ডলারের রেট: ব্যাংকের কেনা-বেচা রেট, ওপেন মার্কেট রেট ও কোনটি ধরে হিসাব করবেন

ব্যাংকের কেনা রেট ও বেচা রেটের পার্থক্য ১,০০০ ডলারে ২,০০০ টাকা

“ডলারের রেট কত?” প্রশ্নের একটি উত্তর নেই। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত রেট, আপনার ব্যাংকের কাউন্টারের রেট, এক্সচেঞ্জ হাউসের রেট আর পেমেন্ট সেবার রেট আলাদা হতে পারে। তাই ডলার-টাকা কনভার্টার-এ কোন রেট বসাবেন, সেটা ঠিক করাই হিসাবের অর্ধেক কাজ। এই লেখায় সেই বাছাইয়ের সহজ নিয়ম দেওয়া হলো।

আগে একটি কথা: এখানকার সব রেট উদাহরণ মাত্র, আজকের দর নয়। আজকের রেট জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা নিজের ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ রেট দেখুন।

কেনা রেট আর বেচা রেট

ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ সাধারণত দুটি রেট দেয়: একটি কেনার (Buying), অন্যটি বেচার (Selling)। এখানে “কেনা” বা “বেচা” বলতে ব্যাংকের দিক থেকে বোঝায়। ব্যাংক যে রেটে আপনার কাছ থেকে ডলার কেনে, সেটি কম; যে রেটে আপনাকে ডলার বেচে, সেটি বেশি। এই দুইয়ের ফারাককেই বলে স্প্রেড, যা ব্যাংকের পাওনা।

কেনা রেটে ১,১৯,০০০ টাকা ও বেচা রেটে ১,২১,০০০ টাকার তুলনা
কেনা ও বেচা রেটের ফারাক।

উদাহরণ: ব্যাংকের কেনা রেট ১১৯ আর বেচা রেট ১২১ ধরলে ১,০০০ ডলার ব্যাংকে বেচলে পাবেন ১,১৯,০০০ টাকা, আর ব্যাংক থেকে কিনলে দিতে হবে ১,২১,০০০ টাকা। ফারাক ২,০০০ টাকা।

কোন কাজে কোন রেট

আপনার কাজকোন রেট ধরবেনকারণ
বিদেশি আয় ভাঙিয়ে টাকা নেওয়াব্যাংকের কেনা রেট (কম)ব্যাংক আপনার ডলার কিনছে
ডলার কিনে বিদেশে পাঠানো বা শোধ করাব্যাংকের বেচা রেট (বেশি)ব্যাংক আপনাকে ডলার বেচছে
শুধু মোটামুটি ধারণামাঝামাঝি রেটকোনো লেনদেন নয়, তাই খরচ ধরা নেই

আয়ের হিসাবে বেশি রেট ধরলে মনে হবে যত পাবেন তার চেয়ে বেশি; খরচের হিসাবে কম রেট ধরলে মনে হবে যত লাগবে তার চেয়ে কম। দুটোতেই হাতে এসে অঙ্ক মেলে না, তাই আয়ে কম আর খরচে বেশি রেট ধরাই নিরাপদ।

উৎস বদলালে ফারাক

২,০০০ ডলারকে ১১৮.৫০ ও ১২০ রেটে হিসাবের তুলনা
রেটের উৎস বদলালে টাকার ফারাক।

২,০০০ ডলারকে ১১৮.৫০ রেটে হিসাব করলে ২,৩৭,০০০ টাকা, ১২০ রেটে ২,৪০,০০০ টাকা। মাত্র দেড় টাকার রেট-ফারাকে ৩,০০০ টাকার তফাত। তাই বড় লেনদেনে কোন রেট ধরে হিসাব করেছেন, তা নোট করে রাখুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেট কীভাবে কাজে লাগে

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেট একটি রেফারেন্স। তবে আপনি যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করছেন, সেটি সাধারণত নিজের রেট ঠিক করে। অনলাইন পেমেন্ট সেবা আবার ভেতরে একটি মার্জিন ধরে নিজস্ব রেট দেখায়। তাই টাকা হাতে আসার আগে সেবাটির দেখানো রেট কাগজে-কলমে দেখে নিন, শুধু গুগলে দেখা রেটে ভরসা করবেন না।

বৈধ ব্যাংকিং বা অনুমোদিত চ্যানেলের বাইরে লেনদেনে আইনি ঝুঁকি ও প্রতারণার আশঙ্কা থাকে। রেট একটু ভালো মনে হলেও অনুমোদিত পথেই লেনদেন করুন।

টুলে কীভাবে বসাবেন

  1. প্রথমে ঠিক করুন আপনি ডলার পাচ্ছেন (আয়) না দিচ্ছেন (খরচ)।
  2. সেই অনুযায়ী ব্যাংকের কেনা বা বেচা রেট “১ USD = কত টাকা?” ঘরে বসান।
  3. পরিমাণ লিখে ফল দেখুন। তুলনা করতে চাইলে দুটি রেট পরপর বসিয়ে দেখুন কত তফাত হচ্ছে।

হিসাবের মূল সূত্র দেখুন ডলার থেকে টাকার হিসাবের গাইডে। ফ্রিল্যান্সারদের ফি বাদ দিয়ে হাতে পাওয়া অঙ্কের হিসাব আছে এই গাইডে।

সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: উদাহরণের রেট ও ফারাক কাল্পনিক। কেনা-বেচা রেটের নাম ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। টুল শুধু আপনার দেওয়া রেটে হিসাব করে, কোনো রেটের সত্যতা যাচাই করে না। হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্যাংক রেট আর ওপেন মার্কেট রেট আলাদা কেন?

প্রতিষ্ঠানভেদে চাহিদা, ফি ও মার্জিন আলাদা। তাই একই দিনেও রেটে ফারাক থাকতে পারে।

ডলার বেচতে গেলে কোন রেট ধরব?

ব্যাংকের কেনা রেট, কারণ ব্যাংক আপনার ডলার কিনছে। এই রেট কম হয়।

ডলার কিনতে গেলে?

ব্যাংকের বেচা রেট, যা বেশি হয়।

টুলের শুরুর রেট কি আজকের বাজারদর?

না। সেটি অ্যাডমিনের বসানো আনুমানিক রেট। পাশের তারিখ দেখুন আর নিজের রেট বসান।