ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) ক্যালকুলেটর

স্বামী/স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা ও সহোদর ভাইবোন থাকলে হানাফি মত অনুযায়ী কে কত ভাগ পান, ভগ্নাংশে ও টাকায় দেখুন।

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ভাগের আগে তিনটি কাজ আসে: দাফন-কাফন ও ঋণ মেটানো, ওসিয়ত (বাকির সর্বোচ্চ ১/৩), তারপর বাকি সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ। এই টুল তৃতীয় ধাপটি হিসাব করে: জীবিত ওয়ারিশদের সংখ্যা দিলে হানাফি মত অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রেণির ও প্রতিজনের ভাগ ভগ্নাংশে দেখায়, সম্পত্তির মূল্য দিলে টাকায়ও। হিসাব আপনার ব্রাউজারেই হয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. জীবিত ওয়ারিশদের সংখ্যা দিন: স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা, সহোদর ভাই ও বোন।
  2. চাইলে মোট সম্পত্তি, দাফন-কাফন ও ঋণ এবং ওসিয়তের অঙ্ক দিন।
  3. প্রত্যেক শ্রেণির ভাগ, প্রতিজনের ভাগ ও কেন সেই ভাগ, তা দেখুন, তারপর আপনার আলেমের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ফারায়েজ কীভাবে হিসাব হয়

সম্পত্তি ভাগের আগে দাফন-কাফন ও ঋণ বাদ যায়, তারপর ওসিয়ত (বাকির সর্বোচ্চ ১/৩)। যা থাকে তা ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হয়। টুল প্রথমে প্রত্যেকের নির্ধারিত অংশ বসায়, তারপর বাকি থাকলে অবশিষ্টভোগীকে দেয়। সব হিসাব ভগ্নাংশে হয়, তাই যোগফল সবসময় ঠিক ১ আসে।

মূল নিয়মগুলো (হানাফি মত)

  • স্বামী: সন্তান থাকলে ১/৪, না থাকলে ১/২। স্ত্রী (একজন বা একাধিক মিলে): সন্তান থাকলে ১/৮, না থাকলে ১/৪।
  • মা: সন্তান বা দুই বা তার বেশি ভাইবোন থাকলে ১/৬, নইলে ১/৩। শুধু স্বামী/স্ত্রী, বাবা ও মা থাকলে মা স্বামী/স্ত্রীর অংশের পর বাকির ১/৩ পান।
  • বাবা: সন্তান থাকলে ১/৬; ছেলে না থাকলে নির্ধারিত অংশের পর বাকিটাও পান। সন্তান না থাকলে অবশিষ্টভোগী।
  • মেয়ে: ছেলে না থাকলে একজন ১/২, দুই বা বেশি মিলে ২/৩। ছেলে থাকলে ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ পান।
  • সহোদর ভাইবোন: ছেলে বা বাবা থাকলে কিছু পান না। সন্তানহীন অবস্থায় একজন বোন ১/২, দুই বা বেশি বোন ২/৩; ভাই থাকলে ভাই বোনের দ্বিগুণ, মেয়ে থাকলে বোন অবশিষ্টভোগী।

হাতে মেলানো উদাহরণ

  • স্ত্রী, মা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী ১/৮, মা ১/৬। বাকি ১ − ৭/২৪ = ১৭/২৪। ছেলে-মেয়ের ভাগ ২ : ২ : ১ (পাঁচ অংশ), তাই প্রতি ছেলে ১৭/৬০, মেয়ে ১৭/১২০। ২৪,০০,০০০ টাকায় ছেলে প্রতিজন ৬,৮০,০০০, মেয়ে ৩,৪০,০০০, স্ত্রী ৩,০০,০০০, মা ৪,০০,০০০।
  • এক মেয়ে ও মা (রাদ্দ)। মেয়ে ১/২, মা ১/৬, যোগ ২/৩; ১/৩ বাকি থাকে, অবশিষ্টভোগী কেউ নেই। তাই ১/২ : ১/৬ = ৩ : ১ অনুপাতে ফেরত যায়: মেয়ে ৩/৪, মা ১/৪।
  • স্বামী, দুই বোন ও মা (আউল)। স্বামী ১/২, বোনেরা ২/৩, মা ১/৬; যোগ ৪/৩। সবাইকে ৩/৪ দিয়ে গুণ করে স্বামী ৩/৮, বোনেরা ১/২, মা ১/৮।
  • স্বামী, বাবা ও মা। স্বামী ১/২। মা বাকি ১/২-এর ১/৩ = ১/৬। বাবা বাকি ১/৩।

সাধারণ ভুল

  • ঋণ ও ওসিয়ত বাদ না দিয়ে সম্পত্তি ভাগ করা।
  • ছেলে বা বাবা থাকতেও ভাইবোনকে ভাগ ধরা।
  • ওসিয়ত বাকির ১/৩-এর বেশি ধরা। এর বেশি হলে ওয়ারিশদের সম্মতি লাগে।

সীমাবদ্ধতা

এটি আনুমানিক হিসাব, ফতোয়া নয়। টুল শুধু স্বামী/স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা, সহোদর ভাই ও বোন ধরে। দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি, বৈমাত্রেয় ভাইবোন, চাচা ও অন্য আত্মীয় থাকলে ফল বদলে যায়। বণ্টনের আগে আলেম বা আইনজীবীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন। জাকাতের হিসাব আলাদা; সেজন্য জাকাত ক্যালকুলেটর দেখুন।

প্রশ্ন ও উত্তর

কোন কোন ওয়ারিশ ধরা হয়?

স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা, সহোদর ভাই ও সহোদর বোন। দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি, বৈমাত্রেয় ভাইবোন, চাচা ও অন্য আত্মীয় এই টুলে নেই।

আউল ও রাদ্দ কী?

নির্ধারিত অংশের যোগফল সম্পত্তির চেয়ে বেশি হলে সবার অংশ আনুপাতিক হারে কমানোকে আউল বলে। নির্ধারিত অংশ দিয়েও সম্পত্তি বাকি থাকলে এবং অবশিষ্টভোগী কেউ না থাকলে তা ফেরত দেওয়াকে রাদ্দ বলে। হানাফি মতে রাদ্দে স্বামী বা স্ত্রী বাদ যান।

ভাইবোন কখন কিছু পান না?

ছেলে বা বাবা থাকলে সহোদর ভাইবোন কিছু পান না। মেয়ে থাকলে ভাইবোন বাদ যান না; বোন তখন মেয়ের সঙ্গে অবশিষ্টভোগী হন।

ওসিয়ত কত পর্যন্ত?

ঋণ ও দাফন-কাফনের পর বাকি সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩। এর বেশি হলে ওয়ারিশদের সম্মতি লাগে, তাই টুল ১/৩-এর বেশি অঙ্ক নেয় না।