
- ১৪৩৪ + ৫৯৪ = ২০২৮, অধিবর্ষ। ফাল্গুন ৩০ দিন।
- ১৫০৬ + ৫৯৪ = ২১০০, শতকের সাল কিন্তু ৪০০ দিয়ে ভাগ যায় না। ফাল্গুন ২৯ দিন।
- ১৪০৬ + ৫৯৪ = ২০০০, ৪০০ দিয়ে ভাগ যায়। ফাল্গুন ৩০ দিন।
নুসরাতের ১৪৩২ সাল তাই ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে পড়ে, যা অধিবর্ষ নয়। ফাল্গুনের শেষ দিন ২৯ ফাল্গুন, মানে ১৪ মার্চ ২০২৬। ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বলে কিছু নেই, তাই টুলের বার্তা ঠিক। সে ৩০ ফাল্গুন লিখতে পারত ১৪৩৪ সালে (২০২৮)। পরের ৩০ ফাল্গুন-ওয়ালা বছরগুলো ১৪৩৪ ও ১৪৩৮।
অধিবর্ষের ছোট প্রভাব: মার্চে এক দিন এগোনো

এই পঞ্জিকার একটি সুন্দর দিক হলো মাসের শুরুগুলো স্থির: ফাল্গুন সব বছরে ১৪ ফেব্রুয়ারি ও চৈত্র সব বছরে ১৫ মার্চ শুরু হয়। তাহলে ফাল্গুন কখনো ২৯ কখনো ৩০ দিনের হয় কীভাবে? উত্তর, ফেব্রুয়ারিতে ২৯ তারিখ থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এক দিন বেশি পড়ে। ফলে ফাল্গুনের শেষ দিন দুই রকম বছরেই ১৪ মার্চ: সাধারণ বছরে সেটি ২৯ ফাল্গুন, অধিবর্ষে ৩০ ফাল্গুন।
এর ফল হলো ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা তারিখ দুই রকম বছরে একই। যেমন ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই বছরেই ১৫ ফাল্গুন। কিন্তু অধিবর্ষে ২৯ ফেব্রুয়ারি নিজেই একটি তারিখ (১৬ ফাল্গুন), তাই ১ থেকে ১৪ মার্চ বাংলা তারিখ এক বেশি হয়:
- ১ মার্চ ২০২৫ (অধিবর্ষ নয়) = ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১
- ১ মার্চ ২০২৪ (অধিবর্ষ) = ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
- ১৪ মার্চ ২০২৫ = ২৯ ফাল্গুন ১৪৩১, আর ১৪ মার্চ ২০২৪ = ৩০ ফাল্গুন ১৪৩০
- ১৫ মার্চ দুই বছরেই ১ চৈত্র
তাই মার্চের শুরুর তারিখের বাংলা রূপ মুখস্থ না করে সালসহ হিসাব বা টুল ব্যবহার করুন।
যে দিনগুলো প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে
টুলের নিজের ব্যাখ্যায় বলা আছে, সংশোধনের লক্ষ্য ছিল জাতীয় দিবসগুলো বছর বছর একই বাংলা তারিখে রাখা। টুলের হিসাবে এমন কয়েকটি দিন:
- ১৪ এপ্রিল = ১ বৈশাখ (পহেলা বৈশাখ)
- ২১ ফেব্রুয়ারি = ৮ ফাল্গুন (ফাল্গুন সব বছরেই ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু, তাই অধিবর্ষের ২০২৪ সালেও ৮ ফাল্গুন)
- ২৬ মার্চ = ১২ চৈত্র (১৫ মার্চের পরে, তাই অধিবর্ষের প্রভাব নেই)
- ১৬ ডিসেম্বর = ১ পৌষ
মার্চের ১ থেকে ১৪ তারিখ ছাড়া প্রায় সব তারিখ এমন স্থির। আগের গাইডে দেখেছেন, ২০২৬ সালে ১ বৈশাখ মঙ্গলবার, ২০২৭ সালে বুধবার। বার প্রতি বছর বদলায়, বাংলা তারিখ বদলায় না।
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকার সঙ্গে মিলবে না কেন
টুলের নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে সূর্যসিদ্ধান্ত ধরে পঞ্জিকা চলে, তাই মাসের শুরু ও দিনসংখ্যা আলাদা; সেখানে ১ ফাল্গুন সাধারণত ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই কথা আমি আলাদা কোনো সূত্র থেকে মেলাইনি, টুলের লেখাই বলছি। মূল ব্যাপার হলো, এই টুলের ফল বাংলাদেশের পঞ্জিকার, আর কলকাতার ক্যালেন্ডার হাতে নিলে এক-দুই দিনের ফারাক দেখা যাবে।
ছাপার আগে তিনটি পরীক্ষা
নিমন্ত্রণপত্র, নোটিশ বা ক্যালেন্ডারে বাংলা তারিখ বসানোর আগে:
