
একই কাজের জন্য একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং বা ওয়ালেট সেবা থাকলে প্রশ্ন আসে, কোনটিতে খরচ কম? উত্তরটা সবসময় সোজা নয়। একটিতে শতাংশ কম কিন্তু স্থির চার্জ আছে, আরেকটিতে শতাংশ বেশি কিন্তু স্থির চার্জ নেই, এমন হলে কোনটি সস্তা তা নির্ভর করে আপনি কত টাকার লেনদেন করছেন তার ওপর। এই লেখায় একটি সহজ নিয়মে “সমান-সমান অঙ্ক” বের করা শিখব, যার একদিকে একটি সস্তা আর অন্যদিকে আরেকটি। মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ ক্যালকুলেটরে দুই সেবার হার পাশাপাশি বসিয়ে মিলিয়ে নিতেও পারবেন।
আগে একটি কথা: “সেবা ক” ও “সেবা খ” কল্পিত, তাদের হারও (১.৫%; ১.২% আর ১০ টাকা) কাল্পনিক। কোনো প্রকৃত প্রতিষ্ঠানের হার নয়। আপনার সেবাগুলোর বর্তমান হার অ্যাপের তালিকা থেকে নিয়ে বসান।
দুটি সেবার উদাহরণ
- সেবা ক: শুধু শতাংশ, ১.৫%।
- সেবা খ: ১.২% সঙ্গে প্রতি লেনদেনে ১০ টাকা স্থির।
প্রথম দেখায় খ-কে সস্তা মনে হয়, কারণ ১.২% কম। কিন্তু ১,০০০ টাকায় ক-তে চার্জ ১৫, আর খ-তে ১২ + ১০ = ২২। অর্থাৎ ছোট অঙ্কে ক সস্তা। আবার ১০,০০০ টাকায় ক-তে ১৫০, খ-তে ১২০ + ১০ = ১৩০, তখন খ সস্তা। কোথায় এসে অবস্থান বদলায়, সেটাই বের করতে হবে।
সমান-সমান অঙ্ক বের করার সূত্র
যে অঙ্কে দুই সেবার চার্জ সমান, সেটি P ধরলে ক-র চার্জ P × ১.৫ ÷ ১০০ আর খ-র চার্জ P × ১.২ ÷ ১০০ + ১০। দুটি সমান করলে:
P × (১.৫ − ১.২) ÷ ১০০ = ১০
অর্থাৎ P = ১০ × ১০০ ÷ ০.৩ = ৩,৩৩৩.৩৩ টাকা। সাধারণ রূপ:
সমান অঙ্ক = (স্থির চার্জের ফারাক) × ১০০ ÷ (হারের ফারাক)
মেলান: ৩,৩৩৩.৩৩ টাকায় ক-র চার্জ ৫০ আর খ-র চার্জ ৪০ + ১০ = ৫০। এর নিচে ক সস্তা, ওপরে খ।
ছক: অঙ্কভেদে কে সস্তা

- ১,০০০ টাকায় ক ১৫, খ ২২: ক সস্তা, ৭ টাকা কম।
- ২,০০০ টাকায় ক ৩০, খ ৩৪: ক সস্তা, ৪ টাকা কম।
- ৫,০০০ টাকায় ক ৭৫, খ ৭০: খ সস্তা, ৫ টাকা কম।
- ১০,০০০ টাকায় ক ১৫০, খ ১৩০: খ সস্তা, ২০ টাকা কম।
- ২০,০০০ টাকায় ক ৩০০, খ ২৫০: খ সস্তা, ৫০ টাকা কম।
সমান-সমান অঙ্কের কাছাকাছি (যেমন ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০) ফারাক এতই কম যে সেবা বাছাইয়ে অন্য বিষয়, যেমন কোন সেবার এজেন্ট কাছে আছে, সেটাই আসল।
