
ইংরেজি থেকে বাংলায় যাওয়ার নিয়ম আমরা আগের গাইডে দেখেছি। এবার উল্টো কাজ। হাতে একটি বাংলা তারিখ, যেমন “৮ কার্তিক ১৪৩৩”, আর জানতে হবে ইংরেজিতে সেটা কত। এই কাজ বেশি আসে কাগজপত্র, নিমন্ত্রণপত্র বা পুরোনো লেখায়। বাংলা তারিখ কনভার্টার-এর দ্বিতীয় অংশটি ঠিক এই কাজ করে। এই লেখায় দেখব হিসাবটা কেমন, ফাল্গুনের ২৯ আর ৩০ দিনের ব্যাপারটা কী, আর কোথায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।
নিয়মটি তিন ধাপে
টুলের নিয়ম মনে রাখুন: ১ বৈশাখ সবসময় ১৪ এপ্রিল, প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনের, কার্তিক থেকে মাঘ ও চৈত্র ৩০ দিনের, আর ফাল্গুন ২৯ বা ৩০। এখন বাংলা থেকে ইংরেজিতে যেতে তিনটি কাজ:
- ইংরেজি সাল বের করুন। বঙ্গাব্দের সঙ্গে ৫৯৩ যোগ করুন। এটি সেই ইংরেজি সাল, যার ১৪ এপ্রিলে এই বাংলা বছর শুরু হয়েছে।
- আগের মাসগুলোর দিন যোগ করুন। আপনার মাসের আগে যতগুলো মাস গেছে, তাদের দিনসংখ্যার যোগফল নিন।
- মাসের দিন যোগ করুন। তারিখের সংখ্যা থেকে ১ বাদ দিয়ে ওপরের যোগফলে যোগ করুন। এই মোট দিনসংখ্যা ১৪ এপ্রিলের সঙ্গে যোগ করলেই ইংরেজি তারিখ।
উদাহরণ: ৮ কার্তিক ১৪৩৩। সাল ১৪৩৩ + ৫৯৩ = ২০২৬, তাই শুরু ১৪ এপ্রিল ২০২৬। কার্তিকের আগে ছয় মাস, প্রতিটি ৩১ দিন, মোট ১৮৬। তারিখ ৮, ৮ − ১ = ৭। মোট ১৮৬ + ৭ = ১৯৩ দিন। ১৪ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১৯৩ দিন পরে কোন দিন? এপ্রিলের বাকি ১৬ দিন (১৫ থেকে ৩০), মে ৩১, জুন ৩০, জুলাই ৩১, আগস্ট ৩১, সেপ্টেম্বর ৩০, যোগফল ১৬ + ৩১ + ৩০ + ৩১ + ৩১ + ৩০ = ১৬৯, বাকি ১৯৩ − ১৬৯ = ২৪, তাই অক্টোবরের ২৪ তারিখ। উত্তর ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার। টুলেও একই ফল।

আরও তিনটি উদাহরণ
নিচের তিনটি হিসাবও একই পদ্ধতিতে, আর টুলের ফল মিলিয়ে নেওয়া।
- ১২ চৈত্র ১৪৩২: সাল ১৪৩২ + ৫৯৩ = ২০২৫, শুরু ১৪ এপ্রিল ২০২৫। আগের এগারো মাস: ৬ × ৩১ = ১৮৬, কার্তিক থেকে মাঘ ৪ × ৩০ = ১২০, ফাল্গুন ২৯ (২০২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবর্ষ নয়), মোট ৩৩৫। তারিখ ১২, ১২ − ১ = ১১, মোট ৩৪৬ দিন। ১৪ এপ্রিল ২০২৫ + ৩৪৬ দিন = ২৬ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার।
- ১ পৌষ ১৪৩৩: আগের আট মাস, ৬ × ৩১ = ১৮৬, তারপর কার্তিক ও অগ্রহায়ণ ২ × ৩০ = ৬০, মোট ২৪৬। তারিখ ১, তাই ০ যোগ। ১৪ এপ্রিল ২০২৬ + ২৪৬ দিন = ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬, বুধবার।
- ১ মাঘ ১৪৩৩: আগের নয় মাস, ২৪৬ + ৩০ (পৌষ) = ২৭৬। ১৪ এপ্রিল ২০২৬ + ২৭৬ দিন = ১৫ জানুয়ারি ২০২৭, শুক্রবার। লক্ষ করুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের মাঘ ইংরেজি ক্যালেন্ডারে পড়েছে ২০২৭ সালে।
