বেতন থেকে আয়কর ক্যালকুলেটর

মাসিক বেতন, ভাতা ও বোনাস দিন; চাকরির আয়ের করমুক্ত অংশ বাদ দিয়ে বছরের আয়কর ও মাসে গড় কর দেখুন।

চাকরিজীবীর আয়কর হিসাবের প্রথম ধাপ হলো বছরের মোট বেতন বের করা: মাসিক মূল বেতন ও ভাতার যোগফলকে ১২ দিয়ে গুণ করে বোনাস যোগ করা। তারপর চাকরি থেকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম, করমুক্ত ধরা হয়। বাকি অংশে আয়কর ক্যালকুলেটরের একই স্ল্যাব, করমুক্ত সীমা ও বিনিয়োগ রেয়াত বসিয়ে বছরের কর ও মাসে গড় কর দেখানো হয়। হিসাব আপনার ব্রাউজারেই হয়, কিছু সার্ভারে যায় না।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. মাসিক মূল বেতন ও প্রতিটি ভাতার অঙ্ক এবং বছরে মোট বোনাস লিখুন।
  2. করদাতার ধরন বাছুন, বিনিয়োগ থাকলে তার অঙ্ক এবং উৎসে ইতিমধ্যে কাটা কর দিন।
  3. করমুক্ত অংশ, করযোগ্য আয়, বার্ষিক কর ও মাসে গড় কর দেখুন, তারপর নিজের পে-স্লিপের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

বেতন থেকে আয়কর কীভাবে হিসাব হয়

এই টুল চারটি ধাপে হিসাব করে। এক, মাসিক মূল বেতন ও সব ভাতা যোগ করে ১২ দিয়ে গুণ দেয়, তারপর বছরের বোনাস যোগ করে বার্ষিক মোট বেতন বের করে। দুই, চাকরি থেকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম, করমুক্ত ধরে বাদ দেয়; বাকিটা করযোগ্য আয়। তিন, করযোগ্য আয়ে আয়কর ক্যালকুলেটর (ব্যক্তি)-এর একই স্ল্যাব ও করদাতার ধরন অনুযায়ী করমুক্ত সীমা বসায়। চার, বিনিয়োগ রেয়াত বাদ দিয়ে ন্যূনতম করের সঙ্গে মেলায় এবং ফলকে ১২ দিয়ে ভাগ করে মাসে গড় কর দেখায়।

হাতে মেলানো উদাহরণ

করমুক্ত সীমা ৪,০০,০০০ (সাধারণ করদাতা) ধরে নিচের হিসাব।

  • এক-তৃতীয়াংশ কার্যকর। মাসিক মূল বেতন ৫০,০০০, বাড়িভাড়া ২৫,০০০, চিকিৎসা ৫,০০০, যাতায়াত ৩,০০০ ও বছরে বোনাস ১,০০,০০০ হলে মোট ১২ × ৮৩,০০০ + ১,০০,০০০ = ১০,৯৬,০০০। এক-তৃতীয়াংশ ৩,৬৫,৩৩৩.৩৩ (৫,০০,০০০-এর কম), তাই করযোগ্য আয় ৭,৩০,৬৬৬.৬৭। প্রথম ৪,০০,০০০ করমুক্ত, পরের ৩,০০,০০০-এ ১০% = ৩০,০০০, বাকি ৩০,৬৬৬.৬৭-তে ১৫% = ৪,৬০০। কর ৩৪,৬০০, মাসে গড়ে ২,৮৮৩.৩৩। বিনিয়োগ ২,০০,০০০ থাকলে রেয়াত ২০,০০০ (বিনিয়োগের ১০%), কর ১৪,৬০০।
  • ৫,০০,০০০-এর সীমা কার্যকর। মাসে মোট ২,০০,০০০ হলে বছরে ২৪,০০,০০০। এক-তৃতীয়াংশ ৮,০০,০০০, কিন্তু করমুক্ত ধরা হয় ৫,০০,০০০, তাই করযোগ্য আয় ১৯,০০,০০০। কর ৩০,০০০ + ৬০,০০০ + ১,০০,০০০ + ৭৫,০০০ = ২,৬৫,০০০।
  • করমুক্ত সীমার নিচে। মাসে মোট ৩০,০০০ হলে বছরে ৩,৬০,০০০, করযোগ্য আয় ২,৪০,০০০, যা ৪,০০,০০০-এর কম, তাই কর শূন্য।

সাধারণ ভুল

  • মাসের কর আর বছরের করকে গুলিয়ে ফেলা। এই টুলের \"মাসে গড় কর\" বছরের করের ১২ ভাগের এক ভাগ।
  • বোনাস বাদ দিয়ে ফেলা, অথচ বোনাসও চাকরি থেকে আয়ের অংশ।
  • উৎসে কাটা করকে মোট কর ভাবা। উৎসে কাটা কর অগ্রিম, বছরের শেষে রিটার্নে মিলিয়ে নিতে হয়।
  • করদাতার ধরন না বাছা। নারী, প্রতিবন্ধী ও অন্য শ্রেণির করমুক্ত সীমা আলাদা।

সীমাবদ্ধতা

এটি আনুমানিক হিসাব। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বেতনের বাইরের আয়, নিট সম্পদের সারচার্জ ও আপনার ক্ষেত্রের বিশেষ শর্ত এখানে ধরা হয়নি। প্রতিষ্ঠান মাসে কত কর কাটে তা তাদের নিজস্ব হিসাবে হয়। রিটার্ন জমার আগে এনবিআর-এর সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

প্রশ্ন ও উত্তর

বেতনের কতটা অংশ করমুক্ত?

এই টুলে চাকরি থেকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম, করমুক্ত ধরা হয়। মোট বেতন বেশি হলে ৫,০০,০০০ টাকার সীমাই কার্যকর হয়।

মাসে যে কর কাটা হয় তা কি এর সমান?

নাও হতে পারে। এই টুল বছরের কর ১২ দিয়ে ভাগ করে গড় দেখায়। আপনার প্রতিষ্ঠান কীভাবে ও কত কাটে, তা তাদের হিসাব বিভাগ জানে।

বিনিয়োগ রেয়াত কীভাবে ধরা হয়?

করযোগ্য আয়ের ৩%, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০% ও ৭,৫০,০০০ টাকা, এই তিনের মধ্যে যেটি কম, সেটি স্ল্যাবের কর থেকে বাদ যায়।

নতুন করদাতা বাছলে কী বদলায়?

ন্যূনতম করের অঙ্ক বদলায়। কর হিসাব ন্যূনতম করের কম হলে নতুন করদাতার জন্য ১,০০০ টাকা ও অন্যদের জন্য ৫,০০০ টাকা ধরা হয়।