আপনার অভ্যাস অনুযায়ী বছরের হিসাব
একক লেনদেনের ফারাক ছোট মনে হলেও বছরে জমে। দুটি অভ্যাস ধরুন:
- মাসে একবার ৫,০০০ টাকা: বছরে ১২ বার। ক-তে ১২ × ৭৫ = ৯০০ টাকা। খ-তে ১২ × ৭০ = ৮৪০ টাকা। খ বাঁচায় ৬০ টাকা।
- সপ্তাহে একবার ১,০০০ টাকা: বছরে ৫২ বার। ক-তে ৫২ × ১৫ = ৭৮০ টাকা। খ-তে ৫২ × ২২ = ১,১৪৪ টাকা। এবার ক বাঁচায় ৩৬৪ টাকা।

অর্থাৎ একই দুটি সেবার মধ্যে বেছে নেওয়া সস্তা সেবা আপনার অভ্যাসের সঙ্গে বদলে যায়। যিনি মাসে একবার বড় অঙ্ক তোলেন তাঁর জন্য খ ভালো, আর যিনি ঘনঘন ছোট অঙ্ক তোলেন তাঁর জন্য ক। আরও ভালো হয় যদি ঘনঘন ছোট অঙ্ক তোলার অভ্যাসটাই বদলে মাসে একবার বা দুবারে তুলতে পারেন: সপ্তাহে ১,০০০ টাকার বদলে মাসে এক-দুইবারে ৪,০০০ টাকা তুললে স্থির চার্জ অনেক কম কাটবে। স্থির চার্জের এই প্রভাব বিস্তারিত আছে স্থির চার্জ ও আসল হারের গাইডে।
তিনটি সেবা হলে
ধরুন আরেকটি কল্পিত সেবা “গ” আছে: ১.০% সঙ্গে ২০ টাকা স্থির। জোড়ায় জোড়ায় সমান-সমান অঙ্ক বের করুন। ক ও গ-র ফারাক: ২০ × ১০০ ÷ ০.৫ = ৪,০০০। খ ও গ-র ফারাক: (২০ − ১০) × ১০০ ÷ (১.২ − ১.০) = ৫,০০০। তিনটির চার্জ পাশাপাশি:
- ৩,০০০ টাকায় ক ৪৫, খ ৪৬, গ ৫০: ক সস্তা।
- ৪,০০০ টাকায় ক ৬০, খ ৫৮, গ ৬০: খ সস্তা।
- ৫,০০০ টাকায় ক ৭৫, খ ৭০, গ ৭০: খ ও গ সমান, ক বেশি।
- ১০,০০০ টাকায় ক ১৫০, খ ১৩০, গ ১২০: গ সস্তা।
- ২০,০০০ টাকায় ক ৩০০, খ ২৫০, গ ২২০: গ সস্তা, ক-র চেয়ে ৮০ টাকা কম।
অর্থাৎ ছোট অঙ্কে ক, মাঝারিতে খ আর বড় অঙ্কে গ সস্তা। যিনি মাসে একবার ২০,০০০ টাকা তোলেন, বছরে ক-তে ৩,৬০০, খ-তে ৩,০০০ আর গ-তে ২,৬৪০ টাকা যায়। ক ও গ-র ফারাক ৯৬০ টাকা, যা অগ্রাহ্য করার মতো নয়। এই কারণে একটিমাত্র সেবায় আটকে না থেকে নিজের সাধারণ অঙ্ক ধরে তুলনা করা লাভজনক।
টুলে তুলনা করার উপায়
- একই পরিমাণ লিখে প্রথম সেবার হার ও স্থির চার্জ বসান, ফল টুকে রাখুন।
- হার ও স্থির চার্জ বদলে দ্বিতীয় সেবার ফল দেখুন।
- পরিমাণ বদলে কয়েকটি অঙ্কে একই কাজ করুন। যে অঙ্কে ক্রম উল্টে যায়, সেই কাছাকাছিই সমান-সমান অঙ্ক।
সাইটের অ্যাডমিন যদি তালিকা বসিয়ে থাকেন, ওপরের “সেবা ও লেনদেনের ধরন” ঘর থেকে সেবা বেছে নিলে হার নিজে বসে যায়, আর তালিকার শেষ হালনাগাদের তারিখও নিচে দেখায়। তালিকা পুরোনো হলে টুল সতর্ক করে।