তৃতীয় উদাহরণ থেকে একটি সতর্কতা: বঙ্গাব্দের সঙ্গে ৫৯৩ যোগ করে যে ইংরেজি সাল আসে, সেটি শুধু বছরের শুরুর ১৪ এপ্রিলের সাল। মাঘ, ফাল্গুন বা চৈত্রের তারিখ ইংরেজিতে তার পরের সালে পড়ে। ১৪৩৩ সালের ফাল্গুন-চৈত্র পড়ে ২০২৭ সালে, যদিও ৫৯৩ যোগ করে পাওয়া সাল ২০২৬। টুল এই ঘোরপ্যাঁচ নিজেই সামলে নেয়।
ফাল্গুন ২৯ না ৩০
এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে। টুলের নিয়ম: ফাল্গুন সাধারণত ২৯ দিনের। কিন্তু ইংরেজি অধিবর্ষের ২৯ ফেব্রুয়ারি যে বাংলা বছরের ফাল্গুনে পড়ে, সেই বছরে ফাল্গুন ৩০ দিনের। অর্থাৎ বাংলা বছরের ফাল্গুন ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পড়ে, আর সেই ফেব্রুয়ারিতে যদি ২৯ ফেব্রুয়ারি থাকে, তবে একটি বাড়তি দিন যোগ হয়।

বিষয়টি তিনটি বছরে দেখুন। ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন পড়েছে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ, যা অধিবর্ষ নয়, তাই ২৯ দিন। ১৪৩৩-এর ফাল্গুন ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ, অধিবর্ষ নয়, তাই ২৯ দিন। ১৪৩৪-এর ফাল্গুন ফেব্রুয়ারি ২০২৮-এ, আর ২০২৮ অধিবর্ষ, তাই ৩০ দিন। ফলে ১৪৩৪ সালে ফাল্গুন শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৮, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৮ হলো ১৬ ফাল্গুন (মঙ্গলবার), ২৯ ফাল্গুন ১৩ মার্চ ২০২৮ (সোমবার), আর ৩০ ফাল্গুন ১৪ মার্চ ২০২৮ (মঙ্গলবার)। পরের দিন ১৫ মার্চ ১ চৈত্র।
তাই বছরের মোট দিনসংখ্যাও বদলে যায়। ১৪৩৩ সালে ৩৬৫ দিন (৬ × ৩১ + ৫ × ৩০ + ২৯ = ৩৬৫)। ১৪৩৪ সালে ৩৬৬ দিন, কারণ ফাল্গুনে একটি বাড়তি দিন। ইংরেজি অধিবর্ষের মতোই, বাংলা বছরের ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনের ছন্দ চলে।
টুলে ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ দিলে কী হয়
নিজে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। বাংলা থেকে ইংরেজি অংশে দিন ৩০, মাস ফাল্গুন, বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ লিখুন। টুল ফল দেখাবে না, বরং একটি বার্তা দেবে যে ফাল্গুন মাসে ১৪৩৩ সালে ১ থেকে ২৯ তারিখ আছে। বঙ্গাব্দ ১৪৩৪ করলে ৩০ তারিখ গ্রহণ করে আর ১৪ মার্চ ২০২৮ দেখায়। এটাই এই নিয়মের সবচেয়ে সরল পরীক্ষা। টুল বঙ্গাব্দ ১ থেকে ৩০০০-এর মধ্যে নেয়, এর বাইরে হলে সেটাও জানিয়ে দেয়।
পাঁচটি সাধারণ ভুল

১. ৫৯৩ আর ৫৯৪ গুলিয়ে ফেলা। ইংরেজি থেকে বাংলায় যেতে ১৪ এপ্রিলের পরের তারিখে ৫৯৩ ও আগের তারিখে ৫৯৪ বিয়োগ করতে হয়। উল্টো পথে সবসময় ৫৯৩ যোগ করে বছরের শুরুর সাল পান, তারপর মাস অনুযায়ী সালটি এগোয়।