- মাসের সীমা: দিনটি ওই মাসে আছে কি না দেখুন। ফাল্গুনে ৩০ লিখলে আগে সালের অধিবর্ষ দেখুন।
- বার মেলানো: ইংরেজি তারিখের বার আর আপনার লেখা বার এক কি না মিলিয়ে নিন। টুল দুই দিক থেকেই বার দেয়।
- বছর: জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের তারিখে ইংরেজি বছর − ৫৯৪, ১৪ এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত − ৫৯৩।
১ বৈশাখ থেকে কত দিন পরে কোন মাস
নিজের হিসাব মেলাতে ১৪ এপ্রিল থেকে দিন গোনাও কাজে লাগে। ১ বৈশাখ ধরে মাসের শুরু কত দিন পরে:
- ১ কার্তিক: ১৮৬ দিন পরে, কারণ আগের ছয় মাস ৩১ দিন করে (৬ × ৩১ = ১৮৬)। ১৪ এপ্রিলে ১৮৬ দিন যোগ করলে ১৭ অক্টোবর।
- ১ ফাল্গুন: ৩০৬ দিন পরে (১৮৬ + ৪ × ৩০)। তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি।
- ১ চৈত্র: সাধারণ বছরে ৩৩৫ দিন পরে, অধিবর্ষে ৩৩৬। দুই ক্ষেত্রেই তারিখ ১৫ মার্চ।
- পরের ১ বৈশাখ: ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন পরে, মানে পরের ১৪ এপ্রিল।
এই সংখ্যাগুলো ১৪৩৩ (সাধারণ) ও ১৪৩৪ (অধিবর্ষ) বছরের জন্য টুলের হিসাবে মিলিয়ে দেখেছি। ফাল্গুনের আগের সব মাসে সংখ্যা দুই রকম বছরেই এক, কারণ অতিরিক্ত দিনটি ২৯ ফেব্রুয়ারিতে, ফাল্গুনের ভেতরে।
যা মনে রাখবেন
- টুল একই নিয়ম ১ থেকে ৩০০০ বঙ্গাব্দের সব বছরে চালায়। পুরোনো বছরের তারিখ তখনকার প্রচলিত পঞ্জিকার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে।
- সরকারি ছুটি বা অনুষ্ঠানের তারিখ সরকারি ঘোষণা থেকে মিলিয়ে নিন।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: মাসের দিনসংখ্যা, ঋতুর নাম ও অধিবর্ষের নিয়ম আমি টুলের সোর্স কোড থেকে নিয়েছি এবং উদাহরণের সব তারিখ ও বার সেই কোডের ফাংশন Node-এ চালিয়ে বের করেছি। টুলটি আসল ব্রাউজারে খুলে চালিয়ে দেখিনি, আর বাংলা একাডেমির মূল প্রজ্ঞাপনও নিজে খুলে মেলাইনি। জাতীয় দিবসের নাম ও ১৪, ১৬, ২১ ও ২৬ তারিখের পরিচয় সাধারণ জ্ঞান থেকে, সরকারি গেজেট মেলানো নয়। নুসরাত ও নোটিশ কাল্পনিক। হালনাগাদ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
১ কার্তিক ১৬ অক্টোবর নয় কেন?
অনেকে ধরে নেন ১ কার্তিক ১৬ অক্টোবর। এই টুলের নিয়মে আশ্বিনও ৩১ দিনের, তাই ১৬ অক্টোবর হলো ৩১ আশ্বিন আর ১ কার্তিক ১৭ অক্টোবর। টুলের হিসাবে এটি প্রতি বছরই এমন। যেমন ১৬ অক্টোবর ২০২৬ = ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩, শুক্রবার। অন্য কোনো ক্যালেন্ডারে ১৬ অক্টোবর ১ কার্তিক দেখলে সেটি অন্য নিয়মের পঞ্জিকা; কোনটি আপনার কাজে চলবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা দেখে ঠিক করুন।
বাংলা বছরে কত দিন?
টুলের নিয়মে সাধারণ বছরে ৩৬৫, আর ফাল্গুন ৩০ দিনের হলে ৩৬৬।
চৈত্রের শেষ দিন ইংরেজি কত তারিখ?
৩০ চৈত্র সব বছরেই ১৩ এপ্রিল। পরদিনই ১ বৈশাখ। যেমন ১৩ এপ্রিল ২০২৬ = ৩০ চৈত্র ১৪৩২, আর ১৪ এপ্রিল ২০২৬ = ১ বৈশাখ ১৪৩৩।
ফাল্গুনে ৩০ তারিখ লিখলে টুল কী বলে?
অধিবর্ষের বছরে (যেমন ১৪৩৪) ৩০ ফাল্গুনের ইংরেজি তারিখ দেয়, নইলে জানায় যে মাসে ২৯ তারিখ পর্যন্তই আছে।
ইংরেজি তারিখ থেকে বাংলা তারিখ কীভাবে বের করব?
প্রতি মাসের শুরুর ইংরেজি তারিখ ধরে বিয়োগ করে। ধাপ ও উদাহরণ আছে ইংরেজি তারিখ থেকে বাংলা তারিখ বের করার সহজ হিসাব গাইডে।