কেন সমান-সমান অঙ্ক কাজ করে
দুই সেবার চার্জকে অঙ্কের সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে ভাবলে দুটিই সরলরেখা। ক-র রেখাটি মূল বিন্দু থেকে শুরু হয়ে একটু বেশি খাড়া ওঠে, কারণ ওর শতাংশ বেশি। খ-র রেখাটি ১০ টাকা ওপর থেকে শুরু হয়, কিন্তু কম খাড়া। দুটি সরলরেখা একটি বিন্দুতেই মিলিত হয়, এবং সেই বিন্দুই সমান-সমান অঙ্ক। এর আগে যে রেখা নিচে, সে-ই সস্তা, পরে অন্যটি। দুটি রেখা একটির বেশি বিন্দুতে মেলে না বলে ক্রম একবারই উল্টোয়, বারবার নয়। তাই একবার সমান-সমান অঙ্ক বের করে নিলে বাকি সিদ্ধান্ত সহজ: আপনার সাধারণ অঙ্ক তার চেয়ে ছোট না বড়, তা দেখুন।
চার্জ ছাড়া আরও যা ভাবা দরকার
কেবল চার্জ নয়, সেবা বাছাইয়ে দেখবেন তোলার জায়গা কত কাছে, দৈনিক বা মাসিক সীমা, নিরাপত্তা ও গ্রাহক সহায়তা। সবচেয়ে সস্তা সেবা যদি আপনার এলাকায় এজেন্ট না পায়, তার সুবিধা কাজে আসে না। টাকার আরও কয়েকটি হিসাব, যেমন ভ্যাট যোগ-বিয়োগ, দেখতে পারেন ভ্যাট গাইডে।
সীমাবদ্ধতা ও হালনাগাদ: সেবার নাম ও হার কাল্পনিক। সূত্রটি তখনই খাটে যখন একটিতে শতাংশ বেশি আর অন্যটিতে স্থির চার্জ বেশি। যদি একটিতে দুটিই কম হয়, সেটি সব অঙ্কেই সস্তা। কিছু সেবায় অঙ্কের ধাপভেদে হার বদলায়, তখন প্রতিটি ধাপ আলাদা করে হিসাব করতে হবে। হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬।
সাধারণ প্রশ্ন
কম শতাংশের সেবা কি সবসময় সস্তা?
না। স্থির চার্জ থাকলে ছোট অঙ্কে বেশি শতাংশের সেবাও সস্তা হতে পারে।
সমান-সমান অঙ্ক কীভাবে বের করব?
স্থির চার্জের ফারাককে ১০০ দিয়ে গুণ করে হারের ফারাক দিয়ে ভাগ করুন। উদাহরণে ১০ × ১০০ ÷ ০.৩ = ৩,৩৩৩.৩৩।
মাসে ৫,০০০ টাকা তুললে বছরে কত বাঁচবে?
উদাহরণের কাল্পনিক হারে সেবা খ বছরে ৬০ টাকা কম খরচ করে। আপনার প্রকৃত হারে ফল আলাদা হবে।
কোন অঙ্কের পর গ সেবা সবচেয়ে সস্তা হয়?
কাল্পনিক হারে ৫,০০০ টাকার ওপরে গ-ই সবচেয়ে কম চার্জ নেয়, ৫,০০০ টাকায় খ-র সঙ্গে সমান।
তিনটি সেবা তুলনা করা যায়?
যায়। জোড়ায় জোড়ায় তুলনা করুন, অথবা আপনার সাধারণ অঙ্কে প্রতিটির চার্জ আলাদা বের করে সবচেয়ে কমটি বেছে নিন।