২. ১ বৈশাখ ১৫ এপ্রিল ধরা। টুলে, অর্থাৎ বাংলাদেশের সংশোধিত পঞ্জিকায়, ১ বৈশাখ ১৪ এপ্রিল। ১৫ এপ্রিল হলো ২ বৈশাখ।
৩. সব মাস ৩০ দিনের ধরা। প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনের। এই ভুলে বছরের শেষ দিকের তারিখে ছয় দিন পর্যন্ত গরমিল হয়ে যায়।
৪. পশ্চিমবঙ্গের তারিখের সঙ্গে মেলানো। ওখানকার পঞ্জিকা আলাদা নিয়মে চলে, তাই কোনো ভারতীয় ক্যালেন্ডার বা অ্যাপের সঙ্গে এক-দুই দিনের ফারাক হতে পারে। দুটোই নিজ নিজ নিয়মে ঠিক।
৫. সময় বা মধ্যরাত নিয়ে ধরে নেওয়া। টুল শুধু তারিখ ধরে হিসাব করে, সময় নয়। রাত ১২টার কাছাকাছি সময়ে ঘটা কিছুর তারিখ নিয়ে সন্দেহ থাকলে মূল কাগজের তারিখই ধরুন।
নিজে মিলিয়ে নেওয়ার ছোট অনুশীলন
পদ্ধতিটা হাতে বসাতে চাইলে একটি ছোট অনুশীলন করে দেখুন। আপনার নিজের জন্মদিন বা পরিবারের কারও জন্মদিন বাংলা তারিখে ধরুন, তারপর ওপরের তিন ধাপে ইংরেজিতে ফিরুন। উত্তর টুলের সঙ্গে মিললে হিসাব ঠিক আছে। না মিললে সাধারণত দুটি জায়গায় ভুল থাকে: মাসের আগের দিনগুলোর যোগফলে বা তারিখ থেকে ১ বাদ দিতে ভুলে যাওয়ায়। দ্বিতীয় ভুলটি সবচেয়ে বেশি ঘটে। ১ তারিখ মানে বছরের শুরু থেকে ০ দিন পার, ২ তারিখ মানে ১ দিন, তাই সবসময় সংখ্যা থেকে ১ কমান।
আরেকটি কথা: যে বাংলা তারিখ আপনি বসাচ্ছেন, সেটা কোন বছরের, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। অনেক পুরোনো কাগজে শুধু “১৫ জ্যৈষ্ঠ” লেখা থাকে, বছর থাকে না, কিংবা শেষের দুই অঙ্ক (যেমন “৩২”) লেখা থাকে। বঙ্গাব্দ ১৪৩২ হলে লেখা হতে পারে “৩২”, তাই টুলে পুরো চার অঙ্কের সাল বসান, নইলে ফল ভুল সালে আসবে।
কখন কোন দিকের হিসাব কাজে লাগে
ইংরেজি থেকে বাংলায় যান যখন ফর্ম, কার্ড বা লেখায় বাংলা তারিখ বসাতে হবে, আর বাংলা থেকে ইংরেজিতে যান যখন বাংলা তারিখের কোনো দলিল বা নিমন্ত্রণের ইংরেজি তারিখ দরকার। দুই দিকেই টুলের নিয়ম একই, তাই একদিকে করে অন্যদিকে ফিরে এসে মিলিয়ে নেওয়া সবচেয়ে সহজ যাচাই। যেমন ২৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৮ কার্তিক ১৪৩৩ পেয়ে আবার ৮ কার্তিক ১৪৩৩ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এ ফিরলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, মাঝখানে কোনো মাস বা দিন বাদ পড়েনি।
সীমা, যা মনে রাখা দরকার
টুল বাংলাদেশের সংশোধিত পঞ্জিকার নিয়ম সব বছরে একই ধরে হিসাব করে। পুরোনো বছরের তারিখ তখনকার প্রচলিত পঞ্জিকার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। আর সরকারি ছুটি বা অনুষ্ঠানের তারিখ সরকারি ঘোষণা থেকেই মিলিয়ে নিন। হিসাবটি তারিখ বোঝার কাজে লাগে, কোনো আইনি বা সরকারি সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
